রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট

29 total views, 1 views today

নিউজ ডেক্স:: খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার ঘটনা সরকারের জন্য পলিটিক্যাল ব্লান্ডার ও দেশের রাজনীতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, একটি ভুয়া বানোয়াট অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াকে কারাবরণ করিয়েছেন। সরকার একটি পলিটিক্যাল ব্লান্ডার করতে চাচ্ছে। এটি পলিটিক্যাল ব্লান্ডার অব দ্য পার্ট অব দ্য গভর্নমেন্ট। এর প্রতিক্রিয়া যে ব্যাপক এবং গভীর হবে, সেটা সরকার উপলব্ধি করতে পারেনি। খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাই হবে আমাদের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।

রাজনীতিতে যা গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বদল ঘটাবে। এর প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত ব্যাপক ও গভীর। গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ১১ই ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি দেশের সব জেলায় আইনজীবী সমিতিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, এতদিন সরকার বলে এসেছে বিএনপি নেতারা নাকি হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। এখন আমরা কী দেখলাম, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র দুই কোটি টাকার মামলা দেয়া হয়েছে। অথচ সেই টাকা রাষ্ট্রের টাকা নয় এবং সেই টাকা ব্যাংকে রয়েছে। ওই টাকার সুদ বেড়ে এখন ৬ কোটি টাকা হয়েছে। রায়ের বিষয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়ার শাস্তি দুর্নীতির জন্য হয়নি।

তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে দণ্ডবিধির ১০৯ ও ৪০৯ ধারা অনুযায়ী। সেটা হলো ক্রিমিনাল ব্রিচ অব কন্ট্রাক্ট। করাপশনের চার্জে তার শাস্তি হয়নি, তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে ক্রিমিনাল ব্রিচ অব ট্রাস্টে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা প্রমাণিত না হওয়ায় বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। সরকার যে অপরাধ করেছে তার জবাব দেশের মানুষ আগামী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে দেবে। প্রবীণ এ রাজনীতিক বলেন, একটা পরিত্যক্ত বাড়ি, সেটা কী রকম বাড়ি, আপনারা সেটা বুঝতেই পারছেন। সেখান থেকে কারাগার স্থানান্তর করা হয়েছে কেরানীগঞ্জে। আজকে সে পরিত্যক্ত বাড়িতে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে। জনবিচ্ছিন্ন করার জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে কোনো মানুষজন নেই।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সরকার বলছে, তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তার সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হচ্ছে কারাগারে। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে এখনো ডিভিশন বা প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা পাননি। কিন্তু কারাগারে এখনো তাকে ডিভিশন দেয়া হয়নি। আমরা কারা কর্তৃৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। কর্তৃৃপক্ষ বলছে, ডিভিশন দেয়ার জন্য আদালতের আদেশ ও জেলা প্রশাসকের কোনো নির্দেশনা তারা এখনো পাননি।

ফলে তাকে ডিভিশন দেয়া সম্ভব হয়নি। আমরা সরকারের এই আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তারা যে আদালতের আদেশ ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার কথা বলছেন এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তার জন্য এসবের কোনো প্রয়োজন নেই। অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে তার প্রাপ্ত মর্যাদা দেয়ার দাবি জানান তিনি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবদিন বলেন, এ রায়ের মধ্যদিয়ে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট আবেদ রেজা, কামরুল ইসলাম সজল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, মোহাম্মদ আলী, সুলতান মাহমুদ ও জামিউল হক ফয়সাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •