বঙ্গবন্ধুর ছবি অবমাননাকারীদের বিচারের দাবী

46 total views, 1 views today

গত ৭ই ফেব্র“য়ারী যুক্তরাজ্য বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশের এক পর্যায়ে দলটির নেতা কর্মীরা বাংলাদেশ দূতাবাসে ঢুকে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে এবং পরে ছবিতে অগ্নিসংযোগ করে, বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দেয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাজাকে কেন্দ্র করে লন্ডনে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদের যে নজির সৃষ্টি করেছেন সেটিকে ১৯৭৫ সালের পুনরাবৃত্তি বলা যায়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যুক্তরাজ্য দূতাবাসে বন্ধুবন্ধুর খুনিদের দোসররা যেভাবে হামলা চালিয়েছিলো ঠিক একই কায়দায় ৭ ফেব্র“য়ারি হামলা হয়েছে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে।

দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার স্হানীয় সময় বিকাল সাড়ে চারটার দিকে সমাবেশ শেষে বিএনপির প্রতিনিধিরা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে রাষ্ট্রদূতের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে সেখানে দূতাবাসের কর্তব্যরত কর্মচারীদের হুমকি দেন বিএনপির নেতা কর্মীরা। শুধু তাই নয় দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

দূতাবাসের কর্মচারীরা বলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতা কর্মীরা যেভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তছনছ করে জাতির জনকের ছবির অবমাননা করেছে সেটি পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এসময় তারা হাইকমিশনের রিসেপশন কক্ষে রাখা বঙ্গবন্ধুর ছবি দেয়াল থেকে নামিয়ে ভাংচুর করে, দূতাবাসের বাইরে নিয়ে ছবির অবমাননা করে।

হাইকমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র বলছেন তারা একজন বিএনপির প্রতিনিধিকে ভেতরে গিয়ে স্মারক লিপি দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা দূতাবাসের দরজা ভেঙ্গে জোরপূর্বক হাই মিশনের ভেতরে প্রবেশ করে, হাই কমিশনারের নাম ধরে ডাকতে থাকে, কর্মকতাদের হুমকি দেয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের দাবি, তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী হাইকমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিতে ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছেন কিন্তু মিশনের কর্মচারীরা তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হাইকমিশনে প্রবেশ করে, নেতা কর্মীরা ভেতরে কোন ভাংচুর করেনি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ বলেছেন, হাইকমিশন হামলার ঘটনায় ব্রিটিশ পুলিশ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাই যারা এই কাজ করেছে ফুটেজ দেখে তাদেরকে বাংলাদেশ আইনে বিচার করা হোক। সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে, সুতরাং তাকে প্রধান আসামী করে সিসি ক্যামেরা এবং বিভিন্ন নিউজ পেপার থেকে ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে সবাইকে বাংলাদেশে নিয়ে আইনের আওতায় নিয়ে আশা হোক।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনা উলে­খ করে শেখ সেলিম বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে কিছু সন্ত্রাসী লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা করে, ভাংচুর করে, এমনকি বঙ্গবন্ধুর ছবি পর্যন্ত সেখানে ভাংচুর করে। বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু না হলে এই স্বাধীন দেশের নাগরিক হতে পারতাম না। সেই বঙ্গবন্ধুরে কারা আক্রমণ করতে পারে? আক্রমণ করতে পারে পাকিস্তানি এজেন্ট স্বাধীনতাবিরোধী ’৭১ ও ’৭৫ এর পরাজিত শক্তিদের এজেন্টরাই। তিনি বলেন, এই সকল হামলাকারী পাকিস্তানী এজেন্টদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, সিসি ক্যামেরার ভিডিও রেকর্ড ও ফুটেজ দেশে পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকরতারা এই হামলাকারীদের বিপক্ষে যতাযত ব্যবসস্থা নিবেন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বাংলা গনমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি হতে প্রাথমিকভাবে হামলাকরীদের মধ্যে বিএনপি নেতা খছরুজ্জামান খছরু, মুজিবুর রহমান মুজিব, আবু নাসের, স্বেচ্ছাসেবক দলের নাসির আহমদ শাহীন, আবুল হোসেন, লাকি আহমদ, যুবদলের শাহনেওয়াজ, রায়হান সহ আরো কয়েকজনকে সন্দহে করা হচ্ছে। এছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ, বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন, সেলিম আহমদ, শহীদুল ইসলাম, আবেদ রাজা, তাইজুল ইসলাম, আব্দুর রব, খালেদ চৌধুরী, তাইবুর হুমায়ুন, শেখ তপু, জিয়া রহমান, সোহাগ ইসলাম, আবদুর রহিম, আফজাল হোসেন, জাহেদ তালুকদার, তারেক, নুরল রিপন, পারভেজ মলি­ক, শারফারাজ শরফু, আব্দুল হামিদ, নাসিম হোসেন, সাদিক মিয়া, ময়নুল ইসলাম, শামীম উদ্দিন, শরীফুল ইসলাম, অঞ্জনা আলম, শরীফুজ্জামান তপন, শাহজাহান আহমদ, ডালিয়া লাকুরিয়া, শামসুন্নাহার সহ আরো অনেকে এই হামলায় প্রত্যক্ষ্য ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত বলে জানা গেছে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •