অসাধারন ব্যাক্তিত্ব্যের অধিকারী হয়েও সাধারন জীবন যাপন বেচে নেওয়া একজন আব্দুর রশিদ লাল মিয়ার গল্প

472 total views, 1 views today

রিমা বেগম-(পপি):: কিছু মানুষ তার নিজের যোগ্যতা, কর্মে, ব্যবহারে মানুষের হৃদয়ে স্হান করে নেয়। তেমনি এমন একজন সদা হাস্যজ্জল, সাদা মনের মানুষের পরিচয় সবার সামনে আজ তুলে ধরছি, যিনি সমাজের সকল শ্রেনী পেশার মানুষের নিকট পরিচিত এবং অতি অতি প্রিয় মুখ। তিনি হচ্চেন এডভোকেট আব্দুর রশিদ লাল মিয়া। আব্দুর রশিদ লাল মিয়া সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির একজন সিনিয়র সদস্য, একাধারে তিনি একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্যও বটে।রয়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতায় নেত্রীত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পুক্ত।জনগনের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে দুইবার দ্বায়িত্ব পালন করেছেন সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলা খাজান্সি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে।একই সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দ্বায়িত্ব। তাছাড়া এই লোভ লালসাহীন মানুষটি সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে নীরবে মানুষের কল্যানে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন ।

অহংকারহীন সেই মানুষটি সকল চাওয়া পাওয়ার উর্দ্ধে থেকে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন গরীব দু:খী মানুষের কল্যানে। তিনি নিরবে সততার সহিত নিষ্টার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন সর্বস্থরের মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌছে দিতে। আব্দুর রশিদ লাল মিয়া যেকোন সময় সমাজের যেকোন প্রয়োজনে ছায়ার মত মানুষের পাশে থেকে মানুষের কল্যানে কাজ করতেই বেশি সাচ্ছন্ন বোধ করেন। তিনি একজন আমেরিকা প্রবাসী হয়েও এলাকার মানুষের প্রতি তার রয়েছে গভীর মমত্ববোধ। সমাজ সেবা যার জীবনের লক্ষ্য তিনি প্রবাসে থাকেন কি করে? তাইতো আমেরিকার বিলাসি জীবন তার কাছে অতিষ্ট লাগে। সেই বিলাসি জীবন যাপনকে ইতি জানিয়ে ছুটে আসেন নিজ মাতৃভুমির টানে, নিজ এলাকার মানুষের কাছে। সহজ সরল হৃদয়ের ব্যক্তিত্ব, সিলেট জেলা আইনজিবী সমিতির প্রবীন সদস্য, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, আমেরিকা প্রবাসী জনাব এডভোকেট মো:আব্দুর রশীদ লাল মিয়া ১৯৫১ ইংরেজী সনের ২৬ শে জানুয়ারী সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার খাজান্সী ইউনিয়নের জয়নগর (নোয়াপাডা) গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন ।

তার পিতার নাম মরহুম আব্দুল মছব্বির, মাতা মরহুম কনাই বিবি। আব্দুল রশিদ লাল মিয়া পিতার মাতার একমাত্র সন্তান হলে জন্মের মাত্র ৪ বৎসরের মধ্যে তার পিতা আব্দুল মছব্বির মারা গেলে তিনি তার মাতা মরহুমা কনাই বিবির স্নেহ আদর আর তার চাচা হাসমত উল্লাহর তত্বাবধানে লালিত পালিত হয়ে ৫বছর বয়সে স্হানীয় কান্দিগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে কৃতিত্বের সহিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করত কৌডিয়া পাবলিক জুনিয়র হাই স্কুলে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে অষ্টম শ্রেনীর পরীক্ষা শেষে লালাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ভর্তি হন। লালাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে অসুস্হ থেকেও কৃতিত্বের সহিত এসএসসি পরীক্ষা পাশ করেন । তিনি ছাত্রজীবনে একজন অতিশয় মেধাবী ছিলেন । প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালীন সময়ে মাত্র ৯ বৎসর বয়সে নিজ বাডীতেই বিখ্যাত আলেমে দ্বীন মরহুম আলহাজ্ব ইজ্জত উল্লাহ সাহেবের নিকট পবিত্র কোরান শিক্ষাসহ যাবতীয় ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহন করেন । অল্প বয়সে কোরান শিক্ষাসহ যাবতীয় ধর্মীয় শিক্ষা সমাপন করায় গ্রামের সকলের নিকট তিনি স্নেহের হয়ে উঠেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তাহার মাথার ছায়া বড চাচা হাসমত উল্লাহর মৃত্যুতে তিনি আবারও অভিবাবকহীন হয়ে পড়লে চাচাতো ভাই মরহুম আব্দুর রউফ তার লেখা পড়ার দায়িত্ব গহন করেন।স্কুল জীবন শেষ করে তিনি ১৯৬৭ সালে সিলেটের সুনামধন্য বিদ্যপীট মদন মোহন কলেজে ভর্তি হন।

স্কুল জীবন থেকে ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও কলেজে ভর্তি হয়েই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৭ সালে মদন মোহন কলেজে একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি হয়েই তিনি বঙ্গবন্ধুর হাতে গডা সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদান করে ঐ বৎসরেই কলেজ ছাত্র সংসদ থেকে সমাজ সেবা সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করা আব্দুর রশিদ লাল মিয়া নিজ এলাকায় আওয়ামীলীগের কর্মী সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহে মাঠে কাজ আরম্ভ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় নিজ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে থানা কমিটির সহিত কাজ করে এলাকায় প্রথম আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনে সহযোগীতা করেন । কান্দিগ্রাম নিবাসী জনাব মরহুম মকদ্দছ আলীকে সভাপতি ও জয়নগর নিবাসী মরহুম জনাব মাষ্টার আব্দুল ওহাবকে সাধারন সম্পাদক এবং তিনি ছাত্রাবস্হায়ই ঐ কমিটির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে কমিটি গঠন করলে বিশ্বনাথ থানা কমিটি কর্তৃক সেই ইউনিয়ন কমিঠি অনুমোদিত হয় । মদনমোহন কলেজ থেকে কৃতিত্বের সহিত তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করে ১৯৬৯ সালে সিলেট সরকারী কলেজে স্নাতকে ভর্তি হন এবং লেখাপডার পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকাবস্থায় বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলনসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহন করেন। ১৯৭১সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহন করার লক্ষ্যে এলাকার যুবকদের নিয়া কমিটি গঠনক্রমে সক্রিয় যুদ্ধে উদ্ভোকরনে ব্যস্ত হন ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি সিলেট সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে বি.এ পাশ করে সিলেট ল’ কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে এল এল বি পাশ করে ১৯৮৪ সালে সিলেট জেলাবারে আইনজীবি হিসাবে যোগদান করে অদ্যাবদি তিনি আইনজীবি হিসাবেনিয়োজিত আছেন। আব্দুর রসিদ লাল মিয়া সিলেট জেলাবারের কার্যকরী কমিটির সদস্য । তিনি দেওয়ানী ও ফৌজদারী উভয়বিধ মোকদ্দমায় একজন দক্ষ আইনজীবি হিসাবেই সবার কাছে পরিচিত মুখ। তিনি স্বাধীনতা পুর্ববর্তী ১৯৭০ সালে স্থানীয় বুরাইয়া আলীয়া মাদ্রাসায় এবং স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২ সালে স্থানীয় সিঙ্গের কাছ উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। সাংবাদিক হিসাবেও জনাব আবদুর রশিদ লাল মিয়ার রয়েছে পরিচিতি।

১৯৭২ সালে তিনি সিলেটের তৎকালীন সাপ্তাহিক দেশবার্তা পত্রিকায় বিশ্বনাথ প্রতিনিধি হিসাবে সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক হিসাবে কাজ করে একজন নির্ভিক সাংবাদিক হিসাবে নিজেকে পরিচিতি

পাইয়ে দেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি এলাকায় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সংবাদ পৌছানোসহ নানা ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেন। পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতিতে সক্রিয অংশ গ্রহণের অভিযোগে একবার তাকে পাক সেনারা ধরে নিয়ে গেলে পরিচিত একজনের মাধ্যমে তিনি ভাগ্যক্রমে ছাড়া পেয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ গঠনের কাজে অংশ গ্রহণের পাশাপাশি আওয়ামীলীগের বিশ্বনাথ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা কমিটির সদস্য হিসাবে জেলা কমিটি কর্তৃক নিয়োজিত হয়ে বিশ্বনাথ উপজেলায় নুতন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে যুগ্ন- আহবায়কের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন।১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক সারাদেশ ব্যাপি ন্যায্যমুল্যের দোকান পরিচালিত হলে তারই অংশ হিসাবে আব্দুর রশিদ লাল মিয়া স্থানীয় রাজাগঞ্জ বাজারে প্রতিষ্ঠিত ন্যায্য মুল্যের দোকানের ষ্টোর ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার শিক্ষা প্রসারে অভূত পূর্ব ভুমিকা পালনের অংশ হিসাবে নুতন নুতন স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে নিজ গ্রাম জয়নগরে নিজে ভুমি দান করে স্কুল প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন। আব্দুর রশিদ লাল মিয়া বরাবরই একজন শিক্ষানুরাগী।শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ১৯৭৪ সালে সুনামগন্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি ওই স্কুলে শিক্ষকতা করে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেন।শিক্ষকতা করা অবস্থায় তিনি সৌদি আরব গমন করে পবিত্র হজ্জ ও ওমরা পালন করেন । ১৯৭৭ সালের জুলাই মাসের ২৭ তারিখে তিনি আন্জুমানারা বেগমের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮৮ সালে আব্দুর রশিদ লাল মিয়া বিপুল ভোটে খাজান্সী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। দুর্নিতি বিরোধী মনোভাবের কারনে তৎকালীন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যানের সহিত তার নীতি নৈতিকার প্রশ্নে মতবিরোধ দেখা দিলে এলাকাবাসীকে নিয়া উক্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে পরবর্তী নির্বাচনে ওই উপজেলা চেয়ারম্যান এর পরাজয় ঘটে । ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে খাজান্সি ইউনিয়ন থেকে নির্বাচন করতে অনুরোধ করলেও তিনি তার ব্যক্তিগত অসুবিধার কারনে নির্বাচন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন । বৈবাহিক জীবনে আব্দুর রশিদ লাল মিয়া দুই পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের জনক। তাহার প্রথম পুত্র কাওছার আহমদ যুক্তরাজ্য্ বসবাস করলে পিতার ন্যায় সে ও এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজে জডিত। বৃটেন প্রবাসি হয়েও তিনি দেশের হতদরিদ্র মানুষের সাহায্যার্থে বৃট্রেনে ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন গঠন করে বিভিন্ন সমাজ সেবায় অবদান রাখছেন। তার ছোট ছেলে রায়হান আহমদ দেশে ব্যবসায় নিয়োজিত থাকলেও পিতার অনুসরনে সমাজ সেবায় নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রেখেছেন। তার এক মেয়ে যুক্তরাজ্যে ও দুই মেয়ে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ১৯৮৩ সালে আব্দুর রশিদ লাল মিয়ার উদ্যোগে এলাকারবাসীর সার্বিক সাহায্য, সমর্থন নিয়ে রাজাগঞ্জ বাজার পোস্ট অফিস স্থাপিত হয়। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলে আব্দুর রশিদ লাল মিযাকে সহকারি সরকারি কৌশলী (এপিপি) নিয়োগ করিতে চাহিলেও তিনি অপারগতা প্রকাশ করে তা বিনয়ের সহিত প্রত্যাখান করেন। ২০১০ সালে জনাব আব্দুর রসিদ লাল মিয়া স্থায়ী ভাবে বসবাসের নিমিত্তে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে স্বস্ত্রীক গমণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নির্লোভ এই রাজনীতিবিদ সারা জীবন দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। এবং এলাকার মানুষকে আইনি সহযোগিতা দিতে নিজেকে দেশের আইন পেশার সাথে সম্পৃক্ত রাখতে চান। সেই লক্ষ্রে প্রতি বৎসর দেশে তিনি এলাকার গরীব সামাজিক কর্মকান্ডে উপস্থিত থেকে নানা গরিব অসহায়দের সাহায্য সহযোগীতা করেছেন। জীবনের দাঁড় পান্তে এসে ও মানুষের কল্যাণে বিনা প্রচারে নির্ভিনে কাজ করে যাচ্চেন সে মানুষটি। জনাব মো: আব্দুর রশীদ লাল মিয়া আগামী বৎসর স্বস্ত্রীক হজ্জব্রত পালন করার জন্য আশা প্রকাশ করেছেন। এলক্ষ্যে তিনি তার এলাকার সকলে কাছে দোয়াপ্রার্থী। তিনি কর্মগুণ ও মানবীয় গুণাবলীর অধিকারী হয়ে বাকি জীবনটা সাধারন মানুষের কল্যানেই কাটিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা করেন।।তিনি বিশ্বাস করেন, “এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন”।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  • 373
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    373
    Shares