সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সর্বোচ্চটা দেখিয়েছি

44 total views, 1 views today

নিউজ ডেস্ক:: নিরাপদ সড়কের যৌক্তিক আন্দোলনে  ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সর্বোচ্চটা দেখিয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমরা প্রথম থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রথম থেকেই এই পরিস্থিতিতে আমরা প্রো-অ্যাকটিভ ছিলাম, এখনও প্রো-অ্যাকটিভ আছি। শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি পাবলিক স্টেটমেন্ট করে মেনে নিয়েছি।

গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক যৌথ সভাশেষে তিনি এসব কথা বলেন। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের এই যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে বৈঠকে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে আন্দোলন মনিটরিং করবে আওয়ামী লীগ। আন্দোলনকারীরা কি চায় তা দেখবে তারা। এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত কয়েক নেতা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সামপ্রদায়িক শক্তি সওয়ার হয়েছে। ভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যৌক্তিক আন্দোলনকে তারা অযৌক্তিক পথে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। কোনো অপশক্তির উস্কানিতে বিভ্রান্ত না হতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

গত পাঁচদিনের আন্দোলন পরিস্থিতি তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আমরা তার সিমটম দেখতে পাচ্ছি। বিএনপি-জামায়াত ও তার সামপ্রদায়িক শক্তি গত পাঁচবছরে পাঁচ মিনিটও আন্দোলন করতে পারেনি। কোটাবিরোধী আন্দোলনের ওপর ভর করেও সফলতা পায়নি। তারা এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর সওয়ার হয়েছে। যৌক্তিক আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক মতলবি গোষ্ঠী বিশ্রি ও অশালীন স্লোগানে উস্কানি দিচ্ছে। খাবার ও পানি সরবরাহ করছে। তাদের উত্তেজিত করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে উস্কে দিচ্ছে। প্রলোভিত করছে। এই মহল সন্ধ্যার পর তৎপর হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনে আমাদের অনেক মন্ত্রী-এমপিকে নাজেহাল করা হয়েছে। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ অপদস্থ হয়েছে। তবে আমরা মনে করি না এসব শিক্ষার্থীরা করেছে। এসব অনপ্রবেশকারী ও মতলববাজরা করেছে। বুঝতে পেরে শিক্ষার্থীরাও তাদের অনেককে বের করে দিয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্যসহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ধৈর্য সহকারে দেখছি। নেতাকর্মীদের বলেছি উস্কানির ফাঁদে পা না দিতে। কোনও অনুপ্রবেশকারী যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, চক্রান্ত করে যৌক্তিক আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে না পারে তার জন্য সতর্ক থাকতে বলেছি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যে ৯ দফা প্রস্তাব ছিল আমরা তার সব মেনে নিয়েছি। শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সামনে সড়ক পরিবহনের অর্থায়নে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে শিগগির আন্ডারপাস নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ওবায়দুল কাদের এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আগুনের ভয়ে, ভাঙচুরের ভয়ে ও মারপিটের ভয়ে অনেক যানবাহন রাস্তায় নামছে না। আমি নিজেই গতকাল পর্যন্ত বিআরটিসি’র গাড়ি চালু রেখেছিলাম। সে ড্রাইভাররা এখন জীবনের আশঙ্কায়, নিরাপত্তার ভয়ে গাড়ি চালাতে চায় না। এই আন্দোলনে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় কালো ছায়া নেমে এসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। মানুষ গাড়ির অভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের প্রতিবাদী কণ্ঠকে সম্মান করি, তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ ও আগামীদিনের নেতা। তোমাদের অনুরোধ করি, তোমরা শান্ত হও। তোমরা দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে তোমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের কাজে লাগাবে। উস্কানিতে অবশ্য তোমরা বিভ্রান্ত হবে না। আমি ছাত্রছাত্রীর বক্তব্য শুনেছি। তাদের মধ্যে শুভবোধ আছে। এই শুভবোধ জাগ্রত হয়েছে। তা আমাদের কাজে লাগবে। প্লিজ, সহযোগিতা করুন। তিনি বলেন, ঘটনার পর দ্রুততার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। প্রত্যেকে এখন কাস্টডিতে আছে। এই ঘটনা কিভাবে হয়েছে, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি মনিটরিং করছেন। তার নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন,কোনও দুর্ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা একটি মূল বিষয়। সেটা আমরা করেছি। এখানে কোনও গাফিলতি বা উদাসীনতা ছিল না। সড়ক পরিবহন আইনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইন মন্ত্রণালয় আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সড়ক পরিবহন আইন উত্থাপন করবে। সেটি বিল আকারে পাস হবে। এরপরে এই সরকারের শেষ অধিবেশন সম্ভবত সেপ্টেম্বরের শেষদিকে এ আইনটি পাস হবে। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। কোনো প্রকার ঘাটতি  শৈথিল্য নেই।

যৌথসভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ, বাহাউদ্দিন নাসিম, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান নওফেল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কমেন্ট
শেয়ার করুন