আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। এরমধ্যেই বিতর্কিত এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা তাইওয়ানের পাশে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে।
মঙ্গলবার জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কুইজুমি জানিয়েছেন, ২০৩১ সালের আগে তাইওয়ানের নিকটবর্তী পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপ ইয়োনাগুনিতে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য (সারফেস-টু-এয়ার) ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
২০২২ সালে পরিকল্পনাটি ঘোষণার পর এই প্রথম জাপান ইয়োনাগুনি আইল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাল।পরিষ্কার দিনে ইয়োনাগুনি দ্বীপ থেকে তাইওয়ানের উপকূল দেখা যায়। দ্বীপটি তাইওয়ান থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার (৬৮ মাইল) দূরে।
স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে চীন। সম্প্রতি তারা দ্বীপ দেশটিকে নিজেদের অংশে যুক্ত করার কথাও বলেছে। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গেছে যে, সামনে হয়ত চীন জবরদখলও করতে পারে।
জাপান তাই আগেভাগে ব্যবস্থা নিয়ে রাখতে চায়।
গত নভেম্বর থেকে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়, যখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংসদে ইঙ্গিত দেন যে তাইওয়ানের ওপর হামলা হলে জাপান তার আত্মরক্ষা বাহিনী সক্রিয় করতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র তাইওয়ানের ওপর কোনো হামলা হলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত বেঁধে যেতে পারে। যা পরে জাপানসহ অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন মিত্রদেরও জড়িয়ে ফেলতে পারে।
তাকাইচির ওই মন্তব্যের পর চীনের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। বেইজিং নানা উপায়ে চাপ বাড়াতে থাকে—যুদ্ধজাহাজ পাঠানো, বিরল খনিজ রপ্তানি সীমিত করা, চীনা পর্যটন কমানো, কনসার্ট বাতিল করা এবং এমনকি তাদের পান্ডাও ফিরিয়ে নেওয়া।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সময়সীমা ঘোষণা করেন। এর একদিন আগে চীন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ২০টি জাপানি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।


