ওসমানীনগর ট্রাজেডি :স্বামী-সন্তানের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে যুক্তরাজ্যে ফিরবেন হোসনে আরা

নিউজ ডেস্ক:: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৫ প্রবাসীর মধ্যে ৩ জন মারা যাওয়ার ২১ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন ময়না তদন্ত রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে আছে ওই পরিবার। স্বামী-সন্তানদের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবেন হোসনে আরা বেগম।

হোসনে আরা বেগমের বরাতে তার চাচাত ভাই গোলাম হোসেন জানান- ‘প্রবাসী পরিবারের বাবা, পুত্র ও কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় ময়না তদন্ত রিপোর্টের দিকেই আমরা তাকিয়ে আছি। ময়নাতদন্ত সহ খাবারের রাসায়নিক প্রতিবেদন এবং জেনারেটরের ধূয়া পরীক্ষার রিপোর্ট আসলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। আমাদের বিশ্বাস আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ঘটনার কারণ নিশ্চয় জানতে পারবেন। এসব রিপোর্টের বিষয়ে আমরা থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি। রিপোর্ট পাওয়ার পর হোসনে আরা বেগম ও বেচে থাকা তার ছেলে সাদিকুল ইসলাম যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবেন।’

জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই উপজেলার তাজপুরে একটি ভাড়া বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় ৫ প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়। তার মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যান। ঘটনার ১১ দিন পর ৫ আগস্ট রাতে মারা যান একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলামও। একই পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হোসনে আরা বেগমও। ছেলে সাদিকুল ইসলামকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে ওই ভাড়াটে বাসায় উঠলেও পরে পিতা আনফর আলীর ধিরারাই গ্রামের বাড়িতে চলে যান তিনি।

সোমবার বিকালে আনফর আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম পুত্রকে নিয়ে কয়েকদিন থেকে ওই বাড়িতেই থাকছেন। তিনি শারীরিক অসুস্থ রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে না চাননি।

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মাইন উদ্দিন মঙ্গলবার বিকালে জানান, ময়নাতদন্ত ও ঘটনার ওই রাতে গ্রহণ করা খাবারের রাসায়নিক প্রতিবেদন এবং জেনারেটরের ধূয়া পরীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব রিপোর্ট পাওয়া যাবে। ঘটনার রহস্য উধঘাটন ও ময়না তদন্তসহ সকল রিপোর্টের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলমান রয়েছে।

থানা পুলিশ ধারণা করছে- ঘটনার রাতে দীর্ঘসময় জেনারেটর চালু থাকায় শ্বাস প্রশ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যান। অচেতন হয়ে পড়েন স্ত্রী ও অপর এক ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলাম। জেনারেটরের ধোঁয়ায় কি ধরণের বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে তা নিশ্চিতে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আলামত পাঠানো হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতে পুলিশ মৃতদের ময়না তদন্ত ও ওই রাতে গ্রহণ করা খাবারের রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে।

এদিকে- ঘটনার পর ওই বাসায় থাকা রফিকুল ইসলামের কয়েকজন স্বজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সন্তোষজনক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। এছাড়া সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাবও এই ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই রফিকুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন। ঢাকায় এক সপ্তাহ থেকে বড় ছেলে সাদিকুলের চিকিৎসা শেষে গত ১৮ জুলাই তাজপুর স্কুল রোডে ৪ তলা বাসার দুতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলামের ৫ সদস্যের পরিবার। ২৫ জুলাই রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেদের নিয়ে বাসার একটি কক্ষে রফিকুল এবং অপর দুটি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও শ্যালকের মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে বাসার অন্যান্য কক্ষে থাকা আত্মীয়রা ডাকাডাকি করে রফিকুলদের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ‘৯৯৯’ নাম্বারে ফোন দেন রফিকুলের শ্যালক দিলওয়ার। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি দল গিয়ে দরজা ভেঙ্গে অচেতন অবস্থায় পাঁচ যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ব্রিটিশ নাগরিক রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রী হোসনে আরা, বড় ছেলে সাদিককুল ইসলাম ও একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলামকে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। রফিকুলের স্ত্রী হোসনে আরা ও ছেলে সাদিককুল সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও দীর্ঘ ১১দিন সজ্ঞাহীন অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে থাকা সামিরা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.