সিলেট নিউজ টাইমস্ | Sylhet News Times

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কফি হাউজ

47 total views, 2 views today

নিউজ ডেক্স:: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অনেক দোকান, সে স্থান গুলো বিভিন্ন নামে পরিচিত তার মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ বিজ্ঞান ঝুপড়ি অন্যতম, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষুদা নিবারণের জন্য বিভিন্ন সময়ে অাসে।

এই সকল দোকান গুলো পরিচালনা করে আসচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার কিছু ব্যক্তি। কিন্তু ইংরেজি বর্ষ ২০১৮ থেকে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ এবং কলা অনুষদের রাশেদ রনি, ওমর ফারুক, দিপ্তি চাকমা, ইয়াসির আরাফাত চার শিক্ষারত ছাত্র-ছাত্রি যারা একটু ভিন্ন চিন্তা নিয়ে এগিয়ে আসে এবং শুরু করে এক নতুন কাজ।

এই শিক্ষার্থীরা মাত্র এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে সমাজ বিজ্ঞান ঝুপড়িতে একটি দোকান, যার নাম রাখা হয় “কফি হাউজ”। এই ঝুপড়িতে আনেক লোকালরা দোকান পরিচালনা করলেও শিক্ষার্থীদের দেয়া এই দোকানটি সকলের নজর আকৃষ্ট করে। তারা পড়াশুনার পাশাপাশি এই দোকান পরিচালনা করেন। সকাল ৭:৩০ টার দিকে এসে দোকান খোলে এবং ক্লাস চলাকালিন সময়ে একে অপরের সাহায্য্ করে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে। শিক্ষার পাশাপাশি এই দোকান প্রতিষ্ঠা করাই তারা দোকানের আয় দিয়ে নিজের বিভিন্ন খরচ নিজেরা বহন করতে সক্ষম হয়।

এই দোকান সম্পর্কে জানতে চাইলে, দোকানে কর্মরত এক শিক্ষার্থী থেকে জানা যায়, আমরা চার বন্ধু সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা চিন্তা করে এবং সমগ্র বাংলাদেশে কফি হাউজের শাখা খোলার স্বপ্ন নিয়ে এই দোকান পরিচালনা করা শুরু করি। অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে, নিজেরা বিনিয়োগ করে, দোকানকে পরিপূর্ণ করার বিভিন্ন কাজে নিজেরাই সম্পৃক্ত হয়ে এই দোকান প্রতিষ্টা করি।

এর পিছনের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, গত ভর্তি পরক্ষায় আমরা একটি অস্থায়ী দোকান দিয়েছিলাম, যার নাম ছিল “না খেয়ে যাবেন কই”। ঐ সময়ে শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন লোকজনের দোকান নিয়ে উৎসাহ দেখে আমরা এইরকম একটা দোকান খোলার উদ্যোগ নেই।

এই দোকান শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উটে, যার অন্যতম কারণ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে দোকান প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনা। সাধারন শিক্ষার্থীরা এই দোকানকে কীভাবে গ্রহণ করছে তা জানতে চাইলে বলে:সত্যি কথা বলতে আমরা অনেক সারা পাচ্ছি, শিক্ষার্থীরা এটা খুব আনন্দের সাথে এবং ভালো ভাবে নিচ্ছে। Food Minster এ প্রতিদিন কফি হাউজ নিয়ে রিভিউ দেয়া হয়। এখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন, বার্গার, খিচুরি, মিষ্টি, কফি ইত্যাদি তাজা এবং সুস্বাদু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এর প্রতি আগ্রহী। আর এখানে খাবারের দাম নূন্যতম কম। শুধু শিক্ষার্থী নয় বরং শিক্ষকরাও এই দোকান নিয়ে উৎসুক।পরিবারে দোকান নিয়ে প্রথম দিকে সম্মতি না দিলেও, বর্তমান অবস্থা দেখে তারাও উৎসাহিত করছে এই শিক্ষার্থীদেরকে।

দোকান নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, অামরা দোকানের পরিসর বাড়াতে চাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে এর শাখা খুলতে চাই। আমরা আরোও কিছু শিক্ষার্থীর সাহায্য নিয়ে এই কাজ সচল রাখতে চাই। পড়াশুনা শেষ করেও আমরা এই দোকান নিয়ে কাজ করতে চাই। এটাকে সমগ্র বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করে আরোও উচ্ছ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।

অনান্য শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের প্রত্যাশা, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যাতে এই ধরনের কাজে এগিয়ে আসে এবং তাদের পচন্দের কাজ করে। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিচালিত দোকান দেখে বলা যায় ইচ্ছা থাকলে সব কিছু করা সম্বভ, পরিবর্তন আনা সম্ভব। চবির এই শিক্ষার্থীরা চিরাচরিত প্রথা থেকে একটু ভিন্ন আজ্ঞিকে সাজানোর চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয়কে,সমাজকে মূলত দেশকে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন