‘বোন, দরজাটা খুলে দে’, বারবার বললেও খোলেনি স্বপ্না

সিলেট নিউজ টাইমস্ ডেস্ক –

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।  মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন ভুক্তভোগী শিশুটির মা পারভীন আক্তার।

সাক্ষ্যে তিনি আদালতকে বলেন, ঘটনার দিন বাসায় রান্না করছিলেন তিনি। রান্নার শেষ পর্যায়ে এসে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় বড় মেয়ে বলছিল- শিশুটিকে (রামিসা) বাসায় থাকতে, তবে তিনি বুঝতে পারেননি শিশুটি বাইরে গেছে কিনা।

পারভীন আক্তার বলেন, রান্না করার সময় একটি চিৎকার শুনেছিলাম। ভেবেছিলাম পাশের বাসার কোনো শিশু হয়তো চিৎকার করছে। পরে বড় মেয়ে ফিরে এলে আমার মেয়ের খোঁজ করি। সে জানায়, রামিসা তার সঙ্গে যায়নি।

তিনি জানান, এরপর ভবনের নিচতলা, একটি অফিস কক্ষ, ব্যাচেলর বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় পাশের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে মেয়ের একটি জুতা দেখতে পান। তখন তার মনে হয়, আগে শোনা চিৎকারটি হয়তো তার মেয়েরই ছিল।

আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি বারবার স্বপ্নাকে বলেছি- বোন দরজাটা খুলে দে। কিন্তু সে দরজা খোলেনি।

সাক্ষ্যে তিনি আরও বলেন, তিনি ও আশপাশের লোকজন বারবার দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। পরে আরও লোকজন এসে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ফ্ল্যাটের ভেতরে রক্ত দেখতে পান তারা। পরে সেখান থেকে আমার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পারভীন আক্তার আদালতকে জানান, পরে অভিযুক্ত আসামি স্বপ্না আক্তার উপস্থিত লোকজনকে বলেছিল- সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে।

 

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জব্দ তালিকায় থাকা স্বাক্ষর সম্পর্কে জানতে চাইলে পারভীন আক্তার সেটি নিজের বলে শনাক্ত করেন। একই সঙ্গে আদালতে উপস্থিত স্বপ্না আক্তারকে মামলার আসামি হিসেবেও শনাক্ত করেন তিনি।

সাক্ষ্য দেওয়ার একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রামিসার মা। পরে বিচারক ও উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাকে আরও কয়েকটি প্রশ্ন করেন।

এর আগে মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শিশুটির বাবা। বর্তমানে ভুক্তভোগীর বড় বোন শিশু হওয়ায় তার সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় মোট ১৭ সাক্ষী রয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *