সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

‘গ্রামে বসেই মানুষ শহরের সুবিধা পাবে’

129 total views, 1 views today

নিউজ ডেস্ক:: আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করলে আমরা প্রতিটি গ্রামকে নগর শহরে উন্নীত করে দেবো। গ্রামের মানুষ গ্রামে বসেই শহরের সুযোগ-সুবিধা পাবে। আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে, আওয়ামী লীগ লুটপাট আর নিজের ভাগ্য গড়তে আসে না। আমরা আসি আপনাদের ভাগ্য গড়তে । আজকে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, জঙ্গিমুক্ত ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আপনাদের কাছে সাহায্য চাই।

প্রতিটি গ্রামকে আমরা নগরে উন্নত করবো, শহরে উন্নত করবো।
শনিবার বিকেল ৪টায় পাবনা পুলিশ লাইন মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

জনসভায় পাবনাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই স্বাধীনতা পেয়েছেন। এ নৌকায় ভোট দিয়ে যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের উন্নয়ন হয়, মানুষ ভালো থাকে। এখন আমরা প্রায় ৪০ লাখ বয়স্ক মানুষকে ভাতা দিচ্ছি। ১৪ লাখ স্বামী পরিত্যক্তা বা বিধবা মহিলা ভাতা পাচ্ছে। আমরা প্রায় ১০ লাখ প্রতিবন্ধীকে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ৮০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ৪০ লাখ ছাত্র-ছাত্রীর মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে দিচ্ছি। ঘরে বসে চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা এই আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছে। ভূমিহীনদের খাসজমি দেয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি জামায়াত মিলে হাজার হাজার মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র পুড়িয়ে ও তার কর্মকর্তাকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। পুলিশকে আগুনে ফেলে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। সাড়ে ৩ হাজার বাস পুড়িয়েছে, ২৯টি রেল পুড়িয়েছে। ৬টি ভূমি অফিস পুড়িয়েছে। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা এতিমকে না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেছেন। যার কারণে মামলায় আজ তিনি জেল খাটছেন। তাকে তো সরকার গ্রেপ্তার করেনি। কোর্টের রায় হয়েছে। এতিমের সম্পদ চুরি করলে তো সাজা হবেই। আমরা সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করি আর ওরা জানে খুন, হত্যা ধ্বংস। তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই মানুষ হত্যা করেছে। পাবনার অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছে। সারা বাংলাদেশে তারা এই তাণ্ডব চালিয়েছিল। কই আমরা তো প্রতিশোধ নিতে যাইনি। আমরা প্রতিটা সময় কাজে লাগিয়েছি, উন্নয়নকাজে। আওয়ামী লীগ চায় জনগণের উন্নয়ন। আওয়ামী লীগের কাছে কিছু চাইতে হবে না। আমরা জানি কি করতে হয়। আমার কিছু চাওয়ার নেই। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য কাজ করতে। সেটাই আমার লক্ষ্য।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, রেলমন্ত্রী মজিবুল হক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিক মাহমুদ চৌধুরী এমপি, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, পাবনা-১ আসনের এমপি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজু, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল, সহ-সভাপতি আবদুল হামিদ মাস্টার, আবুল কালাম আজাদ, চন্দন কুমার চক্রবর্তী প্রমুখ।

জনসভার শুরুতে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে নবনির্মিত ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রেলপথ, ঈশ্বরদী থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত রেলপথ, ঈশ্বরদী থানা ভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, পাবনা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস ও ছাত্রী নিবাস, বিভিন্ন উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পসহ ৪৯টি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শতকরা ১০ ভাগ বিদ্যুৎ আসবে পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে: এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ এ কেন্দ্রের দু’টি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। ২০২৪ সালের মধ্যে আমাদের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের কমপক্ষে ১০ ভাগ আসবে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে কোনো কোনো মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এটি নির্মাণে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গাইডলাইন এবং আন্তর্জাতিক মান অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে। রাশিয়ার সর্বশেষ জেনারেশন থ্রি-প্লাস প্রযুক্তির রি-অ্যাক্টর দিয়ে তৈরি হচ্ছে এ কেন্দ্র। পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণের সর্বাধুনিক ব্যবস্থা আছে এই রি-অ্যাক্টরে। জনগণের জন্য যাতে কোনো ঝুঁকির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে গ্রহণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ এবং সুরক্ষিত প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ছিল জাতির পিতার স্বপ্নের প্রকল্প। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়া এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে রাশিয়া এবং সে দেশের জনগণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তখন ভয়াবহ লোডশেডিং হতো। আমরা বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর উদ্যোগ হিসেবে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করি। তার ফলে আজ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। কোনো লোডশেডিং নেই। ৯০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন এখনো পৌঁছেনি, সেখানে হোম সোলার সিস্টেম চালু করা হয়েছে। সারা দেশে বর্তমানে ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম আছে। টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জ্বালানি নীতিতে জীবাষ্ম জ্বালানির পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের উপর জোর দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ তেল, গ্যাস, বা কয়লার পাশাপাশি পারমাণবিক, সৌর ও বায়ু চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত মে মাসে মহাকাশে আমরা আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছি। রাজধানীতে মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে চলছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় ৫৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক মধ্যমআয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধির দেশে পরিণত করা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, রাশিয়ান ফেডারেশনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউরি ইভানোভিচ বোরিসভ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, আইএইএ’র পরিচালক দোহী হান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০শে নভেম্বর ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম চুল্লির কংক্রিট ঢালাইয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কমেন্ট
শেয়ার করুন