হবিগঞ্জের ১৯৫০-৬০ দশকের মাঝামাঝি ঐতিহ্যবাহী পাল বাড়িটি আজ নিঃসঙ্গ: দেখার যেন কেউ নেই

35 total views, 1 views today

আজিজুল ইসলাম সজীব:: হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলায় একসময় কোলাহল আর চঞ্চলতায় ভরে থাকতো বাড়িটি। মানুষের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে থাকত প্রতিটিক্ষণ।

একদল গেলে পরক্ষণেই প্রাসাদভবনটিতে এসে হাজির হতো আরেক দল। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ সেই ভবনটি চিরস্তব্ধ। স্থবিরতা আর জীর্ণতা ভর করেছে দালানের সমস্ত অবয়বে। ভেঙ্গে গেছে এর ছাদ। বৃষ্টির পানি দখল করে নিয়েছে প্রাসাদের মেঝে। ঘরের ভেতর আপনা থেকেই জন্মেছে আগাছার জঙ্গল।

কথা হচ্ছে, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের একসময়ের ধনাঢ্য পরিবারের পালবাড়ির। এর ১২টি রুমে বর্তমানে বিরাজ করে পিনপতন নীরবতা। ঐতিহ্যপূর্ণ এ বাড়িটির আলোকচিত্র ধারণ করতে দেখে এগিয়ে আসেন জুয়েল পাল নামের এক যুবক। তিনি পেশায় মৃৎশিল্পী।

তিনি বলেন,“এই বাড়িটি আমার দাদুর (দাদা) বাবার সময়কার। তার নাম ছিল রমণ পাল। তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। সময়ের হিসেবে এটি ১৯৫০-৬০ দশকের কথা। ”স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, “প্রায় ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আগ পর্যন্ত এই প্রাসাদটি ভালোই ছিল। এতদিন পরিত্যক্ত থাকলেও এখনও প্রচণ্ড শক্ত চুন-সুরকির এই দালানটি। বাবার মুখে শুনেছি, তার দাদা রমণ পালের ব্যবসায়িক অবস্থা বেশ ভালো ছিল। তৎকালীন সময়ে প্রতিদিন প্রচুর মানুষদের সমাগম ঘটতো বাড়িতে।”

পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে জুয়েল বলেন, “এ দালানে এখন কেউ থাকে না। আমরাও নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করি। আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে এ বাড়িটিকে এখনও আঁকড়ে রয়েছি।”

এই বাড়িটি মেরামত করতে যত টাকা প্রয়োজন তা দিয়ে নতুন একটি বাড়ি অনায়াসে তৈরি করা যায়। ফলে পরিবারের কেউই আর এই বাড়িটি নতুন করে মেরামত বা পুনঃসংস্কার করতে আগ্রহী নয় বলে জানান জুয়েল।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares