সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

আদালত পাড়ায় সাংবাদিক নির্যাতন : ‘গোপন’ চার্জশীটে বাদির নারাজি

28 total views, 1 views today

নিউজ ডেস্ক:: সিলেটের আদালত প্রাঙ্গনে দুই সাংবাদিককে নির্যাতনের ঘটনায় গোপনে দাখিল করা চার্জশীটের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিলেটের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারাজি দাখিল করা হয়। দাখিলের পর বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো আগামি ২৫ জানুয়ারি নারাজির শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করেন।

এরআগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বাদি-সাক্ষীর সাথে আলোচনা না করেই গোপনে চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর হাদিউল ইসলাম। নং ৫০/১৮। চার্জশীটে মামলার প্রধান আসামি পাথর খেকো ও হত্যা মামলার আসামি লিয়াকত আলীসহ তার তিন সহযোগীকে বাদ দেয়া হয়। চার্জশিট দাখিলের পর ২০ ফেব্রুয়ারি চার্জশীটের শুনানীর দিন ধার্য্য করেন আদালত।
বাদিপক্ষের আইনজীবি মনির উদ্দিন জানান, গতকাল চার্জশীটের শুনানীর পূর্ব নির্ধারিত তারিখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার ‘কেস ডায়রী’ আদালতে হাজির না করায় আদালত আগামি ২৫ জানুয়ারি শুনানীর পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেন।

পুলিশের দাখিল করা চার্জশীট থেকে বাদ পড়া ৪ অভিযুক্ত হচ্ছেন জৈন্তাপুরের মল্লিফৌদ গ্রামের ওয়াজিদ আলী টেনাইয়ের পুত্র লিয়াকত আলী, নয়াখেল গ্রামের মতিউর রহমানের পুত্র ফয়েজ আহমদ বাবর, আদর্শ গ্রামের জালাল মিয়ার পুত্র শামীম আহমদ ও খারুবিল গ্রামের আলী আহমদের পুত্র মো. হোসাইন আহমদ।

চার্জশীটে অভিযুক্তরা হচ্ছে, জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামের খাতির আলীর পুত্র নজরুল ইসলাম, হরিপুর গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র জুয়েল আরমান, চাল্লাইন গ্রামের সাইফ উদ্দিনের পুত্র নুরুদ্দিন মড়া, ঘাটেরছটি গ্রামের লুৎফুর রহমান কালার পুত্র এম জেড জাহাঙ্গীর, শফিকুর রহমানের পুত্র তোফায়েল আহমদ, আলু বাগান গ্রামের মোস্তফা মিয়ার পুত্র সৈয়দ রাজু, বাউরবাগ মল্লিফৌদ গ্রামের মোহাম্মদ আলী মড়ার পুত্র ফারুক আহমদ, হাটিরগাঁও গ্রামের হোসেন মিয়ার পুত্র শাব্বির আহমদ, আদর্শ গ্রামের আইয়ুব আলীর পুত্র মনির মিয়া, লক্ষীপুর পূর্ব গ্রামের মনির মিয়ার পুত্র তাজ উদ্দিন, সরুফৌদ গ্রামের সিদ্দিক আলীর পুত্র হোসেন আহমদ উরফে টাটা হোসেন, সরুখেল পশ্চিম গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র সুলতান আহমেদ ও বাউরবাগ গ্রামের আব্দুল হান্নানের পুত্র নুরুল ইসলাম। জব্দ করা ভিডিও ফুটেজ দেখে এই ১৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে চার্জশীটে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

তবে মামলার এজাহার নামীয় আসামী এবং সিসি টিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারী হিসেবে যাদের সনাক্ত করা হয় তাদের গ্রেফতারেও কোন ভূমিকা নেই পুলিশের। অথচ আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ছবি তুলে তা ফেসবুকেও শেয়ার করছেন কেউ কেউ।
পাথর খেকো লিয়াকত আলী ও ফয়েজ আহমদ বাবরের নির্দেশে তাদের ক্যাডার বাহিনী সিলেটের আদালত প্রাঙ্গনে গত ২৫ জানুয়ারি দুই সাংবাদিকের উপর হামলা চালায়। আক্রান্তরা হচ্ছেন যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন নিরানন্দ পাল ও যুগান্তরের চিত্রগ্রাহক মামুন হাসান। এঘটনায় নিরানন্দ পাল বাদী হয়ে লিয়াকত আলী ও ফয়েজ আহমদ বাবরকে প্রধান অভিযুক্ত করে আরও ১৫/১৬ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন সাব ইন্সপেক্টর হাদিউল ইসলাম। তিনি নির্ধারিত সময়ে তদন্ত কাজ শেষ করতে না পেরে আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করলে আদালত ৭ দিনের সময় বেঁধে দেন।

গতকাল মঙ্গলবার ছিল বর্ধিত সময়ের শেষ দিন। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় সিলেটের সাংবাদিকসমাজসহ পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ঘটনার পর সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের ৫ সংগঠন লাগাতার আন্দোলন শুরু করে। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পালিত হয় মানববন্ধন, কর্মবিরতি, অবস্থান কর্মসূচি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি।

কমেন্ট
শেয়ার করুন