আজ রবীন্দ্রনাথের ৭৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

76 total views, 1 views today

নিউজ ডেস্ক::
আজ সোমবার বাইশে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

বাংলাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (বাংলা-পঁচিশে বৈশাখ-১২৬৮) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ১৩৪৮ সালের বাইশে শ্রাবণ (ইংরেজী ৭ আগস্ট-১৯৪১) কলকাতায় পৈত্রিক বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী-গল্পকার। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ববোধিনী’ পত্রিকায় তার প্রথম লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়। অসাধারণ সৃষ্টিশীল লেখক ও সাহিত্যিক হিসেবে সমসাময়িক বিশ্বে তিনি খ্যাতিলাভ করেন। লিখেছেন বাংলা ও ইংরেজী ভাষায়। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম অনুদিত হয়েছে।

কালজয়ী সাহিত্যের মাধ্যমে আজও তিনি বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছেন স্বমহিমায়। এখনো সবার কাছে প্রেরণার এক অন্তহীন নাম রবীন্দ্রনাথ।

এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী এই বাঙালি কবি সাহিত্যিক, চিত্রকার, সুরকার, গীতিকার, দার্শনিক এমন নানা গুণে গুণান্বিত ছিলেন।

এমন ঘনঘোর বরিষায় বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল কিংবা বসন্তের আগমনী বার্তায় সবার আগে যে নামটি মনে আসে তিনি হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলার ঋতু প্রকৃতি আর গ্রামীণ সৌন্দর্যকে সার্থকভাবে কাব্য, গীতির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।
বাঙালি সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব সুদূর প্রসারী। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে কবিগুরুর ছোঁয়া লাগেনি। জীবন চলার পথের সব অনুভূতিকে বৈচিত্র্যময় ভাষা আর শব্দের মাধ্যমে কালি ও কলমে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। প্রেম, রোমাঞ্চ, ভালোবাসা কিংবা বিরহ প্রকাশে রবীন্দ্রনাথ যেন অপরিহার্য। তাইতো বাঙালিদের আজও পথ খুঁজতে হয় রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্মের স্ফুলিঙ্গ ধরে।

কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্ম নেয়া রবীন্দ্রনাথ জীবনসাধনায় জন্ম ও মৃত্যুকে একাকার করেছেন অজস্র গান কবিতার শাশ্বতবার্তায়। জীবন সায়াহ্নে লিখেছিলেন।

সদা দেদীপ্যমান রবীন্দ্রনাথ রাষ্ট্র সমাজ আর বিশ্ব ব্যবস্থায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তার সৃষ্টিকর্মের মধ্যে আছে কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র, বক্তৃতামালা ও চিত্রকর্ম। গীতাঞ্জলী কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’র স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ। ভারতের জাতীয় সঙ্গীতও তারই লেখা।

বিশ্ব সাহিত্য দরবারে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র। ৩০টির বেশি দেশ ঘুরেও বারবার তিনি ফিরেছেন বাংলায় শেকড়ের টানে শান্তিনিকেতনে কিংবা শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে।

জীবিতকালে তার প্রকাশিত মৌলিক কবিতাগ্রন্থ হচ্ছে ৫২টি, উপন্যাস ১৩, ছোটগল্পের বই ৯৫টি, প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ ৩৬টি, নাটকের বই ৩৮টি। কবির মত্যুর পর ৩৬ খন্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী ’ প্রকাশ পায়। এ ছাড়া ১৯খন্ডের রয়েছে ‘রবীন্দ্র চিঠিপত্র।’ ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত কবির আঁকা চিত্রকর্মের সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ১৫৭৪টি চিত্রকর্ম শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে। কবির প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয় দক্ষিণ ফ্রান্সের শিল্পীদের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে প্যারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে।

সৃষ্টিই যে এই নশ্বর জীবনকে অবিনশ্বরতা দেয় সে কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন বলেই তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, ‘তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি, সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি।’

আজ তাই তো কবি গুরুর মৃত্যুদিনেও যতই ব্যথা থাক হৃদয়ে জেগে ওঠে পুষ্পধ্বনি। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিসম্ভার মানবজীবনের জন্য পরম পাথেয়। সাহিত্যের এই কীর্তিমান মানুষটি তার অনবদ্য সৃষ্টির গুণে বাঙালির হৃদয়ে রবির কিরণ দিয়ে যাবেন আবহমানকাল ধরে। প্রয়াণ দিবসে কবিকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •