সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

‘রোহিঙ্গারা কবে ফিরবে তা কেউ জানে না’

75 total views, 1 views today

নিউজ ডেস্ক::  আজ ২০ জুন বুধবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস। এ উপলক্ষে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘জোরালো মানবিক সহায়তাদান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র লাখো আশ্রয়প্রার্থী ও অন্যান্য আইনি ব্যবস্থার আওতায় সাময়িক সুরক্ষা পাওয়া মানুষকে ঠাঁই দিয়েছে। এর বাইরেও শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও আশ্রয়দাতা হিসেবে অন্যতম উল্লেখযোগ্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

এর বাইরেও শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও আশ্রয়দাতা হিসেবে অন্যতম উল্লেখযোগ্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তার মূল বিষয় হচ্ছে শরণার্থী ও অন্যান্য বাস্তুচ্যুত লোকদের তাদের মাতৃভূমির কাছাকাছি কোনো দেশে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যাতে একসময় তারা স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে।’

এদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিরাপত্তা বাহিনী ও তাদের দোসরদের ক্রমাগত নির্যাতন, জাতিগত নিধন, গণহত্যা এবং তা ঠেকাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ব্যর্থতায় গত কয়েক দশক ধরে লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ।

সব শেষ গত বছরের ২৫ আগস্ট নতুন করে গণহত্যা শুরু হওয়ার পর আরো প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। বিশাল জনগোষ্ঠীর বোঝা সত্ত্বেও মানবিক কারণে ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী সীমান্ত খোলা রেখেছে বাংলাদেশ। কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শরণার্থী’ ঘোষণা দিয়ে তাদের দায়িত্ব জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কাছে হস্তান্তর করেনি। তবে শরণার্থী হিসেবে প্রাপ্য প্রায় সব সুবিধা রোহিঙ্গাদের দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গারা কবে ফিরবে বা আদৌ ফিরবে কি না তা কেউ জানে না। তারা যদি না ফেরে তাহলে নিঃসন্দেহে এ বোঝা বাংলাদেশের জন্য স্থায়ী রূপ নেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো যখন আশ্রয়প্রার্থী বা শরণার্থীদের জন্য নিজেদের সীমান্তগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে অত্যন্ত মানবিকতা ও মহানুভবতা দেখিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোও চেয়েছিল, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিক। এখন এ সমস্যার সমাধান করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। সম্প্রতি পাহাড়ধসে রোহিঙ্গার পাশাপাশি বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে ওই কূটনীতিক বলেন, পশ্চিমাদের উচিত বাস্তবতার নিরিখে কথা বলা। পাহাড়ধসে যতজন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে তার কয়েক গুণ বেশি বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।

পশ্চিমা সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা সংকটের পর অনেক দেশ মানবিক সহায়তার প্রস্তাব দিলেও শরণার্থীর বোঝার ভাগ নেওয়ার প্রস্তাব তুলেছে কেবল কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত রোহিঙ্গাদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়ার সুপারিশ করেন। কানাডার জনগণের বড় অংশও একে সমর্থন করে। কিন্তু অতীত সময়ে সীমিত পরিসরে এ ধরনের শরণার্থী স্থানান্তর ইতিবাচক ফল আনেনি।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি বলেন, ‘আমরা একটা সন্ধিক্ষণে আছি, যেখানে বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা সফলতার জন্য দরকার নতুন এবং অধিক সর্বাঙ্গীণ পন্থা, যাতে কোনো দেশ ও জনগোষ্ঠীকে এই সমস্যা একা মোকাবেলা করতে না হয়।’ এ ক্ষেত্রে আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শরণার্থী পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার জন্য এরই মধ্যে ১৪টি দেশ একটি নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শরণার্থীদের ওপর একটি নতুন গ্লোবাল কম্প্যাক্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে।’

ইউএনএইচসিআর বলছে, বিশ্বে শুধু ২০১৭ সালেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে এক কোটি ৬২ লাখ মানুষ। গড় হিসাবে তা দিনে সাড়ে ৪৪ হাজার এবং প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন। বিশ্বে এখন শরণার্থীর সংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা থাইল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার প্রায় সমান।

জাতিসংঘ অবশ্য এর দ্রুত সমাধান দেখছে না। কারণ সমাধান চেষ্টা এখনো থেমে আছে খণ্ডকালীন সেবা বা সামগ্রী প্রদানের মধ্যে। যুদ্ধ ও হানাহানি যেখানে চলছে সেখানে শান্তির সুবাতাস খুব কমই বইছে। তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের সুযোগ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন