কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

25 total views, 1 views today

নিউজ ডেক্স:: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, কৃষিতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে কৃষক পর্যায়ে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া পচনশীল কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বহুমুখীকরণেও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এসময় তিনি দেশের কৃষিখাতে সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। আজ বৃহস্পতিবার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন,আমাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন যুদ্ধে জয়লাভের জন্য কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন অপরিহার্য। কেননা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও স্থিতিশীলতা সংরক্ষণে কৃষির ভূমিকা আজও মুখ্য। সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈরিতা মোকাবেলা করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, ধান, গম, ভুট্টা, সবজি, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলেছে। এটি সম্ভব হয়েছে সরকারের বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে।

কৃষির উন্নয়নের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে আরও সুদূরে। ২০৫০ সাল কিংবা ২১০০ সালে দেশের প্রক্ষেপিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দেশের কৃষি ও ভেটেরেনারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাই।

কৃষি গবেষণায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের প্রশংসা করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, বর্তমান যুগ হচ্ছে বিশ্বায়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির যুগ। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে তার আপন বৈশিষ্ট্য নিয়ে টিকে থাকতে হলে তার স্থানিক, জাতিক ও বৈশ্বিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হয়।

তিনি বলেন, এটি সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব প্রাতিষ্ঠানিক উপযোগিতা, মান ও আন্তর্জাতিক চরিত্র নিশ্চিত করার মাধ্যমে। আমি জেনে আনন্দিত যে, উচ্চতর কৃষি শিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তার লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থেকে শিক্ষা ও গবেষণা তৎপরতায় এই চাহিদাগুলোর বিশ্বস্ত প্রতিফলনে বিশেষ যত্নবান।

সমবার্তনে ডিগ্রিপ্রাপ্তদের সমাজের প্রতি দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে একদিন তোমরা প্রকৃতির শ্যামলিমায় ঘেরা এই অনন্য সুন্দর শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করেছিলে, দীর্ঘ ও কঠোর সাধনার মাধ্যমে স্বপ্নের সেই গন্তব্যে আজ উপনীত হয়েছ। আজ শুধু স্বজন-পরিজন নয়, বরং সমগ্র জাতি তোমাদের নিয়ে গর্ব করে।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. গোলাম শাহি আলম।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •