শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) বেলা ১২ টায় সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নন্দলাল শর্মা।
সাংস্কৃতিক সংগঠক ও শিল্পী প্রদীপ কুমার দে’র সঞ্চালনায় সভার স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট এম.এ. জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. দেবরাজ চৌধুরী।
এছাড়াও স্মরণসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক চঞ্চল রায় শুভ।
সভায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি পরলোকগমনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দেবকে স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্ত্তী জুয়েল , অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. মৃগেন কুমার দাস চৌধুরী, লেখক ও সাহিত্যিক জোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন, ব্যাংকার শ্রী সমরেন্দ্র লাল দেব, তপোধীর দত্ত চৌধুরী এবং প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দেবের সহধর্মিনী নমিতা দেব।
এসময় সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক নন্দলাল শর্মা বলেন, প্রয়াত চিত্তরঞ্জন ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। বর্নিল জীবনে তুখোড় মেধার অধিকারী হয়েও বরেণ্য এই মুক্তিযোদ্ধা ব্যক্তিজীবনে সবসময় সহজ সরল ও সাদামাটা জীবন যাপন করেন।
সভাপতি আরো বলেন, উনার জীবনে সত্যের সাথে কখনো আপস করেননি তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া চিতরঞ্জন দেব দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করে গেছেন অকাতরে।
এসময় অন্যান্য অতিথিরা ও বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রয়ানে সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলেন, চিত্তরঞ্জন দেব সমাজের একটা আলো, যে আলোর কোনো মৃত্যু।
সমাজে শুদ্ধাচার, ইতিবাচকতা ও আলোকিত জীবনের এক আদর্শ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বক্তারা বলেন, হাজারো বাধা বিপত্তি স্বত্তেও সততা আর নিষ্ঠায় কখনো আপস করেননি এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
সভায় বেশ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দেবের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ, শোকবার্তা ও সমবেদনা পত্র তুলে দেওয়া হয়।
এসময় সিলেট বিবেকের পক্ষ থেকে শোকবার্তা তুলে দেওয়া হয় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দেবের পরিবারের কাছে। এছাড়াও প্রয়াতের পরিবারের কাছে একে একে শ্রদ্ধাঞ্জলী পাঠ ও সমবেদনা পত্র তুলে দেন যথাক্রমে শ্রী চৈতন্য গবেষণা কেন্দ্র, উমেশ চন্দ্র নির্মলা বালা ছাত্রাবাস।
সভায় অনেকের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন,অধ্যাপক সর্বানী অর্জুন, মহালয়া উদযাপন পরিষদের সভাপতি জি.ডি.রুমু, উমেশ চন্দ্র নির্মলা বালা ছাত্রাবাসের সহ সভাপতি প্রফেসর অরুন চন্দ্র পাল, পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শখার সংগঠক চন্দন দাশ, কন্যা চয়নিকা দেব, চন্দ্রিকা দেব এবং পুত্র চিন্ময় দেব চয়ন।
সভার শুরুতে বৈদিক স্তোত্র পাঠ, সমবেত জপ ধ্যান ও শোক সংগীত পরিচালনা করেন প্রদীপ কুমার দে।
উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা গত ৯ ফেব্রুয়ারী ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ১ পুত্র ও ২ কন্যা এবং ২ জামাতা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।


