নিজস্ব প্রতিবেদক – সুমন ইসলাম:: করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) এর বিস্তাররোধে সারাদেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। লোক সমাগম না থাকায় অনেক খেটে খাওয়া মানুষ হয়ে পড়েছেন বেকার। অনেকের ঘরেই দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। এমন পরিস্থিতিতে বিপন্ন অসহায় খাদ্য সংকটে অনাহার জীবন যাপন করছে, সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার বাদাঘাটস্থ, ৩০ টি বেদে সম্প্রদায় পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাদাঘাট ব্রীজ সংল্গনে খোলা আকাশের নীচে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ভাসমান বস্তি, সেখানে ৩০ টি পরিবারে শিশু, বৃদ্ধসহ,১৫০ জন বসবাস করছেন।

ভাসমান বস্তিটির সর্দার, মোহাম্মদ হোসাইন জানান, আমরা বেদে সম্প্রদায় আমাদের কোন বাড়িঘর নেই, নেই কোন ঠিকানা। আমরা প্রায় দুইমাস থেকে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছি ৩০টি পরিবার, এতদিন আমরা কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করেছি কখনো সাপের খেলা দেখেয়ি, আবার কখনো আমাদের মেয়েরা বাসায় বাসায়,গিয়ে সিংগা লাগাত এতে করে আমরা কস্ট হলে চলতে পেরেছি, কিন্ত করোনা ভাইরাস আসার পর থেকে আমরা প্রায় এখানে বন্দী, বাসা বাড়িতে গেলে কেউ ঢুকতে দেয় না, এই বস্তি থেকেও বের হওয়া নিষেধ, এই অবস্থায় আমরা অনাহারে দিনযাপন করতেছি।
বেদে সদস্য রহিমা জানান, আমার ৩ বছরের বাচ্ছাটা নিয়ে কঠিন বিপদে আছে গতকাল থেকে কোন খাবার দিতে পারি নাই,আমরাও অনাহারে ভুক্তেছি,আর বাসা বাড়িতে সাপেঁর খেলা দেখাতে গেলে মানুষ আমাদের তাড়িয়ে দেয়,বলে করোনা ভাইরাস ছড়াবে আমাদের মাধ্যমে এই অবস্থায় আমরা কিভাবে বেঁচে থাকবো।
তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় এখন পর্যন্ত কেউ তদের এখানে সাহায্য করতে আসে নি, ৬০ বয়সের বৃদ্ধা আমিনা বেগম বলেন, আমাদের ঘর বাড়ি নেই বলে কি আমরা মানুষ না,মানুষ হিসেবে কি আমাদের সাহায্য করা যায় না?
এ বিষয়ে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, নিজাম উদ্দীনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের ইউনিয়নে স্থায়ী কোন বেদে সম্প্রদায় নেই, তাই বেদে’র জন্য আলাদা কোন বরাদ্দ বা ত্রান সামগ্রী আপাতত নেই, যেহেতু তারা কিছুদিন আগে আসছে এখানে অবশ্যই আমি চেষ্টা করবো তাদেরকে সহায়তা করতে।
“ছবি :শরিফ গাজী”


