ওসমানী হাসপাতালের মূর্তিমান আতংক নার্স রেখা বণিক : অভিযোগের অন্তঃনেই

1,903 total views, 2 views today

সিলেট ওসমানী মেডিকল কলেজ হাসপাতালের মূর্তিমান আতংকের নাম রেখা বণিক। নানা অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলা করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়না স্টাফ নার্স রেখা বণিকের বিরুদ্ধে। তার নির্যাতন চাঁদাবাজি ও নিপীড়নের কারণে ভেঙ্গে পড়েছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা।

রেখা বনিকের খুঁটির জোর এতো বেশী যে, তিনি একাধারে স্টাফনার্স, সুপাভাইজার,সেবা ততত্বাবধায়ক এমনকি পরিচালক সব কিছুই। যথেচ্ছভাবে সেবিকাদের পরিচালনা, নির্যাতন চাঁদাবাজি, ঘুষবানিজ্য সহ নানা অপকর্ম চালিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কেউ নেই। সবকিছুরই যেন ব্যবস্থাপক তিনি নিজেই।

সরজমিনে দেখা যায়, মেডিকেলের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩জন করে নার্স ডিউটি করলেও স্টাফ কেবিনে (১৮ নং ওয়ার্ডে) ডিউটি করেন ৮ জন নার্স। আজীবন পলাতক স্বামীর স্ত্রী স্টাফনার্স রেখা বনিক। কতিপয় রাজনৈতিক নেতা-হোতা ও কথিত এক সাংবাদিক নেতার সাথে রয়েছে তাঁর গভীরতর সম্পর্ক। আর এ কারণেই সম্পূর্ণ বেপরোয়া তিনি। স্টাফনার্স রেখা বনিক স্থানীয় নির্দেশে অঘোষিতভাবে বর্তমানে মেডিকেলের স্টাফ কেবিনের অর্থাৎ ১৮ নং ওয়ার্ড ইনচর্জ। একই সাথে ভারপাপ্ত সুপারভাইজার-এর দায়িত্বও পালন করছেন। কিন্তু তিনি এ সকল দায়িত্ব এড়িয়ে সব সময় সেবা তত্বাবধায়কের কক্ষেই সময় কাটান। নানা অনিয়ম, চাঁদাবাজি, ঘুষবাণিজ্য, নির্যাতন-নিপীড়নে সীমা ছাড়িয়েছেন তিনি। হাসপাতালে যোগদানের পর অদৃশ্য কারণে তিনি সহযোগীদের নিয়ে একটি শক্তিধর ‘চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন রেখা বণিক ।

রোহিঙ্গা, বন্যা, শীতবসস্ত্র, পূজা-অর্চ্চনাসহ বিভিন্ন উপলক্ষ্য ও লটারী দাঁড় করিয়ে নার্সদের চাঁদা দানে বাধ্য করেন তিনি। চাঁদা তুলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। অতিসম্প্রতি বিদ্যাদেবীর (সরস্বতী) পূজোকে কেন্দ্র করে বাণী অর্চ্চনার লটারী বিক্রি করেন স্টাফনার্স রেখা বণিক। র‌্যাফেল ড্র ও দু’একজনকে নামমাত্র পুরস্কার দিয়ে সব টাকা হাতিয়ে নেন। রেখা বনিক কোন সময়ই নেশকালীন ডিউটি করেন না। ডিউটিতে আসা অন্য নার্সরা শারীরিকভাবে তার কাছে নির্যাতিত হয়ে থাকেন। বিশেষ করে মুসলিম নার্সরা হিজাব পরে হাসপাতালে প্রবেশ করে পোষাক বদল করলেও হিজাবের কারণে রেখার হাতে নির্যাতিত হতে হয় তাদের। রেখার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরে কয়েক বার অভিযোগ করা হলে এসকল অভিযোগের কোন তদন্ত হয়নি । যার ফলে দেখা দিয়েছে নার্সদের মধ্যে ভয় ও আতংক।

বিগত দিনে রেখা বনিকের অন্যতম সহযোগী স্টাফনার্স তাহমিনা পারভিন কয়েক লাখ টাকার সরকারী ঔষধ বাইরে পাচার করতে না পেরে নষ্ট করে ফেলেন (যাতে ছিল সরকারী সিল)। যার প্রমাণ রয়েছে খোদ হাসপাতাল পরিচালকের ক্যামেরায় । সীমাহীন দুর্নীতি, চুরি ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে তৎকালীন পরিচালক তাকে শুধু চার্জ নার্স হতে সরিয়ে দেন। সাদিয়া সুলতানা (শুকলা) যার বিরুদ্ধে রয়েছে ওয়ার্ড প্রধান ও রেখা গংকে খুশি করে দীর্ঘ ১৩ বছর চার্জনার্সের দায়িত্ব দখল করে থাকার অভিযোগ। তার রয়েছে কমিশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন ঐষধ কোম্পানীর সাথে ব্যবসা।

হামপাতালের আই.সি.ইউ’তে বেড খালি থাকা সত্ত্বেও মরণাপন্ন রোগীরা বিছানা পান না চার্জ নার্সের সবুজ সংকেত্ ছাড়া। রোগীর পার্টি দিয়ে দামী মূল্যবান যন্ত্রপাতি কিনে আনিয়ে পাচার করেন তার বহুদিনের পার্টনারের ফার্মেসীতে। ডায়ালাইসিস কার্জক্রমে রয়েছে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ। নামমাত্র ডায়ালাইসিসের রোগীরা বড়জোর মাসখানেক বেঁচে থাকেন।দুর্নীতিবাজ নার্স রেখা রানী বনিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি।

সিলেট ওসমানী মেডিকল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফনার্স রেখা বণিকের সুনির্দিষ্ট যে অভিযোগসমূহ রয়েছে তা’হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে অলিখিত (সাদা) কাগজে নার্সদের স্বাক্ষর সংগ্রহ , ইউনিফর্ম বাবদ চাঁদা আদায়,রোহিঙ্গা সহায়তা চেয়ে চাঁদা সংগ্রহ, পুজা, ইফতারীর নামে চাঁদাবাজি, লটারি বানিজ্য,ডিউটি বন্টন বাবদ চাঁদা আদায়, চার্জনার্সদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়, ট্রান্সফার বানিজ্য,দরখাস্ত ফরোয়ার্ড বানিজ, নাইট ডিউটি মাফ বানিজ, ছুটি, সাপ্তাহিক ডে-অফ ইত্যাদি পাইয়ে দেয়ার বানিজ্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কমিশন বানিজ, সাধারণ নার্সদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন উপহার আদায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অফিস অথোরিটিকে ইনফ্লুয়েন্স করা, সাধারন নার্সদের বাহিরের মাস্তান দিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি, ডিউটির নামে শুধু আসা-যাওয়া, ডিউটি ফাঁকি, ভিআইপি ও স্টাফ কেবিন ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের আত্বীয়-স্বজনদের ব্যবহার। ভিআইপি কেবিন অসামাজিকত্য়া ভিআইপি কেবিন ব্যবহার, সরকারী কমিশন বা ইউজার ফি ক্ষেত্রগুলোতে সিন্ডিকেট সদস্যদের নিয়োগ এবং অসৎ সুবিধা পাইয়ে দিতে ও নিতে সহযোগিতা, সিটের অপ্রতুলতা থাকা সত্ত্বেও পূজোর নামে সারাবছর সরকারী হোস্টেলের রুম দখল রাখা।

ইউনিফর্ম কোডের দোহাই তুলে হিজাব পরে আসা-যাওয়ার জন্য মুসলিম নার্সদের নাজেহাল, ওড়না ব্যবহারে অমসুলিম নার্সদের গালিগালাজ ইত্যাদি রেখা বণিকের নৈমিত্তিক কাজ।

রেখা বণিক সিন্ডিকেটের প্রতি রাজনৈতিক হোমড়া-চোমড়ার আশ্রয়-আশীর্বাদের কারণে অনেক ক্ষেত্রে খোদ পারিচালকই অসহায়ত্ব বোধ করে থাকেন । রাজনৈতিক নেতা বা বড়কর্তার ছায়ায় থেকে রেখা বনিক যেন ওসমানীতে প্যারালাল আরেক অথোরিটি । মাঝে তার অপকর্ম ও কুকীর্তির প্রতিবাদ করে দুর্নীতির লাগাম টানতে চেষ্টা করা হলেও বড় হাতের আশীর্বাদ ও ছায়াতলে থেকে বহাল তবিয়তেই আছেন তিনি । প্রতিকার না পেয়ে উল্টো প্রতিবাদকারীই হয়েছেন নির্বাসিত, চলে যেতে হয়েছে ডিও লেটার নিয়ে। তাই রেখা বণিক বর্তমানে চরম বেপরোয়া।

দাপটের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন তার দুস্কর্মের সফল ব্যবসা। আই.সি.ইউ ইনচার্জনার্স শামিমা নাসরিন, প্রাক্তন লেবার ওয়ার্ড ইনচার্জনার্স তাহমিনা পারভিন, গাইনি ১৩ নং ওয়ার্ডনার্স সাদিয়া সুলতানা প্রীতি (শুকলা) সহ চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ নার্সদের নিয়ে রেখা বণিক গড়ে তুলেছেন নতুন সিন্ডিকেট। যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত অভিযোগ।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  • 154
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    154
    Shares