যুগের অন্ধকারে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা ঝিকুট ফাউন্ডেশন

আশরাফ ইকবাল:সময় কখনো দাঁড়িয়ে থাকে না, গড়িয়ে চলে, মাড়িয়ে যায় এবং কালের আবর্তে হারিয়ে যায়। এ হারানো ইতিহাস লেখার জন্য কেউ কাউকে নির্দেশ দেয়নি। আপনা থেকেই লিখতে থাকে চলার কথা, বলার কথা, সুখ-দুঃখ আর কান্না-হাসির কথা। ক্ষুদ্র এ প্রয়াসে সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।

ফুলের যেমন সুরভি, পত্র পল্লবের যেমন শ্যামলিমা, সাগরের যেমন উদারতা, হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা ঝিকুট ফাউন্ডেশনের সুধী, সদস্য, উপদেষ্টামন্ডলী ও পৃষ্ঠপোষকমন্ডলীর জন্য। এছাড়া যারা সময়, শ্রম, মেধা, অর্থ ও তথ্য দিয়ে আমাদের এ উদ্যোগকে সফল করার লক্ষ্যে চেষ্টা করছেন তাদের প্রতি রইলো অনেক অনেক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও দোয়া।

শত চেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের কাজ নির্ভুল হবে তা বলার সাহস রাখি না। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য সবসময় ক্ষমাপ্রার্থী। একতা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণকে মূলমন্ত্র এবং পরিবর্তমান পদযাত্রার স্লোগান নিয়ে ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ব্যতিক্রমী সংগঠন ঝিকুট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করি।

একতা যে কোনো এলাকার উন্নতি লাভের সিঁড়ি। সমাজের উন্নতির শুরুতে একতা আবশ্যিক। একতা ছাড়া সুন্দর, সুশৃঙ্খল সমাজের কথা শুধু কল্পনায়ই থেকে যায়। যেমন পিপীলিকার প্রশংসনীয় গুণগুলো এদেরকে নতুন, সুন্দর ও সাবলীল সমাজ উপহার দিয়েছে। ঝিকুট ফাউন্ডেশন পিপীলিকার আদর্শকেও ধারণা করে।

ঝিকুট অর্থ মেধা, যা মানুষের পরম সম্পদ- কোনো সন্দেহ নেই। জীবন কেবল বুদ্ধি দ্বারাই চলে না। যুগপৎ বুদ্ধির অনুশীলন ও আত্মার পরিচর্যাই মানুষকে প্রকৃত মনুষ্যত্বে পরিণত করে। অনেক জীবকেই আল্লাহ শারীরিকভাবে মানুষের চেয়ে সবল করে পাঠিয়েছেন। অথচ দুর্বল মানব শিশু আবহমানকাল থেকে সভ্যতার আলোকে বৈজ্ঞানিক ও যান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধার বদৌলতে জীবনকে বিকশিত করে গড়ে তুলতে পেরেছে। অর্থাৎ দুর্বল অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য ঝিকুট তথা মেধা বিকাশের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

তরুণরা বুদ্ধির চর্চা করুক, মাথা খাটাক, এটা স্বৈরাচারেরা মোটেও চায় না। মুক্ত চিন্তাকে মনে করে তাদের স্বার্থের পরিপন্থী ও সবচেয়ে বড় শত্রু। আর ক্ষমতার ধর্ম হচ্ছে সব সময় মাথার চেয়ে হাতের উপর, হাতের চেয়ে লগি-বইঠার উপর। জালাল উদ্দীন রুমির ভাষায়- এরা মানুষের কাঁধে বাহিত শবের মতো, আত্মার বিনিময়ে এরা ক্ষমতা লাভ করে গর্ববোধ করে। তথাকথিত শিতল যুদ্ধ এই চিন্তাহীনতার ফল। প্রখ্যাত চিন্তাবীদ আলবার্ট সুইৎজার বলেন, With the spirit of the age I am in complete disagreement, because it is filled with disdain for thinking. মানুষের মত ও বিশ্বাস নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের প্রতি স্থির নেই। দিন দিন, ঘন্টায় ঘন্টায় বদল হচ্ছে। বর্তমান সভ্যতা কোনো গভীর ভাব ও চিন্তার উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। সারাবিশ্বের এই মহা সংকট থেকে বাঁচতে হলে মানব সভ্যতাকে একটি নীতি ও সত্যের উপর দাঁড় করাতে হবে। করতে হবে মুক্ত চিন্তা ও যুক্তির চর্চা।

একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার যে তথ্য জমা রাখে, মানুষের মস্তিষ্ক বা ঝিকুট তার চাইতে ১ লক্ষ গুণ বেশি তথ্য ধারণ করতে সক্ষম। মানব মস্তিষ্ক প্রতি সেকেন্ডে ১ কোটি গানিতিক ক্যালকুলেশন সম্পন্ন করতে সক্ষম। মানুষের ডিএনএ-তে বয়ে বেরাচ্ছে ৫ বিলিয়নের চাইতে বেশি সংখ্যক তথ্য। আর একটি ডিএনএর তথ্য লিখতে ১ বিলিয়ন পৃষ্ঠা লাগবে। যা হয়তো বিশ্বের সবচেয়ে বড় Encyclopedia-র (পৃষ্ঠা – ২৫০০০) চাইতে ৪০ গুণ বড়। আসুন এবার আমরা মেধার বিকাশ ঘটিয়ে দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিতে চাই।

খণ্ডিত দৃষ্টিকোণ না দিয়ে উদার হয়ে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ঝিকুট ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, কর্মসূচির মাধ্যমে সেক্ষেত্রে অবদান রাখতে চাই। যেখানে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার চিন্তাশীলদের আহ্বান জানাই।

লেখক: শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রবন্ধকার ও সংগঠক।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *