হরিপুরে সংর্ঘষে পুলিশসহ ২শতাধিক আহত: শতরাউন্ড শটগান গুলিসহ কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ

74 total views, 1 views today

সিলেটের জৈন্তাপুরে দুই শিক্ষার্থীর কথা কাটা-কাটির জের ধরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে দেশিয় অস্ত্র-সস্ত্রের আঘাতে কমপক্ষে ২শতাধিক আহত, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের শতাধিক শর্ট গানের গুলি ও কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ঘটনাস্থলে মোতায়ন,বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সমঝেতায় উভয় পক্ষের সম্মতি।

জৈন্তাপুর উপজেলা হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৯সনের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা আয়োজনের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের হল রুমে আলোচনা সভা আহবান করে শিক্ষার্থীরা। এসময় ১০ম শ্রেনীর ছাত্র বালিপাড়া গ্রামের আরিফ এবং হাউদপাড়া গ্রামের ছাত্র জামাল এর বক্তব্যের জের ধরে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এনএসপি নিয়োগকৃত শিক্ষক ইয়াকুব আলী উস্কানীমূলক বক্তব্য দিলে ছাত্রদের মধ্যে সংর্ঘষের শুরু হয়। পরক্ষনে বিষয়টি বালিপাড়া ও হাউদপাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে স্কুলে মারামারির সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষনিক ভাবে বিষয়টি নিয়ে দুটি অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে একটি পক্ষ বালিপাড়া, হরিপুর,শিকার খা, তিনপাড়া অপর পক্ষ হাউদপাড়া, ভেলুপাড়া, মাঝপাড়া ও জুয়াইরটুক এলকাবাসী হরিপুর বাজারে অবস্থান নেয় এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ সকাল ১১টা হতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে। এঘটনায় পুলিশ সহ উভয় পক্ষের অন্তত ২শতাধিক লোক আহত হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিতে পুলিশ শতাধিক শর্টগান গুলি ও কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ করে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের সহযোগিতায় ১৭পরগনার সালিশ ব্যক্তিগন উভয় পক্ষের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসলে উভয় পক্ষে সাথে পৃথক পৃথক বৈঠক শেষে এলাকায় শন্তি ফিরে আসে।

প্রায় ৫ঘন্টা পর সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং উভয় পক্ষের লোকজন বাজার এলাকা ত্যাগ করে নিজ নিজ বাড়ীতে ফিরে যায়। সমঝোতা বৈঠকের জন্য আগামী রবিবার বৈঠকের দিন নির্ধারন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হরিপুর বাজারে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়ন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন- হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানোজিং কমিটির সভাপতি আলা উদ্দিন, ছালাম মিয়া, ফখরুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, হারুন আহমদ, এনাম আহমদ, জালাল উদ্দিন, আশিকুর রহমান, সাহাবউদ্দিন, কবির আহমদ, আব্দুল খালিক, মোঃ জাকারিয়া, কিবরিয়া, কামাল উদ্দিন, কালা মিয়া, সাহাব উদ্দিন, ময়নুদ্দিন, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ ময়নুল জাকির, অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) আনোয়ার জাহিদ, এস আই সুজন, এএসআই রায়হান অন্যান্যদের নাম জানাযায়নি।

সালিশ ব্যক্তিত্বরা হলেন- হরিপুর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ইউছুফ, মুহতামিম হিলাল আহমদ, আব্দুল কাদির খাঁন, উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বাবর, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, রহমত উল্লাহ মৌলভী, সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য মুহিবুল হক মুুহিব, দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, ফতেপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাহির, রফিক আহমদ, কুতুব শিকদার, মুহিবুর রহমাম মেম, হানিফ মোহাম্মদ, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মালিক, আব্দুল্লাহ মাষ্টার, মুফতি জিল্লুর রহমান।

আইন শৃংঙ্খলার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ মাইনুল জাকির, অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার জহিদ, এছাড়া ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষন করেন কানাইঘাট সার্কেল সিনিয়র এএসপি আমিনুর রশিদ, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিম, সহকারি কমিশনার(ভূমি) মুনতাসির হাসান পলাশ।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •