বিশিষ্ট লেখক অমলেন্দু ধর-এর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ উপলব্ধি-র প্রকাশনা অনুষ্টান গতকাল শনিবার নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ খান এর সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক কাশ্মীর রেজার পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শরদিন্দু ভট্রাচার্য বলেন, সিলেট সাহিত্য সংস্কৃতির আদর্শস্থান। সিলেটের ইতিহাস ঐতিহ্য ও গৌরবময় অতীত, সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা সর্ম্পকে লেখক অমলেন্দু ধর আত্মজৈবনিক গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সামাজিক, বৈশ্বিক চিন্তা,গণতন্ত্র ও সুশাসন, চ্যালেঞ্জ, মূল্যবোধ, নারীর অধিকার, সামাজিক সমতা বিষয়ে তুলে ধরেছেন। এছাড়াও তিনি সনাতন ধর্ম, ঐতিহ্য, চ্যালেঞ্জ ও সমসামায়িক সময়ে সনাতন সম্প্রদায়কে যে সংকটগুলোর মুখোমুখি হতে হচ্ছে লেখক বিশ্লেষণ করেছেন। সনাতন ধর্মেও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলোকে স্পষ্ট করেছে। লেখক, আইনজীবী অমলেন্দু ধর’র আত্মজৈবনিক গ্রন্থটি ভবিষৎ প্রজন্মকে একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন, সিলেটে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি সাবেক ডেপুটি রেজিস্ট্রার লেখক, গবেষক ও অনুবাদক মিহির কান্তি চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ্, কবি ও প্রাবন্ধিক এ কে শেরাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ ভাস্কর রঞ্জন দাস। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আত্মজৈবনিক গ্রন্থ উপলব্ধি-র লেখক অমলেন্দু ধর, লেখকের সহধর্মিণী শিল্পী রাণী ধর। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) সিলেট জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ অজয় কুমার রায়, বাকবিশিস সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান, দেশে বিদেশে কানাডার সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভূইয়া, দয়ামীর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাব্বির আহমদ, অধ্যাপক আজির হাবিব, শাহজালাল ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, দৈনিক জৈন্তা বার্তার সম্পাদক ফারুক আহমদ। এসময় আর ও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাধব রায়, বিপ্লব নন্দী, সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন ঈশকা, মুজিবুর রহমান জকন, রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান মিলন, এডভোকেট আব্দুল ওদুদ, লেখক মনোজ বিকাশ দেবরায়, রোটারিয়ান নিরেশ রঞ্জন দাশ, অধ্যাপক কানন বালা রায় প্রমুখ।
মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে লেখক মিহির কান্তি চৌধুরী, বলেন, আত্মজৈবনিক বা স্মৃতিকথা কোনো ব্যক্তির জীবনের গল্পমাত্র নয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের ওপর আলোকপাত করে। লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, দুঃখ-বেদনা, আনন্দ-উল্লাস, সংগ্রাম ও সাফল্যের কাহিনি এই সাহিত্যধারার মাধ্যমে পাঠকের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠে। তিনি বলেন, প্রতিকুলতার মুখোমুখি হয়েও কীভাবে একজন মানুষ নিজেকে এবং তার আদর্শকে ধরে রাখতে পারে এই আত্মজৈবনিক গ্রন্থ আমাদের সবার জীবনের একটি প্রতিফলন।
সভাপতির বক্তব্যে কবি কালাম আজাদ বলেন, লেখক অমলেন্দু ধর-এর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ বর্তমান সমাজের বাস্তব রূপ। তার জ্ঞান-প্রজ্ঞা দিয়ে পাশ্চাত্যের শিক্ষা-আমাদের শিক্ষা, শিক্ষকদের অবস্থা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, অমলেন্দু একজন সমাজ বিজ্ঞানী। তিনি স্বাধীনতার উত্তর সমাজের বিবর্তন ও মানবিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, আইন, রাজনীতি, সাহিত্য, সমাজ, ধর্ম কুসংস্কার, ইতিহাস , অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান বিষয়ে তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।
পৃথিবীতে ওমর হয়ে থাকার জন্য কিছু একটা লিখে যান। ইতিহাসে হাত রাখা যায়, পা রাখা যায় না। সমাজের বিজ্ঞানের রেফারেন্স বুক হিসেবে আত্মজৈবনিক গ্রন্থ উপলব্ধি শাবিপ্রবিতে লিপিবদ্ধ করার আহবাবন জানান কবি কালাম আজাদ। -বিজ্ঞপ্তি


