শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঐতিহাসিক মহোৎসব

সিলেট নিউজ টাইমস্ ডেস্কশেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঐতিহাসিক মহোৎসব। আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রসহ সারা দেশের নির্বাচনি এলাকাগুলোতে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। 

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়াবেন, তারা নির্ধারিত সময়ের পরও ভোট দিতে পারবেন; তবে এরপর আর নতুন কাউকে লাইনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলাকালে রাজধানীর এক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে যারা ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, তাদের সবার ভোট নেওয়া হবে। তবে বিকাল ৪টার পর নতুন করে কেউ আর লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, লাইনে থাকা অবস্থায় ৪টা বেজে গেলেও ভোটারদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, কর্তৃপক্ষ সবার ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করবে।

এদিকে রাজধানীর গুলশান-বনানী ও ধানমণ্ডি এলাকার বেশ কয়েকটি কেন্দ্র সরেজমিন পর্যবেক্ষণে নারী ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়, যেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, বেলা ১১টার মধ্যেই অনেক কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে বনানীর ৫১ নম্বর কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫১০টি ভোটের বিপরীতে ৭৯৫টি ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটের ২২ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার দেশের ২৯৯ সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকলেও বাকি আসনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন ২৭৫ জন। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন, ইসলামী আন্দোলন ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন এবং জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন প্রার্থী দিয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের এ বিশাল কর্মযজ্ঞে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন।

নির্বাচনী নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *