‘বুরুঙ্গা গণহত্যা’ দিবস আজ

61 total views, 1 views today

নিউজ ডস্ক:: ওসমানীনগরের বুরুঙ্গা গণহত্যা দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে শান্তিকার্ড দেওয়ার নামে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় প্রায় ৭৮ জন নিরীহ লোককে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।

গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ মে আব্দুল আহাদ চৌধুরী (ছাদ মিয়া), ডা. আব্দুল খালিকসহ স্থানীয় কিছু রাজাকারের সহযোগিতায় উপজেলার বুরুঙ্গায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির সদস্যরা শান্তিকার্ড দেওয়ার নামে এলাকার নিরীহ লোকদের বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢেকে আনে। একপর্যায়ে আগত সবাইকে বেঁধে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।

মৃত্যু নিশ্চিত করতে কেরোসিন ঢেলে লাশগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেয়। একপর্যায়ে লাশগুলো বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে গর্ত করে মাটিচাপা দেয় তারা। সে দিনের গণহত্যায় ৭৮ জন লোক শহীদ হন, যাদের সবাই ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী।

গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিবাস চক্রবর্ত্তী বলেন, বর্বর গণহত্যার মঞ্চে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে বাবা, ভাইসহ অগণিত মানুষকে গুলি করে এবং পুড়িয়ে হত্যা করতে দেখেছি। ভাগ্যক্রমে গুলিবৃদ্ধ হয়েও বেঁঁচে গিয়েছিলাম। সে দিনের স্মৃতি আজও শরীর শিহরিত করে।

২০১১ সালের ২২ মে বুরুঙ্গা গণকবর পরিদর্শন করে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহকালে গণহত্যায় স্থানীয় রাজাকারদের সম্পৃক্ততার সত্যতা পায় আবদুল হান্নান খানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল। তবে রাজাকারদের কেউ আর বেঁচে নেই বলে জানা যায়। এদিকে দেশ স্বাধীনের অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ পরিবারগুলো অভাব-অনটনে দিনযাপন করছে। তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •