“পরস্পর”

476 total views, 1 views today

“নিলয় গোস্বামী”

************************

বৃষ্টি ভীষণ নটখট,

সে এলেই যত ঝামেলা।

প্রথমেই নকশি কাঁথারা পরস্পর বিপত্তিহীন সমাধি চায়।

ভাজা সীমের বীচি,
ভেজা চুলের গন্ধ,

চিবুকের নেশা আর হাওয়ার পেয়ালা
সব মিলিয়ে ভুল বানানের শারীরিক তর্জমা…

সব ভিজিয়ে যায়।
বৃষ্টিদল এমনই হয়।

জোনাকির ভেজা মন খুলে ছুঁতে চায় রাতের বিবস্ত্র আঙুল।

ভেজা ঘাসজল চুপ করে তাকিয়ে থাকে।
দস্যু ব্যাঙেরা মিছিল দেয় বর্ষণ বর্ষণ বলে।

দূরের মাঠ থেকে একগুঁয়ে শব্দরা ভেসে আসে আমাদের কানে।

আমরা শুরু করি একটি গুণী সাপের খোলস বিদ্যার রহস্য পাঠ।

শ্বাসের উষ্ণ করলমে লিখে যাই দীর্ঘ কবিতা।
সুপ্রাচীন নিয়মে যতিচিহ্নের ইতি টানি।

সে দাড়ি দিতে চায় :
বেশ হয়েছে,
আর না,শত অজুহাতের আদলে।

আমি সেমিকোলনেই দাঁড়িয়ে থাকি।
আমি তাকে বোঝাতে চেষ্টা করি-
তৃপ্তির কোনো শেষ হয়না,
সুখের কোনো দাড়ি থাকতে পারেনা;যা হয় সেটা শুধু সেমিকোলন।

অরুণিমা কেমিস্ট্রির গভীর জ্ঞান রাখেনা;
এতেই যত ঝামেলা।
কোনোরকমে পাশ মার্ক্স পেলেই সে মহা খুশি।

আমার যত জ্বালা, পাহাড় আঁকতে গিয়ে এঁকে ফেলি গিরিখাত।
গহীন আমাকে আরও গহীনে টানে;
ভালোবাসার হলুদ আগুন পুড়িয়ে দিতে চায় সব।

সামান্য স্মৃতিরা
ভেজা হৃদপিণ্ড খুঁজতে থাকে অনবরত।
জলপাই রঙের ভোরকে লুকিয়ে রাখে গুপ্ত ধনের নিয়মে।

অতঃপর দিনের শুরু।
অভিমানী রোদের আলপনা।
আবার অপেক্ষা,
আবার ভুল বানানের অন্য তর্জমা,

আবার সৃষ্টির উল্লাস বিলিয়ে যাই অজানার আঁচলে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •