পিকে হালদারের সহযোগী শনাক্তে হাইকোর্টে আবেদন করবে রাষ্ট্রপক্ষ

নিউজ ডেস্ক:: ভারতে গ্রেফতার পি কে হালদারের অর্থপাচার ও বিদেশে পালিয়ে যেতে কারা কারা সহযোগীতা করেছে তাদের চিহ্নিত করতে উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। আগামীকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

শনিবার রাতে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, পিকে হালদার সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা রয়েছে। হাইকোর্টে তার বিরুদ্ধে সুয়োমোটো রুল বিচারাধীন আছে। এ অবস্থায় পি কে হালদার ভারতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এই অর্থপাচার এবং তাকে বিদেশে পালিয়ে যেতে কারা কারা সহযোগীতা করেছেন তা জাতি জানতে চায়। তাই রাষ্ট্রপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিষয়টি উচ্চ আদালতে উপস্থাপন করার।

পাসপোর্ট জব্দে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকার পরও পি কে হালদার কীভাবে দেশ থেকে পালিয়েছে, তা জানতে গত গত বছরের ১৫  ফেব্রুয়ারি আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে পিকে হালদারের দেশত্যাগের সময় বেনাপোল স্থলবন্দরে দায়িত্বরত ৬৭ ইমিগ্রেশন পুলিশের তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

পাশাপাশি দেশ থেকে অর্থ পাচারকালীন ২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্মরত ৩৫৪ জন কর্মকর্তার নাম-ঠিকানাসহ তালিকা জমা দেয় কর্তৃপক্ষ।

ওইদিন দুদক আদালতকে জানায়, পি কে হালদারের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞার চিঠি ইমিগ্রেশন গ্রহণ করেছে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে দশটায়। এমন তথ্য আদালতকে অবহিত করায় এখন প্রশ্ন উঠেছে দুদক এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের তথ্যের সত্যতা নিয়ে। কারণ এর আগে ইমিগ্রেশন জানিয়েছিল, দুদকের চিঠি পাওয়ার দুই ঘন্টা ৯ মিনিট আগেই ওইদিন (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৩টা ৩৮ মিনিটে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান তিনি।

শুনানি শেষে আদালত, পি কে হালদারের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত আকারে জানাতে দুদক ও ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পিকে হালদার নানা কৌশলে নামে- বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ  শেয়ার  কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন এবং এ কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার ‘যোগসাজশ’ ছিল বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়।

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.