সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার ২ এ চলছে কারারক্ষী শরিফুল ও মফিজুল এর রাম রাজত্ব

বিশেষ প্রতিনিধি: অনৈতিক কর্মকান্ড আর নারী দেহলোভী, জেলের অভ্যন্তরে নেশাদ্রব্য বানিজ্যসহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত। লালমনির হাট ও মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার হতে বদলি হয়ে এসে, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার ২ এ রাম রাজত্ব কায়েম করছেন, সর্ব প্রধান কারারক্ষী শরিফুল ইসলাম ও প্রধান কারারক্ষী মফিজুল ইসলাম।

সাপ্তাহিক ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশ করা হচ্ছে প্রথম পর্ব।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কারারক্ষী শরিফুল লালমনিরহাট থেকে সিলেটে বদলির প্রধান কারন হচ্ছে, প্রথম স্ত্রী সন্তান রেখে, অন্য এক মহিলার সাথে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে, তার সাথে আমোদ ফুর্তি করার সময়, এলাকাবাসীর হাতে আটক হন, পরে এলাকাবাসী ঐ মহিলার সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। ঐ মহিলা বিয়ের পরে জানতে পারেন সে শরিফুলের ২য় স্ত্রী।

এদিকে প্রথম স্ত্রী ও তার ছেলে মেয়ে ঘটনা জানার পর, আত্মীয় স্বজনরা মিলে গণধোলাই দেয়, শরিফুলের ঠিকানা হয় হাসপাতালে। হাসপাতাল ভর্তির কারণ ও শরিফুলের ২য় বিয়ের বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়।

জেল কতৃপক্ষ উক্ত ঘটনা এবং লালমনিরহাট কারাগারে ভিতরে গাঁজা সাপ্লাইয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কারনে, শরিফুলের বেতন দশ বছরের জন্য, নিউ স্কেল করে বদলি করা হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার -২ বন্দর বাজার সিলেট।

নিউ স্কেলে বেতন পাওয়ার কারনে প্রথম অবস্থায় প্রথম স্ত্রী আর দ্বিতীয় স্ত্রীর ভরণ পোষনে বৈষম্য দেখা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২য় স্ত্রী সিলেট কেন্দ্রীয় -২ এর কারাগারে দ্বিতীয় তলা ব্যারাকে তাহার রুমে এসে অবস্থান নেয় এবং তাহার রুমে দুই দিন যাবৎ অবস্থান করার পর, ২য় স্ত্রী অফিস উপস্থিত হয়ে এবং তাহার ভরনপোষণের জন্য কতৃপক্ষের কাছে বিচার প্রার্থী হয়। পরে উপরের কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তার ভরন পোষণের কিছু টাকা দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়।

শরিফুল ইসলাম প্রথম সিলেটে এসে কিছুদিন নিরব ছিলো, পরিস্থিতি বুঝতে ও তার নিয়ন্ত্রণ নিতে। প্রথমে শান্ত কারাগারকে অশান্ত করতে বিভিন্ন অসৎ রাস্তা অবলম্বন করে সফলতা পায়। তার পুরানো ব্যবসা শুরু করেন।
সর্বপ্রধান কারারক্ষী শরিফুলে ও অন্য কারাগার থেকে বদলি হয়ে আসা কারারক্ষী সিলেট কারাগারে বদলি হয় আসে, তাদের সাথে একত্র হয়ে গ্রুপ করে, সিলেটের শান্ত কারাগারকে অশান্ত ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যায় এবং ইনকামের রাজ্য বানানো যায়, তার উপায় হিসেবে গাঁজা সাপ্লাই ব্যবসা শুরু করেন। কারাগারে বন্দীদের দেখা সাক্ষাৎ সেটা নিয়ে গোপনীয় বৈঠক করা হয়।

সেই বৈঠকের প্রধান সমন্বয়ক প্রধান কারারক্ষী মফিজুল ইসলাম ১১৭০০, অন্য সমন্বয়ক হলেন, প্রধান কারারক্ষী ১১৯৮০ আবু জাফর,প্রধান কারারক্ষী ১১৬৩৩ মোহাম্মদ শাহিন, কারারক্ষী ১২৫২৯ বিল্লাল হোসেন, কারারক্ষী ১২৮৩১ শফিকুল ইসলাম, কারারক্ষী ১১৯৯৫ মাহমুদুল হক, বৈঠকের সভাপতি সর্বপ্রধান কারারক্ষী শরিফুল ইসলাম।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত, কারাগারের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা তৈরি করা এবং ইনকামের রাজ্য তৈরি করা। যেহেতু সিলেট লন্ডনী ও প্রবাসী এলাকা সেহেতু সিলেট এসে বেতনের টাকা ছাড়া অতিরিক্ত কোন টাকা পাচ্ছে না বলে তাদের দাবী কারারক্ষী মেছে খাবার খেয়ে মাস শেষে ৫০% টাকা দিবে, সেটা নিয়ে কোন প্রতিবাদ করা যাবে না।

দ্বিতীয়ত কারাগারে আটক আসামীদের দেখা সাক্ষাতে তাদের কথামত হতে হবে। তৃতীয়ত আটককৃতদের আত্মীয় স্বজনকে জিন্মি করে, অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে হবে। যা ইতিমধ্যেই তারা সফল হয়েছে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ কারাগারে দেখা করতে আসা মহিলাদের কুপ্রস্তাব দেওয়া। ইতিমধ্যেই অনেক মহিলার সাথে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে, বন্দর বাজারের হোটেল ফয়েজে।

বন্দিদের সাথে সাক্ষাৎ করতে লোকজন যতো বার দেখা করতে আসবে ততবারই তাহাকে টাকা ও সিগারেট দিয়ে সাক্ষাৎ করতে হবে।

প্রধান সমন্বয়ক,
প্রধান কারারক্ষী ১১৭০০ মফিজুল ইসলাম,
সে বদলি হয়ে এসেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে, মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার এ থাকাকালীন মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসামি ভর্তি করে। সেখানে আসামির স্ত্রীর সাথে অনৈতিক মিলনে লিপ্ত হয়ে এবং পরে, অনৈতিক মিলনের কারনে ঐ মহিলার একটা বাচ্চা জন্ম নেয় সেটার ডিএনএ টেষ্টে প্রমাণ পাওয়ার করনে ও কারা অভ্যন্তরে ডিউটি কালীন গাঁজা সাপ্লাই এর কারনে তাকেও বদলি করা হয়। এখন সে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ বন্দর বাজার এসে ও গাঁজা সাপ্লাই ও মহিলাদের সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত আছে, তারাও প্রমান আছে আমাদের হাতে। যা প্রকাশ হবে আগামী পর্বে

তাদের গোপন বৈঠকের সিদ্ধান্ত, সিলেট কারাগারের অভ্যন্তরীণ দাঙ্গা হাঙ্গামা লাগাবে আসামি ও কারারক্ষীদের মাঝে।
এসব বিষয়ে আগামী পর্ব প্রকাশ করা হবে

সিলেট নিউজ টাইমস্ এর প্রতিবেদক, এসব অভিযোগের বিষয়ে সর্বপ্রধান কারারক্ষী শরিফুল ইসলাম এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি আমাদের প্রতিবেদক’কে হুমকি দিয়ে বলেন, এসব নিউজ করলে তিনি দেখে নিবেন। আর প্রধান কারারক্ষী মফিজুল ইসলাম কে একাধিকবার মোবাইল ফোনে করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *