“সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ এ রদবদলের গুঞ্জন এখন টক অব দ্য টাউন”

115 total views, 1 views today

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ এ রদবদলের গুঞ্জন এখন রীতিমত টক অব দ্য টাউন। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে মহানগর নেতা পর্যন্ত এই গুঞ্জনে বিব্রত এবং শংকিত। কার পদ কখন চলে যায় তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব নিকাশ।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় কোন্দল, নৌকা প্রতীক বা বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরাজয়ের অন্যতম কারন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড। তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধতা থাকার পরও আওয়ামী লীগ এর এই পরাজয় দলের হাইকমান্ডকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই আগামী সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে মহানগর আওয়ামী লীগ কে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং খুব শীগ্রই রদবদলের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে সুত্র নিশ্চিত করেছে ।

মহানগর আওয়ামী লীগ এর বর্তমান সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান একই সাথে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ায় তাকে কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবেই থাকতে হতে পারে, রদবদলের প্রক্রিয়ায় কামরান যদি কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে যান বা দলীয় সিদ্ধান্তে আগামী সংসদ নির্বাচনে সিলেট ১ আসন থেকে প্রার্থী হন তবে বর্তমান সাধারন সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ হতে পারেন মহানগর আওয়ামী লীগ এর আগামী দিনের সভাপতি।

সিলেট সিটি নির্বাচনে বর্তমান সাধারন সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের নীরব বিরোধিতা কামরানের পরাজয় একটা কারন বলে মনে করেন কামরান অনুসারী নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি আসাদ অনুসারী নেতাকর্মীরা পরাজয়ের জন্য কামরানকেই দোষারোপ করছেন। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহানগর আওয়ামী লীগ স্পষ্টত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই বিরোধই রদবদল প্রক্রিয়াকে ত্ববান্বিত করছে।

সাধারন সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, বিজিত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ এর নাম শুনা যাচ্ছে। তবে শফিউল আলম নাদেল আগামী সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া আসনের প্রার্থী হওয়ায় সাধারন সম্পাদক পদ প্রাপ্তিতে জটিলতা তৈরী হয়েছে। বর্তমান দুই যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওর ও বিজিত চৌধুরী’র বিগত দিনের কর্মও এক্ষেত্রে মূল্যায়িত হতে পারে। তবে ফয়জুল আনোয়ার আলাওর এবং বিজিত চৌধুরী অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন, সাবেক এই দুই ছাত্রনেতা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে অনেকটাই গ্রহনযোগ্য। ফলে আলাওর ও বিজিত এর মধ্যে থেকে যেকোন একজন সাধারন সম্পাদক হিসেবে চলে আসতে পারেন। এছাড়া আজাদুর রহমান আজাদ সিটি কাউন্সিলর হওয়ায় এবং টিলাগড় কেন্দ্রিক শক্ত অবস্থান থাকায় সাধারন সম্পাদকের দৌড়ে ঠিকে আছেন, পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক ইমেজ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের তৃণমূল আওয়ামী লীগ এর সাথে সম্পৃক্ততার কারনে প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী ও বেশ শক্ত অবস্থান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে নেতৃত্ব বাছাইয়ে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি, ত্যাগ, পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব এবং তৃণমুলের সাথে সম্পৃক্তদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে বলে সুত্র আভাস দিয়েছে। সেই ক্ষেত্রে টেন্ডারবাজ, জমি দখলবাজ এবং বিতর্কিত নেতারা নেতৃত্ব নির্বাচনে বাদ পড়তে পারেন এমনটাই সুত্র নিশ্চিত করেছে।

বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা রদবদলের এই প্রক্রিয়াকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, তারা মনে করেন নেতৃত্বে পরিবর্তনের সময় এসেছে, সুবিধাবাদী নেতাদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও স্বচ্ছ নেতাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পেলেই মহানগর আওয়ামী লীগ উজ্জীবিত হবে।

দলীয় হাইকমান্ড বিশেষ টিমের মাধ্যমে নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডের তৃণমুল আওয়ামী লীগ এর সাথে কথা বলে তাদের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনে কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলেও কোন কোন নেতা নিশ্চিত করেছেন, আবার অনেক নেতা এসব বিষয় গুঞ্জন বলেও উড়িয়ে দিচ্ছেন।

তবে তারুণ্য নির্ভর, পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী নেতারা আগামী দিনের মহানগর আওয়ামী লীগ এর দায়িত্বে আসছেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত বলা যায় ।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  • 33
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    33
    Shares