বিশেষ প্রতিনিধি:: আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে থাকা সংক্ষিপ্ত তালিকায় কারা আছেন। কে হবেন নতুন নগর পিতা, কে পাবেন সরকার দলীয় নমিনেশন, সিলেট নগর জুড়ে চলছে কানাঘুষা। গোপন সুত্রের দাবী একডজন মনোয়ন প্রত্যাশী নেতার থেকে দলীয় প্রধানের হাতে চারজনের সংক্ষিপ্ত নামের তালিকা জমা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে একজনকে মনোয়ন দিবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই একজন কে তা নিশ্চিত হতে সময় আছে আরোও দুই সপ্তাহ।আগামী রোজার ঈদের আগে না পরে দলীয় চুড়ান্ত ঘোষনা আসবে। তা জানা যাবে ১২ এপ্রিল মনোয়ন ফরম বিক্রি ও জমাদান শেষে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসীল অনুযায়ী, আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) চতুর্থ নির্বাচন আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ের মধ্যে বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে। সিলেট সিটি নির্বাচন তেমন দুরে না থাকলেও এর মধ্যেই মেয়র পদে প্রার্থীতা নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। সরকার দলীয় এক ডজন প্রার্থী নির্বাচন করার কৌশলগত প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।বর্তমান দুইবারের মেয়র বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এবার তিনি আসন্ন নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হবেন কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। দলীয়ভাবে বিএনপির প্রার্থী দেওয়া হবে কি না এ নিয়েও রয়েছে কৌশলগত নিরবতা। তাই সরকার দলের মধ্যেই চলছে প্রার্থীতা নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বদ্বিতা, তোড়জোড ও প্রচারণা।
সরকার দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন যাবত মাঠে ছিলেন, প্রায় এক ডজন নেতা। এরেই মধ্যে হঠাৎ সরগরম হয়ে উঠে নির্বাচনের মাঠে যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রার্থীতা ঘোষনাকে কেন্দ্র করে।গত জানুয়ারি মাস থেকেই তিনি নগরীর নির্বাচনী মাঠে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।ইতিমধ্যে নগর ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডে। সরকার দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অনুকুলে বাড়ানোর চেষ্টা করছেন জনসম্পৃক্ততা। মসজিদে মসজিদে ও পাড়া মহল্লায় গিয়ে করছেন নামাজ আদায় ও দোয়া কামনা। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানেও বাড়ছে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি।
এখন পর্যন্ত মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে যারা আলোচনায় এসেছেন তারা হলেন- কেন্দ্র্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পিপি এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বালাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিসিকের প্রথম মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পুত্র ডা. আরমান আহমদ শিপলু, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, সাবেক কাউন্সিলর বীর মুক্তিযাদ্ধা আব্দুল খালিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী, বাফুফের কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম।(সেলিম কোনদিন আওয়ামী লীগ করেননি। মুলত তিনি একজন ব্যবসায়ী। ছাত্র জীবনে জামাত শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন বলে সুত্র থেকে জানা যায়।) এবং যুবলীগ নেতা লয়লুছ আহমদ চৌধুরী।
ধারাবাহিকতায় মাঠ ছাড়ছেন না দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীই।
মনোনয়ন প্রত্যাশী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমনটা বলে বেড়ালেও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন এধরণের কোনো নির্দেশনা এখনো দেননি দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে দলীয় ভাবে প্রার্থী চুড়ান্তের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোন নির্দেশনা আসেনি বলে বিবৃতিও দিয়েছেন, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ। নির্বাচনের দিনক্ষণ এগিয়ে আসলে দলের হাইকমান্ড অবশ্যই একজনকে বাছাই করে মনোনয়ন দেবেন। আর এ মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় ডজনখানেক প্রার্থী নিজেদের জানান দিয়ে চলেছেন।
ডজনখানেক প্রার্থী প্রচারণায় মাঠে থাকলেও সংক্ষিপ্ত মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকা এখন দলীয় প্রধানের হাতে । সূত্র দাবী করছে চারজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে দলীয় সভাপতি সিদ্ধান্ত নিবেন। নগরবাসীর চাওয়া পাওয়ার পছন্দের আলোকে, গোয়েন্দা রিপোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত আসবে বলে সূত্র দাবী করেছে। বিভিন্ন সূত্রের মতে ধারানা করা হচ্ছে সংক্ষিপ্ত তালিকায় যাদের নাম আছে তারা হলেন, সিসিকের প্রথম মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আরমান আহমদ শিপলু ।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিসিকের চারবারের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওসমানী নগরের আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
তবে এ চারজনের মধ্যে কামরান পুত্র ডা. আরমান আহমদ শিপলুর নাম এসেছে মুলত ভোটের রাজনীতিতে ফসল ঘরে তোলার জন্য, নগরবাসীর আবেগকে কাজে লাগানোর কৌশল হিসেবে। তাছাড়া শিপলুর আবেগময় বক্তব্য ও কথার যাদুতে মুগ্ধ নগরবাসী। শিপলুর পিতা মেয়র কামরানের মৃত্যুর পর থেকেই একদিনের জন্যও মাঠ ছাড়েননি শিপলু।এছাড়া নগরবাসীর সুদিনে ও দুর্দিনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রয়াত মেয়র কামরানের সরব উপস্থিতি ছিল প্রায় চারদশক ধরে। ছাত্রজীবন ১৯৭৩ সাল থেকেই প্রয়াত মেয়র কামরান ছিলেন একাধারে নগরবাসীর জনপ্রতিনিধি। একাধারে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন নগর বাসীর নির্বাচিত তিন তিনবারের কমিশনার/কাউন্সিলর, বা সিলেট পৌরসভার শেষ চেয়ারম্যান ও সিসিকের প্রথম মেয়র। কামরান ভোটের মাঠে ছিলেন তুমুল জনপ্রিয় । তাই একাধারে তিনবারের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন।তাই নগরবাসীর সেবা ও সরকার দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কামরান পরবিারের বিকল্প নেই মনে করছেন নগরবাসী ও দলীয় নীতি নির্ধারকগন। সেই হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী কামরান পুত্র আরমানকে তার পিতার চেয়ারে দেখতে চান। শিপলু সে আশায় বা সবুজ সংকেতে সবার আগে নমিনেশন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, দলীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাবানদের শীর্ষ পছন্দের মানুষ হিসেব পরিচিত, প্রবাসী রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপুটে নেতা আনোয়রুজ্জামান চৌধুরীর অনেকটা পরিচিতি থাকলে মূলত তিনি নগরের বাইরের বাসিন্দা হওয়াতে জনসমর্থনে অনেকটা পিছিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন। একেই মত নগর আওয়ামীলীগের তৃণমূলের কর্মীদের। দীর্ঘ দুইমাস তিনি তেমন জন সমর্থন আদায় করতে পারেননি। সেটাও দলীয় বিবেচনায় আছে।
২০২০ সালে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে চমক দেখানো নেতা, নগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, পঁচাত্তরের পরবর্তী সময়ের ছাত্রলীগ নেতা অধ্যাপক জাকির হোসেন মাঠে কাজ করছেন দলীয় হাই কমান্ডের সবুজ সংকেতে। তিনি নিজেকে নগরবাসীর আস্থায় নিতে প্রতিদিন সভা সেমিনারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ব্যস্ত আছেন।
সিলেট ১ আসনের সংসদ সদস্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর একান্ত কাছের পছন্দের মানুষ হিসেবে পরিচিত, চারবারের সিসিকের কাউন্সিলর সাবেক ছাত্রলীগ ও যুব লীগ নেতা, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ আছেন চারজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। দলীয় শেষ সিদ্ধান্ত কি হয়। কে হবেন নৌকার মাঝি তা জানতে আরোও দুই সপ্তাহ সময় অপেক্ষা করতে হবে নগরবাসীকে।


