‘সরকার অসহায় নাগরিকদের বিনামূল্যে আইনী সহায়তা দিচ্ছে’

90 total views, 1 views today

সিলেটে লিগ্যাল এইড বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, সরকার নাগরিকদের বিনামূল্যে আইনী সহায়তা দিচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়, অস্বচ্ছল মানুষের জন্য এ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এতে ভোগান্তি দূর হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সভাকক্ষে জেলা লিগ্যাল এই অফিসের উদ্যোগে ‘উন্নয়নের অগ্রাযাত্রায় আইনি সেবার সাফল্য-প্রচার ও প্রসারে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সিলেট জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান, জেলা ও দায়রা জজ ড. মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা আরও বলেন, এ সেবা সম্পর্কে এখনও অধিকাংশ মানুষ জানে না। জনগণকে সরকারী আইনি সেবা সম্পর্কে জানানোর ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্ব অনেক। সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, সরকার চায় মানুষ এ সেবা সম্পর্কে জানবে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে। কারো দারস্থ হতে হবে না। ফলে জবাবদিহি বাড়বে এবং দুর্নীতি ও অন্যায়-অবিচার রোধ হবে। এভাবে বাংলাদেশকে জনবান্ধব একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, লিগ্যাল এইড জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত একটি সংস্থা। অর্থসংকটে কিংবা ভয়ভীতির কারণে যারা মামলা দায়ের করতে পারেন না, ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অথবা মামলা পরিচালনা করতে অক্ষম তাদের সহায়তা দেওয়া হয়।

যারা আইনি সেবার জন্য আবেদন করেন তাদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ, মামলা দায়েরসহ মামলার পরিচালনায় লিগ্যাল এইড সহযোগিতা করে থাকে। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিরও চেষ্টা করা হয়। এছাড়া প্রি-কেইস মেডিয়েশনের মাধ্যমে মামলা না করেও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ তথা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ ড. গোলাম মর্তুজা মজুমদার বলেন, সরকার চাচ্ছে সবাই যেনো উন্নয়নের মধ্যে থাকে। তারা যেনো আইনি সেবার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পায়। কিন্তু যারা এ সেবা পাবে তাদের বেশিরভাগই লিগ্যাল এইড সম্পর্কে অবগত নয়।

জনবল সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও লিগ্যাল এইড কার্যক্রম জোরদার হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। তবুও গত পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু এখান থেকে সেবা নিয়েছেন। আমরা চাচ্ছি গ্রামের প্রত্যন্ত হতদারিদ্র মানুষ ন্যায় বিচার পাবে। সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।
সিলেট জেলা যুগ্ম জজ তাছলিমা শারমিনের সঞ্চালনায় কর্মশালার আলোচ্য বিষয়ে বিস্তারিত জানান সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাকন দে। বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আহমদ, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু ওবায়দা, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সিলেট জেলা বার আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ লালা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত, জেলার অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এনামুল হক জুবের, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সহকারী জজ শরিফুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক জেড এম শামসুল, সজল ছত্রী, ফয়সল আলম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সিলেট জেলা প্রতিনিধি শুয়াইবুল ইসলাম প্রমুখ।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •