হবিগঞ্জে সুনামধন্য শচীন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

40 total views, 1 views today

” শিক্ষিত হতে গিয়ে দুর্নীতির শিক্ষা পাচ্ছে বাংলার ভবিষ্যতের যুব-সমাজ”

আজিজুল ইসলাম সজীব:: শচীন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ফরাশ উদ্দিন শরীফির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহতসহ অস্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করলেও কোন শিক্ষক কর্মচারী প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

সূত্রে প্রকাশ, শচীন্দ্র কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পেয়ে থাকলেও কলেজের অভ্যন্তরীণ ফান্ড মারাত্মক সংকটে রয়েছে। ফলে বিগত এক বছর শিক্ষক – অফিস সহকারী এমন কি পিয়ন-ঝাড়ুদার পর্যন্ত বাদ পরেনি।

সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের ১০% টাকা কলেজ ফান্ড থেকে দেওয়া কথা হলেও কাজের বেলায় শুন্য। গভর্নিংবডির সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলেও ঘাটতির কারণ অনুসন্ধান না করে শিক্ষক-কর্মচারীর আর্থিক সুবিধাগুলো হ্রাস এমনকি কয়েকটি ক্ষেত্রে বন্ধ করে দেয়ার জন্য অধ্যক্ষ এস কে ফরাস উদ্দিন আহমেদ শরীফীকে পরামর্শ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরও অধ্যক্ষ ফরাস উদ্দিন অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিজের জন্য দুটো উৎসব ভাতা ১০০% হারে উত্তোলন করেছেন।

অত্র কলেজের সমাজ বিজ্ঞানের সহকারি অধ্যাপক দেবল কুমার চৌধুরী দুই বছর ধরে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। অধ্যাপক দেবল কুমার চৌধুরী ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে কানাডায় সপরিবারে ইমিগ্রেশন ভিসা নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। অথচ অধ্যক্ষ ফরাস উদ্দিন দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেবল চৌধুরীর প্রায় ১৭ মাসের বেতন ভাতাদি প্রদান করেছেন। অত্র কলেজ তহবিল ও জনতা ব্যাংক, হবিগঞ্জ প্রধান শাখার ইনডেক্স নং- ৬১৩৭০৮, একাউন্ট নং-১০০৮৩-৬ এর প্রমান।

এতে ৭ লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি কলেজ গভর্ণিং বডিঅবহিত হলেও কৌশলে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে।

২০১৬ সালের মার্চ মাসে মন্ত্রণালয় প্রেরিত অডিট কমিটি অত্র কলেজে আর্থিক বিষয়াদি অডিট করে আয়-ব্যয়ের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অসঙ্গতি ও অনিয়ম খুঁজে পায়। এটি ধামাচাপা দিতে কৌশল অবলম্বন করা হয়। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে সংশিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় অডিট আসলে একই কৌশলে তাও ধামাচাপা দেয়া হয় বলে সূত্র জানায়। সরকারি অডিট প্রতিবেদন কলেজে প্রেরণ করা হলেও অধ্যক্ষ তা গভর্নিংবডির কোন সভাতেই প্রতিবেদনগুলো উপস্থাপন করেন নি।

এমপিওভুক্ত প্রতিটি কলেজে প্রতিবছরই কলেজ পরিচালনার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ আর্থিক বাজেট প্রণয়ন করে গভনিংবডির সভায় অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়।

কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে কোন প্রকার আর্থিক বাজেট প্রণয়ন করা হয়নি বলে জানা গেছে। সূত্র মতে কলেজে ২০১২ সালে তিনটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়েছিল। ২০১৫ সালে আরও ৪টি বিষয়ে অনার্স খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ওই সিদ্ধান্ত হিমাগারে থাকায় অনার্স খোলার বিষয়টি আজও আলোর মুখ দেখেনি। সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ ফরাশ উদ্দিনের চাকরীর মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার জন্য তাকে ৩ মাসের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন অজুহাত ও কারণ দেখিয়ে ৮মাস অতিক্রম করে এখনও তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
কলেজ গভর্নিংবডিতেও গত ২ বছর ধরে কোন শিক্ষক প্রতিনিধি নেই। শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির কারণে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৬ সনের জুন থেকে ২০১৮ সনের জুন পর্যন্ত দুই বছর গভর্নিং বডিতে শিক্ষক প্রতিনিধি দেন নি বা কেউ প্রয়োজনই নাই মনে করে।

বিগত গভর্নিং বডির মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। সময় মত প্রক্রিয়া গ্রহণ না করায় ২ মাস কলেজটিতে কোন গভর্ণিয় বডি ছিল না। অথচ অধ্যক্ষ ফরাসউদ্দিন সময় মত পদক্ষেপ গ্রহন করলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

অধ্যক্ষের এরূপ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় অবগত হওয়া সত্ত্বেও, অবাক হওয়ার বড় ভয়াবহ হচ্ছে জেনেও মিথ্যা কথা আমরা সবাই মিলেই বলে চলছি। কেউ কোনো প্রকার প্রতিবাদ ও করে না। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে কেউই জানেন না।

এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কলেজটিতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার দাবী সুশীল সমাজের।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share