সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

জলমহাল দখল নিয়ে আবারো রক্ত ঝরল হাওরে নিহত ১ আহত ১০

70 total views, 1 views today

নিজস্ব প্রতিনিধি::সুনামগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে আবারো রক্ত ঝরেছে হাওরে। বৃহস্পতিবার সকালে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টান্নির হাওরের গ্রুপ জলমহাল দখল নিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মজনু মিয়া (৬০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছে।

সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। গুরুতর আহত চারজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য গত বছর এই উপজেলার একই এলাকায় জলমহাল দখল নিয়ে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টান্নি গ্রুপ জলমহালটি ১৪২৪-১৪২৫ বাংলা সালের জন্য সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেয় ধীতপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। পরে এই জলমহালটি সাব ইজারা নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহমদ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন চৌধুরী ডনেল। জলমহালটি ইজারার পরই সীমানা নিয়ে কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাদের বিরোধ দেখা দেয়। মুজিবর রহমান ও তার সমর্থকরা জলমহালের একটি অংশ নিজেদের দখলীয় দাবি করলে এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মুজিবুর রহমানের লোকজন বিরোধপূর্ণ এলাকায় মাছ আহরণ করতে গেলে অ্যাডভোকেট সোহেল আহমদ ও ডনেল চৌধুরী’র লোকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মুজিবুর রহমানের ভগ্নিপতি তেতৈইয়া গ্রামের মজনু মিয়া মারা যান। আহত হন ডনেল চৌধুরীর পক্ষের তেতৈয়া গ্রামের সুপার মিয়া (৩৫), আব্দুর রহিম (৫০), শাহেদ মিয়া (২৫) ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান পক্ষের একই গ্রামের নাজমুল মিয়া (২৫)। তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জানাগেছে, মুজিবুর রহমান কর্তৃক জলমহাল দখল বিষয়ে ডনেল চৌধুরী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও জোরপূর্বক জলমহাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। পরে এই বিরোধ নিষ্পত্তি করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হলেও নিষ্পত্তি হয়নি। অবশেষে জলমহাল দখল নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে একজন নিহত হয়।

ইজারাদার পক্ষের কুলঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন চৌধুরী ডনেল বলেন, ধীতপুর মৎস্যজীবী সমিতি সরকারের রাজস্ব প্রদান করে দখলনামা নিয়ে জলমহালে যেতে পারছিল না। ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান তার লোকজন নিয়ে জলমহালের বিশাল একটি অংশ দখল করে রেখেছিল।

এ ব্যাপারে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা প্রশাসনে বার বার আবেদন করেছি। তারপরও মুজিবুর রহমানকে জোরপূর্বক দখল থেকে সরানো যায়নি। তারা পাহারাদারদের উপর অতর্কিত আক্রমণ করে মাছ লুট করতে চেয়েছিল।

উপজেলা বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান বলেন, জলমহালের সীমানার বাইরে আমাদের রেকর্ডিয় ভূমিতে কাজ করতে গেলে জলমহালের দখলদাররা তাদের বাহিনী নিয়ে আমার লোকদের উপর আক্রমণ করেছে। এতে ঘটনাস্থলেই আমার ভগ্নিপতি মজনু মিয়া নিহত হন এবং গুরুতর আহত হয় নাজমুল মিয়া।

দিরাই থানার ওসি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে পুলিশ। এখনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি একই উপজেলার জারুলিয়া জলমহালের দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একই ইউনিয়নের কুলঞ্জ গ্রামের তাজুল ইসলাম, উজ্জ্বল মিয়া ও শাহারুল ইসলাম মারা যায়। একাধিক মামলার আসামি যুবলীগ নেতা একরার হোসেন ও পৌর মেয়র এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। একই বছরের ৩ নভেম্বর একই উপজেলার ভছার হাওরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যক্তি মারা যান।

কমেন্ট
শেয়ার করুন