‘ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে ছিলেন’

213 total views, 1 views today

খেলাধুলা ডেস্ক:: ছবিটি ইতিহাস হয়ে থাকবে লিওনেল মেসির জীবনে। নাইজেরিয়ার জালে বল জড়িয়ে দিয়ে তিনি মাঠের কর্ণারে গিয়ে দু’হাত উঁচিয়ে মাটিতে হাঁটু গেঁড়ে পিছলে যান অনেক দূর। যেন চিৎকার করে বলছিলেন, দেখ মেসি জাদু। মেসি হারিয়ে যান নি। মেসি এখনও জাদু দেখাতে পারেন।

আর তাই আর্জেন্টিনাকে ‘ধ্বংসের’ দ্বারপ্রান্ত থেকে উদ্ধার করে বুক ফুলিয়ে তিনি বললেন, আমি জানতাম আমাদের সঙ্গে ঈশ্বর আছেন। নাইজেরিয়ার জালে গোল পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শক গ্যালারিতে নেচে উঠছিলেন ফুটবলের আরেক জাদুকর, ফুটবলের রাজপুত্তুর দিয়েগো ম্যারাডোনা। তার হাত দিয়ে ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা শেষ বারের মতো বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি স্পর্শ করেছিল। তারপর থেকে অনেকটা বছর কেটে গেছে। বার বারই হাতের নাগাল থেকে বেরিয়ে গেছে ওই কাপটি। সেই হতাশা নিয়ে এতবছর মাথা নিচু করে, কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা অথবা মেসি বাহিনী। কিন্তু এবার তাদের স্বপ্নটা অনেক বেশি। বলা হয়, তাদের দলটি এবার অনেক বেশি দক্ষ। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে যেভাবে তারা দলিতমথিত হয়েছে তাতে অনেকেই আর্জেন্টিনাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু মেসি তা মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, সেইন্ট পিটার্সবুর্গে যে ক্ষতিটা হয়েছে তা তাতে তিনি যে কষ্ট হতাশা ভোগ করেছেন তা আর কখনো হন নি। তবে এটা মনে রেখেছেন, তিনি কখনো এমন আতঙ্কিত ছিলেন না যে, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হয়ে যাবে। কারণ, ঈশ্বর তা হতে দেবেন না। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের প্রভাবশালী অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান। এতে আরো বলা হয়, খেলা শুরুর পর লিওনেল মেসি অসাধারণ একটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। আর তাতেই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বের শেষ ১৬ তে পৌঁছে যাওয়ার টিকেট স্পর্শ করে। কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন আবার চুরমার হয়ে যেতে থাকে। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে নাইজেরিয়ার ভিক্টর মোসেসের পেনাল্টি গোলে ১-১ সমতায় চলে আসে খেলা। আবার হতাশায় ডুবে যায় আর্জেন্টিনা আর তার ভক্তরা। তখন হয়তো মেসির বুকের স্পন্দনও উঠানামা করছিল। কিন্তু মেসির কথায় তা মনে হয় না। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তাই খেলা শেষ হওয়ার মাত্র তিন মিনিট আগে নাটকীয় এক ঘটনা ঘটে যায়। অবিশ্বাস্য সেই ঘটনায় পুরো মাঠ নেচে ওঠে। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা ও তার ভক্তরা। হ্যাঁ, খেলার ৮৭ মিনিটের সময় মারকোস রোজো নাইজেরিয়ার ডি বক্সের ভিতর উঁচু করে বল পাস দেন। আর তাতে কাজে লাগিয়ে বলটি নাইজেরিয়ার জালে পাঠিয়ে দেন মারকোস রোহো। জয়ের সেই উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে আর্জেন্টিনা থেকে সাত সমুদ্র তের নদীর পাড়ের দেশ বাংলাদেশেও। গত মধ্যরাতে উত্তাল আনন্দে ফেটে পড়েন বাংলাদেশের লাখো ভক্ত। তাদের আর্ত চিৎকার, উল্লাস রাতের নিস্তব্ধতাকে ভেদ করে জানান দেয়Ñ আর্জেন্টিনা টিকে আছে। বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখে মেসি বাহিনী। খেলার শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠের ভিতর তখন আর্জেন্টিনার খেলোয়াররা যেন ‘কলাপসড’ হয়ে পড়েন। অনেকে অঝোঁরে কাঁদেন। এ কান্না বেদনার নয়। আনন্দ অনেক সময় কান্না হয়ে ঝরে। সেই কান্নায় সামিল হয়েছেন কতশত ভক্ত। ক্রোয়েশিয়ার কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে যাওয়ার পর তাদেরকে যে কটু বাক্য শুনতে হয়েছে। সমালোচনা হজম করতে হয়েছে। মেসিকে দল ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঠিক যেন তার সমুচিত জবাব দিয়ে তারা বিধ্বস্ত নগরীকে দিলেন তিলোত্তমার রূপ। তাই ম্যাচ শেষে মেসি বললেন, আমি জানতাম ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি আমাদেরকে প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে ছিটকে ফেলবেন না। আমি (গত ম্যাচে) হেরে যাওয়ার পর এতটা ভেঙে পড়ি নি অন্য কখনো। তাই এই জয় আমাদেরকে অন্যরকম এক স্বস্তি দিয়েছে। আমাদের সামনে কঠিন সময় ছিল। কারণ, আগের ম্যাচে আমরা হেরে গিয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছি। আমি জানতাম আমরা এটা করতে পারবো। আমরা তাই বলে এতটা ভেঙে পড়ি নি। আমাদের আস্থা ছিল। আস্থা ছিল যে আমরা জিতবো। এবং ঈশ্বর তাই করেছেন। ম্যাচ শেষে মেসি তার কোচ সাম্পাওলিকে জড়িয়ে ধরেন আবেগে। এই কোচেরও পদত্যাগ দাবি উঠেছিল।

এমন কি খেলোয়াররা পর্যন্ত তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। কিন্তু মেসি তাকে আলিঙ্গন করে কি বার্তা দিলেন। তিনি হয়তো জানান দিলেন, ধৈর্য্য ধরুন মেসি আছে। তাই সাম্পাওলি বললেন, আমার টিমের পারফরমেন্সে আমি খুবই গর্বিত। আমি জানি আমি যে ধৈর্য্য সবার মাঝে দিয়েছি তা সবাই ধরে রেখেছেন। আমাদের দলে আছেন বিশ্বের সবচেয়ে সেরা খেলোয়ার। তাকে আমাদের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে। আমার প্রধান লক্ষ্য হলো মাঠে মেসিকে অব্যাহত রাখা। যদি সে অনেক বেশি বল পায় তাহলে আমাদের সুযোগ বেড়ে যাবে। যদি মেসি বল না পায় তাহলে আর্জেন্টিনাকে ভুগতে হবে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •