সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো কবি ও বাচিকশিল্পী সালেহ আহমদ খসরুর একক কবিতাসন্ধ্যা। সোমবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে সাইক্লোন সিলেটের ৩৪৬তম সাহিত্য আসর উপলক্ষে আয়োজিত এই মনোমুগ্ধকর আয়োজন উপভোগ করেন শ্রোতারা।
শুরুতেই কবিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন কানিজ কেয়া। কবিতা আবৃত্তির শুরুতে কবি ও বাচিকশিল্পী সালেহ আহমদ খসরু স্মরণ করেন জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগ করা শহীদদের। জুলাই আন্দোলনে শহীদ মুগ্ধ স্মরণে কবির লিখিত ‘পানি লাগবে পানি’ কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে কবিতার পরিবেশনা শুরু হয়। একে একে আবৃত্তি করেন ‘একজন বন্ধু খুজি’, ‘যদি আর বাঁশি না বাজে’, ‘এই সমাজ’, ‘কেউ কথা রাখেনি’সহ বহু কবিতা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর সিলেট ব্যুরো প্রধান, মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক গল্পকার সেলিম আউয়াল। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাইক্লোন সিলেটের বিশিষ্ট ভ্রমণকাহিনি লেখক মোয়াজ আফসার এবং সাধারণ সম্পাদক কবি ও প্রভাষক ইশরাক জাহান জেলী।
কবিতার ফাঁকে ফাঁকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. সাজিদুল করিম চৌধুরী, শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার সৈয়দ সলিম মোঃ আব্দুল কাদের, প্রফেসর মোজাম্মেল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের সচিব প্রফেসর চৌধুরী মামুন আকবর, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার জাহিদ, বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের পরিচালক পবিত্র কুমার দাস, সিলেট উইমেন্স চেম্বারের পরিচালক শামা হক চৌধুরী, লেখক খালেদ আকবর চৌধুরী, ডাক্তার আব্দুল মজিদ মিয়া, জাসাস সিলেট মহানগরের সদস্য সচিব রায়হান হোসেন খান, সাইক্লোন সিলেটের সিনিয়র সহ-সভাপতি বেলাল আহমদ চৌধুরী, কবি মুহিত চৌধুরী, কবি ও গবেষক তাবেদার রসুল বকুল, গবেষক ও কবি মুস্তাক চৌধুরী, লুৎফুর রহমান তোফায়েল, এডিশনাল পিপি রাহনামা সাব্বির চৌধুরী, এডিশনাল পিপি ও অভিনেতা আব্দুল মুকিত অপি, রওশন আরা বাঁশী, মুন্নি আক্তার, জাবেদা আহমদ, সৈয়দ রেজাউল হক, শান্তা কামালী, কাওসার আরা, সৈয়দ রেজাউল হক, সাঈদ শাহিন, উজ্জ্বল রঞ্জন চন্দ, আমাতা মাছুমা ও কবির সহধর্মিণী খন্দকার রোমানা আহমদ।
উপস্থিত ছিলেন জোবায়দা বেগম আখিঁ, কামাল আহমদ, রানা আক্তার, আফিয়া সুলতানা, তাহমিনা খাতুন, তাসনিয়া আহমাদ, ফিরোজা আক্তার রুমি, তিতাস দাস, সুয়েজ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ফয়সাল আহমদ মাহদী, মোহাম্মদ মোস্তফা, হুসনা বেগম, সাফা মজুমদার, নাহা মজুমদার, আয়েশা হাসান চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী, রওশন তাইয়্যেবা মুক্তা, বেলাল আহমদ চৌধুরী, জহির চৌধুরী, সুফিয়া আক্তার, ফাহমিদা চৌধুরী, রোমানা আহমদ, জহুর আহমদ, নুসরাত হক, জেসমিন চৌধুরী, রোকসানা বেগম, নিপা দাস, আবুল কাশেম, কানিজ কেয়া, সৈয়দ রেজাউল হক, মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আবু জর, সৈয়দ ইমরান হোসেন, মাহফুজ জোহা, আমির হোসেন সোহাগ, মিলন কান্তি দাস, নাহিদ আহমদ, ফজলুল করিম, এনাম ইলহাম সাদি, জসিম উদ্দিন, জগলুল হক, শাহজাল মিয়া, মোহাম্মদ বুলবুল হোসাইন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কবি ও বাচিকশিল্পী সালেহ আহমদ খসরু অন্যায়ের প্রতিবাদে রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সাহিত্যেও ছিলেন প্রতিবাদী। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, বিদ্রোহ ও সমাজচেতনা সমানভাবে প্রতিফলিত হয়। কণ্ঠের জাদুতে তিনি যেভাবে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন, ঠিক তেমনি শব্দের ভেতরেও তিনি অনন্য। বহুমাত্রিক এই পরিচয় তাঁকে শুধু দৃশ্যমানই করেনি, বরং আঞ্চলিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায়ও প্রতিষ্ঠিত করেছে এক স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে। বক্তারা কবি ও বাচিকশিল্পী বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর লেখনী চালিয়ে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


