সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

আনসার ভিডিপি ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

71 total views, 1 views today

আজিজুল ইসলাম সজীব :: নবীগঞ্জ উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষক আব্দুল আওয়ালের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তিনি মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে নবীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলপতি-দলনেত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বহিরাগত লোকদের। পৌর এলাকায় পর্যাপ্ত উপযুক্ত লোকজন থাকার পরও উক্ত প্রশিক্ষক আওয়াল ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে উপজেলা ও উপজেলার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন নিয়োগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে জেলা কমান্ডেন্ট বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পৌর এলাকার বঞ্চিত আনসার সদস্য ও কমান্ডারগণ। আবেদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর সুপারিশ করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, কাউন্সিলরবৃন্দ।

সুত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে দলপতি-দলনেত্রী হিসেবে নিয়োগ প্রদানের জন্য আনসার ভিডিপি অধিদপ্তর কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারি হলে নবীগঞ্জ উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষক আব্দুল আওয়াল বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে দলপতি-দলনেত্রী নিয়োগ প্রদান করেন। নিয়োগপত্রে দেখা যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে দলপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে করগাওঁ ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের আব্দুল কদ্দুছ, দলনেত্রী দেয়া হয়েছে ১১নং গজনাইপুর এলাকার রোহেলা বেগমকে। ২নং ওয়ার্ডে দলপতি দেয়া হয়েছে ১৩ নং পানিউন্দা ইউনিয়নের কুড়াগাওঁ গ্রামের আব্দুল গফুর, দলনেত্রী দেয়া হয়েছে বানিয়াচং থানার মাকুর্লী এলাকার নাজমা বেগম, ৪ নং ওয়ার্ডে দলপতি দিয়েছেন ১৩নং পানিউন্দা ইউনিয়নের বাতেন আহমদ, ১৩নং ইউনিয়নের সাহেনা আক্তার লীমাকে দেয়া হয়েছে দলনেত্রী। ৬নং ওয়ার্ডের দলপতি দেয়া হয়েছে গজনাইপুর ইউনিয়নের আব্দুল আলীমকে, ৮নং সদর ইউপির চৌশতপুরের হৃদয় আহমদকে দলপতি দেয়া হয়েছে ৭নং ওয়ার্ডে, দলনেত্রী দেয়া হয়েছে পানিউন্দার জনৈক মহিলা। ৮নং ওয়ার্ডে দলপতি দেয়া হয়েছে সদর ইউপির দত্তগ্রামের রুবেল মিয়া ও দলনেত্রী দেয়া হয়েছে করগাওঁ ইউপির দুর্গাপুরের রাখি দাশকে।

করগাওঁ ইউপির কামালপুর গ্রামের আলী মিয়াকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৯নং ওয়ার্ডের দলপতি হিসেবে। ওয়ার্ড ওয়ারী এই নিয়োগে বিপুল টাকার বাণিজ্য করেছেন উপজেলার আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষক আব্দুল আওয়াল। অথচ নবীগঞ্জ পৌরসভার প্রায় ১ হাজার বেকার যুবক-যুবতী আনসার ভিডিপি সনদ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রয়েছে। এসব সনদপ্রাপ্ত বেকার লোকদের বাদ নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওইসব বহিরাগত লোকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। এ ব্যাপারে ৯নং ওয়ার্ডের দলপতি আলী মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তার বাড়ি করগাওঁ ইউপির কামালপুর এবং প্রশিক্ষককে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। জেলা মনিটরিং অফিসার আবেদনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এলাকায় উপযুক্ত লোক থাকলে বাইরের লোকজনকে ওয়ার্ড ওয়ারী নিয়োগ নেয়া বিধি সম্মত নয় বলেও তিনি জানান।

কমেন্ট
শেয়ার করুন