ম্যানচেস্টার-সিলেট ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ ফুঁসে উঠছেন প্রবাসীরা, ১৩ জানুয়ারি প্রতিবাদ সভার ঘোষণা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানচেস্টার-সিলেট সরাসরি ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত বিবেচনার খবরে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যে বসবাসরত লক্ষাধিক সিলেটি প্রবাসীর জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ম্যানচেস্টার-সিলেট রুট চালু থাকায় উত্তর ইংল্যান্ডে বসবাসকারী প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি ও স্বল্প সময়ে নিজ মাতৃভূমিতে যাতায়াতের সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। এই রুট বন্ধ হলে প্রবাসীদের লন্ডন কিংবা অন্যান্য ট্রানজিট রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য।
সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে কিছু বাণিজ্যিক স্বার্থ ও একতরফা বিবেচনা প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রবাসীদের বাস্তব প্রয়োজন ও মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা দুঃখজনক।
বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ দাবি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উচিত ছিল প্রবাসীদের কল্যাণ ও যাতায়াত সুবিধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। সংগঠনটি অবিলম্বে ম্যানচেস্টার–সিলেট ফ্লাইট স্থায়ীভাবে চালু রাখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থাপনা, ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি সমন্বয় কিংবা মৌসুমি সূচির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ রুট সচল রাখা সম্ভব বলেও তারা মনে করে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের ন্যায্য দাবি ও যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে, ম্যানচেস্টার–সিলেট ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ (ইচকচ) নর্থ ইংল্যান্ডের উদ্যোগে আগামী ১৩ জানুয়ারি ওবা মিলেনিয়াম ওল্ডহাম সেন্টারে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ। সংগঠনটি সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে উক্ত সভায় উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি আলহাজ আব্দুল বারী এবং সাধারণ সম্পাদক মুস্তাক বাবুল যৌথভাবে আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিজ্ঞপ্তি

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *