সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

স’মিল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মাসিক মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে।

77 total views, 1 views today

স’মিল সেক্টরে মজুরি বৃদ্ধিসহ নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদানসহ শ্রম আইনে বর্ণিত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাস্তবায়নের দাবিতে স’মিল শ্রমিক সংঘ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার বিকেল ৩ টায় এক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স’মিল শ্রমিক সংঘ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি নূরুল ইসলাম। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুরুজ আলী, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ দাস চম্পু।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বাব্যাপী শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণের ওপর শোষণ-লুন্ঠন, নিপীড়ন-নির্যাতন, ক্ষুধা-দারিদ্র-বেকারত্ব, সন্ত্রাস, আগ্রাসী যুদ্ধ তথা বিশ্বাযুদ্ধের মূল হোতা সাম্রাজ্যবাদ। সাম্রাজ্যবাদী তথা পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থাকে বৈপ্লবিক পন্থায় উচ্ছেদ সাধন করে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা করাই বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণের মুক্তির একমাত্র বিকল্প।

সভায় বক্তারা বলেন, স’মিল শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কঠোর পরিশ্রম করে মুনাফার পাহাড় গড়ে তুলছে অথচ তাদের পরিবারেই সবদিন দুবেলা ডাল-ভাত জুটে না। চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবনসহ প্রত্যেকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে জন জীবন আজকে দূর্বিসহ হয়ে পড়ছে। একজন শ্রমিকের আজকের বাজারদরে শুধু বাঁচতে হলে নাস্তা ও দুইবেলা খাবার এর জন্য দৈনিক ১০০ টাকা দরকার। সে হিসাবে ৬ জনের শ্রমিক পরিবারের জন্য মাসে অন্তত ১৮ হাজার টাকা দরকার। সরকার গত জাতীয় কমিশনে সরকারি কর্মচারী, মন্ত্রী, এমপিসহ সর্বস্তরের সুবিধাভোগিদের বেতন ভাতা দিগুণ করেছে। কিন্তু হোটেলসহ বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত শ্রমিক ও শ্রমজীবীরা সরকারের এ বেতন কমিশন থেকে বি ত। দীর্ঘদিন আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে সরকার স’মিল সেক্টরে বিগত ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে তা শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়নি। স’মিল সেক্টরের জন্য যে গেজেট ঘোষণা করা হয়েছ বর্তমান বাজারে তা দিয়ে এক সপ্তাহ চলাই কষ্টসাধ্য। নামমাত্র বেতন নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করলেও মালিকরা তা বাস্তবায়ন করছে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরও গেজেট বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। শ্রমিকরা উদ্যোগী হয়ে গেজেট বাস্তবায়নের কথা বললে মালিক ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং বিভিন্ন হুমকী দেয়। অনেক সময় কোনো ধরনের আইনি পাওনা না দিয়েই বিনা নোটিশে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেয়।

সভায় বক্তারা স’মিল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদানসহ শ্রম আইনে বর্ণিত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় এবং ন্যূনতম মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা ঘোষণা করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানান।
স’মিল শ্রমিক সংঘ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইজ্জাত আলীর পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স’মিল শ্রমিক সংঘ সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি আইয়ুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন, ওসমানীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি কয়েছ মিয়া, বালাগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আঃ নূর মিয়া, রাজনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খলিল মিয়া, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ- সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, মৌলভীবাজার জেলাা রিকসা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুহেল মিয়া, স’মিল শ্রমিকনেতা কাউসার মিয়া, সবুজ মিয়া, বেলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

কমেন্ট
শেয়ার করুন