শ্রীমঙ্গলে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

29 total views, 1 views today

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন পালন করেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাব। বুধবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের আহবানে শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডে একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টে অনিয়মাতান্ত্রিক ভাবে প্রদর্শিত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করিয়ে তাদের এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আশেকুল হক।পরে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা, ব্যবসায়ী প্রতিষ্টানের অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে প্রদর্শিত পতাকা নিজেরাই ঠিক করে দিয়ে আসেন। একই সাথে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিবাকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে নির্মিত শহীত মিনারের বেদিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বলে জানান উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি চৌধুরী ভাস্কর হোম।এ সময় তারা শিক্ষকদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নিয়ম, খালি পায়ে প্রভাত ফেরীসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্যদেন। এ সব কর্মকান্ডে উপস্থিত ছিলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শ্রীভুমি সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এম এ রহিম, উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য সাপ্তাহিক আলোকনের সম্পাদক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হুমায়ুন কবির রিপন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার চৌধুরী ভাস্কর হোম, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক বিকুল চক্রবর্তী, উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রজত শুভ্র চক্রবর্তী, উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সঞ্জয় কুমার দে, উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক সাজন আহমদ রানা, উপজেলা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক সুমন বৈদ্য, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিমুল তরফদার, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউছার আহমদ রিয়ন, উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সদস্য সুমন দাশ, রাসেল আহমদ, রুপম আচার্য, কাজল হাজরা, আরিফুল হক ও জীবন পালসহ অনান্য সদস্যরা।এ সব কর্মকান্ডে আরো উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো:আসলম, প্রধান শিক্ষক অনিমা রাণী দেবী, সহকারী শিক্ষক অমৃত কুমার দাশ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চৈতালী চক্রবর্তী প্রমুখ। সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রীমঙ্গল টিকরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবনির্মিত শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পুস্পস্তবক অর্পন শেষে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও পালনের নিয়ম কানুন বর্ণনা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি চৌধুরী ভাস্কর হোমের সভাপতিত্বে বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পুর্ণেন্দু দেব নাথ, প্রধান শিক্ষক জবা রাণী পাল, অধ্যাপক রজত শুভ্র চক্রবর্তী ও সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী।

এর আগে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা শ্রীমঙ্গল পৌর শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ অপর্ণ করেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্টানকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উদ্বুদ্ধ করেন। এদিকে ভাষা শহীদদের যথাযোগ্য মর্যদায় বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম শ্রীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্নয়ে তৈরি করা হয় “বাঁশ দিয়ে তৈরী শহীদ মিনার”। আর বুধবার সকালে আন্তরজাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই বাঁশের তৈরি এই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

পশ্চিম শ্রীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৩২৯জন। শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ৭ জন। সুবর্ণা চক্রবর্তী প্রধান শিক্ষিকা, রূপালী পাল, লাভী রায়, নিথেন্দ্র রায়, শিরিন আক্তার, স্বপ্না দেব, স্মৃতিরাণী সেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবর্ণা চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিথেন্দ্র রায় নিজ উদ্যোগে সকল শিক্ষক ও অফিস সহকারী পিংকু মোদকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে এ বাঁশের শহীদ মিনার তৈরি করেছেন। এই শহীদ মিনার তৈরি আগে দেয়ালের মধ্যে লোহা সুতার তৈরি শহীদ মিনার করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। তবে তাদের দাবী সচেতন ও শিক্ষানুরাগী এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা বাড়াতে তাদের বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ এগিয়ে আসবেন সংশ্লিষ্টমহল। সহকারী শিক্ষক নিথেন্দ্র রায় বলেন, এলাকাবাসীর কাছে থেকে আটটি বড়ুয়া বাঁশ এবং জাই বাঁশ সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছে এ শহীদ মিনার। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তৈরি করা হয় এটি। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজম আলী বলেন, আমাদের পশ্চিম শ্রীমঙ্গল এলাকায় তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

অভিভাবকদের মধ্যে জাতীয় দিবসগুলোর প্রতি তেমন সচেতনাও নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় একদিন এখানে স্থায়ী একটি শহীদ মিনার নির্মিত হবে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •