আল্লাহ্ ব্যবসাকে হালাল ও সূদকে হারাম : মাহফিলে বাধা দেয় তারা মানুষ শয়তান- মাওলনা সাইফুল্লাহ

61 total views, 1 views today

হযরত মাওলনা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ঢাকা বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সূদখোরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষনা হয়েছে” “যারা সূদ খায়, তাদেরকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল ও জ্ঞানশুণ্য করে দিয়েছে।

আমার আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন। সূদখোরী থেকে বিরত থাকবে, ব্যাপারটি আল্লাহর হাতে সোপর্দ। আর যারা এ নির্দেশ পাওয়ার পরও সূদের পুনরাবৃত্তি করবে, তাঁরা নিশ্চিতরূপে জাহান্নামী। যারা ঈমান আনবে, ভালো কাজ করবে, নামায কায়েম করবে, যাকাত দিবে, তাদের প্রতিদান তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে। তাদের জন্য কোন ভয় ও চিন্তার কারন নেই। হে ঈমানদারগণ!

আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের যে সূদ লোকের কাছে পাওনা রয়েছে তা ছেড়ে দাও, যদি প্রকৃতই তোমরা ঈমামদার হয়ে থাকো। যদি তা না করো, তবে জেনে রাখো, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষনা রয়েছে। এখনো যদি তওবা করে সূদ পরিত্যাগ করো, তবে তোমরা মূলধন ফেরত পাবে। না তোমরা জুলুম করবে আর না তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে”তিনি আরও বলেন, আমার আল্লাহ্ মানুষকে আল্লাহ আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।

সে হিসেবে মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে পারে। ফলে মানুষ ভালো কিংবা মন্দ দু’টিই গ্রহণ করতে পারে। এ স্বাধীনতার সুযোগ নিচ্ছে শয়তান। শয়তান কুমন্ত্রণা দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করে। জিন-শয়তান আদিকাল থেকেই মানুষের ক্ষতি করে আসছে। কারণ সে মানুষকে আল্লাহর হুকুম পালনের পথ থেকে সরিয়ে রাখার এবং ধ্বংসের পথে পরিচালনা করার চেষ্টা করে। আর শয়তানের শত্রু মানুষ এ কথা তাৎপর্য হচ্ছে, শয়তানের প্রতি শত্রুতার মনোভাব পোষণ করাই হচ্ছে বিশ্ব মানবতার ঈমানের দাবি। অথচ শয়তান মানুষের চোখের সামনে প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার প্রলোভন এমনভাবে হাজির করে যে মানুষ সেগুলোর দ্বারা প্রতারিত হয়ে তাকে নিজের বন্ধু ভেবে বসে। আর এভাবেই মানুষ শয়তানের কাছে পরাজিত হয় এবং ফেঁসে যায়।

গতকাল আমাদের তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে এসে বাধা করা চেষ্টা করা হয়। কিন্তুক আমার আল্লাহর হুকুমে মাহফিলে শয়তানকারীদের ফেঁসে যায়। তাদের কুমন্ত্রে পুলিশ বুজে ফেলে তাতে কোন লাভ হয়নী। আমাদের সবসময় শয়তানের বিরোধিতা করতে হবে। যে শয়তানের কথা শুনবে সে তার দলভুক্ত হয়ে যাবে। শয়তানের সঙ্গেই তার হাশর হবে। শয়তান সবসময় আমাদের চলার পথে ল্যাং মারার চেষ্টা করে। বিশেষ করে সালাতে, কোরআন তেলাওয়াত করার সময়, রেগে গেলে, সকাল সন্ধ্যায়, নিজগৃহে প্রবেশের সময়, দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে সন্দেহ হলে, স্ত্রী সহবাসের আগে, ঘুমানোর সময় এবং স্বপ্নযোগে শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তিনি আরও বলেন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন শয়তান দুই প্রকার, জ্বিন শয়তান ও মানুষ শয়তান। যারা কোরআনের মাহফিলে বাধা দেয় তারা মানুষ শয়তান। তিনি গত ৩ ফ্রেরুয়ারী রোজ শনিবার রাতে সিলেট নগরীর আখালিয়া নতুন বাজারস্থ বীরেশ চন্দ্র স্কুল মাঠে আল-হাদী খেদমতে কোরআর পরিষদ‘র উদ্যোগে ৫ম বার্ষিক তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে প্রধান অতিথি বক্তব্য উপরুক্ত কথা গুলো বলেন। আল-হাদী খেদমতে কোরআর পরিষদ‘র সভাপতি মাওলান বদরুল বিন আফরুজ‘র সভাপতিত্বে কবি মীম সুফয়ান আলী হোসাইন খান ইমন‘র যৌথ পরিচালনায়,

বিশেষ হিসাসে তাফসীর পেশ করেন, মাওলনা সাহফুজুর রাহমান জারের কুয়াকাটা, মুফতি শাহিদুর রহমান মাহমুদাবাদী, মাওলানা কামাল আনসারী হবিগঞ্জী, মাওলনা আবুযর রেজওয়ান ইমান ও খতিব শাহমীর জামে মসজিদ, মাওলনা মুফতি আতাউর রহমান বাহুবলী। অন্যাদেও মাঝে উপস্থিত ছিলেন, হাজী সেলিম আহমদ, ৮নং ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর মো: ইলিয়াছুর রহমান, সমাজসেবক সিরাজ খান, ফয়জুল হক, সাংবাদিক শাহীন আহমদ, ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া, আল-হাদী খেদমতে কোরআর পরিষদ‘র পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি আব্দুল আহাদ সানী, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন আহমদ চৌধুরী, কোষাদক্ষ্য জাবেদ আহমদ, সহ কোষাদক্ষ্য আবুল হাসনাত বান্না, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আহমদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো: সামছুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক জালাল আহমদ, সহ প্রচার সম্পাদক হাকিম জালাল, সদস্য ফয়সল আহমদ, নজরুল ইসলাম, সাহেদ আহমদ, লায়েক আহমদ, রুমন জালাল, মিলাদ আহমদ, তারেক আহমদ, মুন্না আহমদ, তানিম আহমদ, দেলোয়ার আহমদ, সুয়েব আহমদ, শেষে বিশেষ মোনাজত পরিচালনা করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •