সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

মামলার বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আসিফার পরিবার

Indian activists and students protest over the rape of a child near Jammu and a rape case in Uttar Pradesh state, in Ahmedabad on April 13, 2018. The brutal gang rape and murder of an eight-year-old girl triggered nationwide outrage in India on April 13 that put the authorities under new pressure over the scourge of sexual crimes. / AFP PHOTO / SAM PANTHAKY

81 total views, 1 views today

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে আট বছরের শিশু আসিফা বানুকে মন্দিরে আটকে রেখে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তার পরিবার।এ কারণে তারা ভারতের সুপ্রিমকোর্টের কাছে আসিফার মামলা কাশ্মীর থেকে অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করবেন।

আসিফার পরিবারে আইনজীবী দীপিকা এস রাজাওয়াতের আশঙ্কা জম্মু-কাশ্মীরে এ মামলা শান্তিপূর্ণভাবে চলতে দেবে না ধর্ষকদের পক্ষ নেয়া প্রভাবশালীরা।

এ কারণে এ আইনজীবী পুশিলের ক্রাইম ব্রাঞ্চকে কাঠুয়া জেলা আদালতে আসিফা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল থেকে নিবৃত্ত করেন।

আসিফার পরিবার মামলাটি অন্য রাজ্যে পাঠাতে চান জানিয়ে আইনজীবী দীপিকা বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের যা পরিস্থিতি, তাতে ঠিকভাবে মামলা চলতে দেয়া হবে না। মামলাটি অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিতে আমরা সুপ্রিমকোর্টের কাছে অনুরোধ করছি।

গত জানুয়ারিতে কাঠুয়ার রাসানা গ্রামে শিশু আসিফাকে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর পাথর ছুড়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওই গ্রামের একটি মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক সাঞ্জি রাম। তার সঙ্গে এ ঘটনায় আরও জড়িত ছিলেন স্পেশাল পুলিশ কর্মকর্তা দীপক খাজুরিয়া ও সুরেন্দ্র বর্মা, সাঞ্জি রামের বন্ধু পরভেশ কুমার ওরফে মন্নু, রামের নাবালক ভাতিজা ও ছেলে বিশাল জঙ্গোত্র ওরফে শম্মা।

এ ঘটনায় পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দেয়া ১৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারিতে কাঠুয়া জেলার রাসানা এলাকায় মুসলিম বাখেরওয়াল সম্প্রদায়ের শিশু আসিফাকে অপহরণ করে এক সপ্তাহ আটকে রেখে ধর্ষণের পর পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়।

আসিফাকে প্রথমবার ধর্ষণের পর তাকে মাদক দিয়ে অজ্ঞান করে রাখা হয়। এর পর পাথর ছুড়ে হত্যার আগে আবারও ধর্ষণ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, রাসানা অঞ্চল থেকে সংখ্যালঘু যাযাবর সম্প্রদায়ের মানুষদের তাড়িয়ে দেয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে শিশুটি অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়।

এই বর্বরোচিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মন্দির তত্ত্বাবধায়ক সাঞ্জি রাম। তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘটনার তদন্ত প্রভাবিত করতে ঘুষ দেন।

এ বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে হেড কনস্টেবল তিলক রাজ ও সাব-ইন্সপেক্টর আনন্দ দত্ত অভিযুক্ত সাঞ্জি রামের কাছ থেকে চার লাখ রুপি ঘুষ দিয়ে ঘটনার প্রমাণ নস্যাৎ করেছেন।

এদিকে এই অভিযোগপত্রের খবরে আট ধর্ষক-খুনির সমর্থনে একটি মিছিল বের করে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতাকর্মীরা।

এতে কাশ্মীরের শিল্পমন্ত্রী চন্দ্রপ্রকাশ গঙ্গা এবং বনমন্ত্রী লাল সিংহ। বিজেপির এ দুই নেতাই আসামিদের গ্রেফতার করা নিয়ে ক্ষোভ জানান।

এর মধ্যে চন্দ্রপ্রকাশ বলেন, কাশ্মীরে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে। লাল সিংহ বলেন, একটা শিশুর মৃত্যু নিয়ে এত লাফালাফি হচ্ছে কেন… এখানে আরও কত শিশু মারা যায়।

এদিকে রাজ্য সরকারের শরিক বিজেপির মন্ত্রীসহ প্রভাবশালী নেতারা ধর্ষক-খুনিদের পক্ষে মিছিল বের করা আসিফা হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।

তবে কাশ্মীরসহ সমগ্র ভারতের মানুষ শিশু আসিফা ধর্ষণ-হত্যার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।এ অবস্থায় চাপে পড়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।

এরই মধ্যে পরিস্থিতি সামলাতে কাশ্মীর রাজ্য সরকার থেকে বিজেপির দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আসিফা হত্যার সুষ্ঠু বিচার হবে বলে ভারতবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কমেন্ট
শেয়ার করুন