সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

হবিগঞ্জে প্রধান শিক্ষিকার অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও হত্যক্ষপ কামনা

46 total views, 1 views today

আজিজুল ইসলাম সজীব:: হবিগঞ্জের বাহুবলে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় অভিভাবকরা।

সোমবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এক সভায় এক মাসের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ সময়কালের মধ্যে প্রতিকার না হলে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটি ও বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি কৌশিক ধর-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সদস্য রনজিত দত্ত, চয়ন দেব, আব্দুল আহাদ, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সুভাষ ধর, ফিরোজ আলী, সবর উদ্দিন, সমীরণ দেব, অজিত রায়, প্রদীপ দেব ও সুনীল সরকারসহ প্রায় অর্ধশত অভিভাবক। উক্ত সভার রেজ্যুলেশনের কপি স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, উপজেলার লামাতাসী ইউনিয়নের অন্তর্গত রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনারা খাতুনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত ১৬ জুলাই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কৌশিক ধরসহ প্রায় অর্ধশত লোকের যৌথ স্বাক্ষরে একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দাখিল করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক মিনারা খাতুন নিজের খেয়াল খুশিমত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে থাকেন। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে অফিসিয়াল কাজের অযুহাত দেখান।

তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্কাউট ফিস আদায় করে তা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেন। বিদ্যালয়ে তিনি স্কাউটের কোন কার্যক্রম পরিচালনা করেন না।

অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ২০০৯-১০ অর্থ বছর থেকে শুরু হওয়া স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) কার্যক্রম সম্পর্কে ম্যানিজিং কমিটি কিংবা অভিভাবকদের অবগত করা হয়নি। বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি স্লিপ গ্র্যান্টের অর্থ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করে কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ম থাকলেও তিনি একাই কার্যক্রম সম্পাদন করছেন। অর্থ উত্তোলন ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিয়ে সভাপতিগণ কিছুই জানেন না; এমকি স্বাক্ষরও করেননি বলে দাবি করা হয়। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন দেব ইতোপূর্বে সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে, অনুরূপ আরো একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সুভাষ ধর। তিনিও তার অভিযোগপত্রে স্লিপ গ্র্যান্টের অর্থ উত্তোলন ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিষয়ে অবগত নন এবং কোন চেকে স্বাক্ষর দেননি বলে দাবি করেছেন।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কৌশিক ধর বলেন, এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও আমাদের অভিযোগের কোন প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ দেখছি না। উল্টো প্রধান শিক্ষিকা মিনারা খাতুন ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপটের সাথে চলছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনারা খাতুন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়। বিধি-বিধান মেনেই আমি কার্যক্রম পরিচালনা করেছি, করছি। আমার কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিতে ব্যর্থ হয়ে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জসীম উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। দু’একদিনের মধ্যেই রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন