হবিগঞ্জে শহরে মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মীকে পেটালেন ডাঃ পলাশ

116 total views, 5 views today

নিজস্ব প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জ শহরে নিজ প্রতিষ্ঠানের নারী ম্যানেজারকে বেধড়ক পিটিয়েছেন এক চিকিৎসক। সৈয়দা হাফসা জান্নাত নামে নির্যাতনের শিকার ওই নারী এমনই অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায়। এদিকে, এ ঘটনার পর ওই প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে রেখেছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরের কোর্টস্টেশন রোড এলাকার মদিনা কম্পিউটারাইজড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার সৈয়দা হাফসা জান্নাতকে গতকাল শনিবার দুপুরে তুচ্চ বিষয় নিয়ে বেধড়ক পেটান ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক ডাঃ সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশ। এ ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সহকর্মীরা আহত হাফসা জান্নাতকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন।

খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এস আই আবু নাঈমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নির্যাতিতা হাফসা জান্নাতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে রাখেন। সন্ধ্যায় হাফসা জান্নাত বাদি হয়ে ডাঃ সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশকে অভিযুক্ত করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। হাফসা জান্নাত অভিযোগ পত্রে শারিরীক নির্যাতনের পাশাপাশি শ্লীলতাহানীর কথাও উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের ল্যাব টেকনোলজিষ্ট জাহাঙ্গীর আলম রানা সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানেই কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ও তার অপর সহকর্মী (রিসিপসনিস্ট) জেসমিন আক্তার মালিকের নির্যাতনের হাত থেকে হাফসা জান্নাতকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। কিন্তু মালিক ডাঃ মুজিবুর রহমান পলাশ উত্তেজিত হয়ে তাদেরকেও পেটান। তিনি জানান, এর আগেও তুচ্চ বিষয়ে একাধিক বার তাকে (রানাকে) পিটিয়েছেন ডাঃ মুজিবুর। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ সৈয়দ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “সৈয়দা হাফসা জান্নাত সম্পর্কে আমার ফুফাতো বোন। ঘটনার সময় রোগিদের সেবা দিতে সে অবহেলা করলে, আমি তাকে আত্মীয় হিসেবে শাসন করেছি মাত্র”।

নির্যাতিতা সৈয়দা হাফসা জান্নাত জানান, শনিবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানের আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রিন্টারটি নষ্ট হয়ে গেলে রোগীদের সেবা প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হয়। বিষয়টি রোগীরা ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডাঃ সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশকে জানান। খবর পেয়ে তিনি এসে রোগীদের সামনেই হাফসাসহ অন্যান্য কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। এক পর্যায়ে হাফসার গালে থাপ্পর, চুলে ধরে পিঠে কিলঘুষি মারতে থাকেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে (হাফসাকে) রক্ষা করেন।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সহিদুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমাদের একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারী কর্মকর্তা হওয়ায় যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে”। ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ। তদন্তের পূর্বে কোন কিছুই বলা যাচ্ছে না”।

উল্লেখ্য, সৈয়দা হাফসা জান্নাত হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লুকড়া ইউনিয়নের ধল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের কন্যা এবং ডাঃ সৈয়দ মুজিবুর রহমান ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’-এর সহকারী অধ্যাপক।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •