মোগালাবাজারে কবরস্থান রক্ষার দাবীতে গ্রামবাসীর মানবন্ধন

39 total views, 1 views today

সিলেটের মোগলাবাজারে পুরো একটি গ্রামের মানুষকে হয়রানি করছেন ভ‚মিখোঁকো ও বিত্তশালী আসমত আলী। এরই প্রতিবাদে গতকাল বোধবার বিকেলে গ্রামের নারী পুরুষ এক মানববন্দন কর্মসূচি পালন করেছেন ।

মানববন্ধন কর্মসূচীতে গ্রামবাসীর অভিযোগ করে বলেন – তিনি হামলা-মামলা এমনকি থানা পুলিশের উপর প্রভাব খাটিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানি করছেন । প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি ভ‚মি জবরদখল করতে তার এ অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গ্রামবাসী সোচ্ছার হওয়াতেই তিনি চটেছেন গ্রামবাসীর উপর। অভিযুক্ত আসমত আলী মোগলাবাজার থানার পূর্ণাখলা গ্রামের ওয়াছিদ আলীর ছেলে।

জানা গেছে, মোগলাবাজার থানার পূর্ণাখলা গ্রামে প্রায় ২ একর সরকারি জমির উপর গত কয়েক বছর ধরে চোখ পড়ে গ্রামের ভ‚মিখেঁকো খ্যাত আসমত আলীসহ কয়েকজনের। কবরস্থানে রূপান্তরিত এ সরকারি জায়গা জবরদখল করতে আসমত আলী ও তার সঙ্গীরা উঠেপড়ে লাগেন। এ বিষয়ে গ্রামবাসী সো”চার হয়ে প্রতিবাদ করলে নিরীহ গ্রামবাসীর উপর নেমে আসে প্রভাবশালী আসতম আলীদের নির্যাতনের খড়গ।

গ্রামের মুরুব্বিরা বিচার-শালিসের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে উল্লেখিত জায়গাতে পঞ্চায়েতি কবরস্থানে রূপান্তরের প্রক্রিয়া করছেন। আসমত আলী ও তার সঙ্গীরা এ জায়গাকে জবরদখলের চেষ্টায় প্রায়ই এ জায়গায় গ্রামবাসীর লাগানো গাছ কেটে ফেলেন। এরই ধারাবাহিতকায় গত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে আসমত আলী ও তার সহযোগিরা এ জায়গায় গাছ কর্তন করতে যান। এসময় গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করলে আসমত আলীর সশস্ত্র বাহিনী গ্রামবাসীর উপর হামলা চালায়। এসময় ১০ জন মানুষ আহত হন। আহত ১০ জনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট ওসমনানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

এদিকে, এ হামলার পর গ্রামবাসী মোগলাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করতে গেলে তা আমলে নেয় নি পুলিশ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ- অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে থানা পুলিশকে প্রভাবিত করে রেখেছেন। পরে গ্রামবাসী আদালতে মামলা করলে আদালত ঘটনা তদন্তে মোগলাবাজার থানাপুলিশকে নির্দেশ প্রদান করলেও এ বিষয়ে গড়িমসি করছে পুলিশ। এ বিষয়ে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান মামলা টি তদন্তাদীন রয়েছে ।তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।

অন্যদিকে, ১ ফেব্রæয়ারির হামলার ঘটনার পর আসমত আলী বাদি হয়ে গ্রামের ৩৩ জনকে আসামি করে উল্টো একটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রাম প্রায় পুরুষশূন্য। আর এই পুরুষশূন্যের সুবাধে আসমত আলী গ্রামের অনেকের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে মহিলা ও শিশুদের হয়রানি করছে এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসমত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে
তিনি বলেন জায়গাটি ভুলবশত সরকারী খাশজমির আওতায় চলে গেছে বর্তমানে এ ভুমির বিষয়ে কোর্টে মামলা রয়েছে ।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •