হবিগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার মামলা 

71 total views, 1 views today

।।মামলার বিবরণে ও আদালতে ১৬৪ জবানবন্দী ।।
আজিজুল ইসলাম সজীব:: হবিগঞ্জ জেলার নবীগজ্ঞ উপজেলার কুর্শি ইউপির এনাতাবাদ গ্রামের বাসিন্দা বাংলাবাজার সৈয়দ আজিজ হাবিব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে আক্রোশ মেটাতে আপন ভাইকে ফাঁসাতে গিয়ে মিথ্যা ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ব্যাপারে জানতে  সরেজমিন ঘটনাস্থলে গেলে মিলে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানাযায়, বিগত কয়েক বছর ধরে উল্লেখিত গ্রামের রুনু মিয়ার পুত্র সেলিম আহমেদ ও শাহিন আহমেদ এবং ইকবাল হোসেন ও ২ কন্যা জোনাকী সুলতানা ও লিপি বেগমের মধ্যে জায়গা সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল।
এরইমধ্যে সেলিম প্রায় ৯ বছর ও শাহিন প্রায় ৬ বছর ধরে কুয়েতে বসবাস করে আসছেন এবং তাদের ছোট ভাই মাদ্রাসা শিক্ষক ইকবালকে বাড়ি-ঘর দেখবাল করার জন্য দেশেই থাকার পরামর্শ দেন তারা। শাহিন কুয়েতে ব্যবসা করার জন্য ইকবালকে দিয়ে ব্যাংক থেকে লোন এর মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে নিজেই পকেটস্থ করেন। এরপর সেলিম ও শাহিন বিয়ে করে তারা আলাদা হয়ে যায়। বিয়ের পর থেকে তারা ইকবালকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পায়তারা করেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সম্প্রতি সেলিম আহমেদ কুয়েত থেকে দেশে আসলে বিরোধ চরম আকার ধারন করে। সেলিম একর পর এক মামলা মোকদ্দমা শুরু করে।
অভিযোগ উঠেছে, তাদের পাশের বাড়ির জনৈকা স্কুল ছাত্রীকে বাদি করে ইকবাল হোসেনের উপর ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ তুলে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলার এজাহার ও এ প্রতিবেদককে দেয়া মামলার বাদী এবং ভিকটিমের বক্তব্যে কোন মিল নেই। বিশেষ করে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে ওই ছাত্রী স্কুল ছুটির পর বাড়ীর উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে ৪ টা ১৫ মিনিটে ইকবাল ও রাজু ওই ছাত্রীকে জোড়পূর্বক মুখে চাপিয়া ধরিয়া টানা হেছড়া করিয়া বসত ঘরে নিয়া ধর্ষণের চেষ্টা করে।
 কিন্তু সরেজমিনে গেলে প্রতিবেশিরা জানান, ওই দিন এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। এমনকি ভিকটিম ও ভিকটিমের পিতা আবুল কালাম এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, সে স্কুল থেকে বাড়িতে আসার পর স্কুল ড্রেস পরিবর্তন করে সাড়ে ৪ টার পরে ইকবালের বাড়ির পাশে হাঁস আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, ইকবালের পাশের ঘরেই থাকেন সেলিম ও তার পরিবার। এ বিষয়ে সেলিম আহমেদের স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার রিতার সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ইকবালের পাশের ঘরেই তারা থাকেন। ঘটনার সময় তিনি রুমের ভিতরে ছিলেন তাই কোন কিছু দেখেননি। শুধু শুনেছেন।
অথচ ভিকটিমের পিতা আবুল কালাম কথাবার্তার এক পর্যায়ে জানান, তার পাশের ঘরের প্রবাসী সেলিমই তার ভাই ইকবালের বিরুদ্ধে মামলাটি করিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এছাড়া মেয়েটির বয়সও কম। তদন্ত চলছে। গতকাল সোমবার ভিকটিম ম্যাজিট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •