সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

জঙ্গিবাদে যোগ দিতে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন মিতু

83 total views, 1 views today

নিউজ  ডেস্ক:: নারায়ণগঞ্জে এক তরুণীসহ তিন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। ওই তরুণীর বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতু (১৯), মেহেদী হাসান ওরফে মাসুদ (২২) ও আকবর হোসেন ওরফে সুমন (৩০)।

বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে র‌্যাব ১১- এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল কামরুল হাসান সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব ১১- এর সদর দফতরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, গত ২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম জামাই জুয়েলকে নিয়ে র‌্যাব-১১ কার্যালয়ে এসে মেয়ে জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতুর (১৯) বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য তার দুই বছরের শিশু সন্তান রোজা আক্তারকে নিয়ে ৩১ মার্চ বাসা থেকে বের হয়ে যান। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য তারা অনুরোধ জানালে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি করে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে।

একপর্যায়ে র‌্যাব সদস্যরা ১৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সোয়া ৭টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন সোনাকান্দা এলাকা থেকে জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতু (১৯) এবং তার দুই সহযোগী মেহেদী হাসান ওরফে মাসুদ (২২), এবং আকবর হোসেন সুমনকে (৩০) গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব সদস্যরা মিতুর ২ বছরের শিশু সন্তান রোজা আক্তারকেও উদ্ধার করে।

লে. কর্নেল কামরুল হাসান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতু তাদেরকে জানিয়েছে- ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ফেসবুক আইডি ‘আল্লাহর সৈনিক’ এর মাধ্যমে জনৈক মেহেদী হাসান ওরফে মাসুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মেহেদী তাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে জসিম উদ্দিন রাহমানির উগ্রবাদী বক্তব্য সম্বলিত বিভিন্ন বক্তব্য সরবরাহ করে। এ প্রেক্ষিতে ধীরে ধীরে সে উগ্রবাদে আকৃষ্ট হলে তাকে জেএমবির দাওয়াত দেয়া হয়। এছাড়াও নামাজ আদায় না করলে ও দাঁড়ি না রাখলে তার স্বামীকে পরিত্যাগ করা উচিত বলে বিভিন্ন ফতোয়া প্রদান করা হয়।

মেহেদী হাসান ওরফে মাসুদ তাকে বাংলাদেশ সরকার ও তাগুত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হওয়ার আহ্বান জানালে জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতু তাতে সাড়া দেন। এরপর থেকে মিতু তার ফেসবুক আইডি ‘এসো ইসলামের পথে’ এবং ‘আলোর পথ ইসলাম’ থেকে বিভিন্ন যুদ্ধ, অস্ত্র ও গোলাবারুদের স্থিরচিত্র এবং ভিডিওসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী মতবাদ প্রচার করতে থাকে। সে তার কাছের বন্ধু-বান্ধবদের কথিত জিহাদের দাওয়াত দেয়া শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতু তার স্বামী জুয়েলকে উগ্রবাদের পথে আসার আহ্বান জানিয়ে ব্যর্থ হলে স্বামীকে ত্যাগ করে কথিত শহীদি মৃত্যুবরণ করার লক্ষ্যে হিজরত করার পরিকল্পনা করেন। তার পরিকল্পনার কথা মেহেদী হাসান ওরফে মাসুদকে জানালে সে তাকে মাহরাম ছাড়া হিজরত করা যাবে না বলে জানায় এবং তার বন্ধু আকবর হোসেন সুমনকে মাহরাম হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব দেয়।

এরপর মেহেদী তার বন্ধু আকবর হোসেন ওরফে সুমনের সঙ্গে মিতুর যোগাযোগ করিয়ে দেয়। সুমনকে মাহরাম হিসেবে পাওয়ার জন্য জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতু তার স্বামী জুয়েলকে ডির্ভোস দেয়ার পরিকল্পনা করে। সুমন ও মেহেদীর পরামর্শ অনুযায়ী মিতু গত ৩১ মার্চ সোনারগাঁয়ের তার নিজ বাড়ি থেকে চট্টগ্রামে চলে যান।

কমেন্ট
শেয়ার করুন