হবিগঞ্জে মাদ্রাসার ছাত্রীর বিয়ে না করায় ক্ষোভে স্বপ্না আত্মহত্যা:প্রেমিক শান্তকে খুঁজছে পুলিশ

39 total views, 1 views today

নিজস্ব প্রতিনিধি:: হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি গ্রামে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রেমিকাকে নিয়ে ফস্টিনস্টি করার পর মাদ্রাসা ছাত্রীকে বিয়ে না করায় স্বপ্না আক্তার কে (১৭) নামের এক কিশোরী ক্ষোভে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার পরের দিন থেকে লম্পট প্রেমিক নয়ন আহমেদ শান্ত (১৮) গা ঢাকা দিয়েছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে ঐ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে বিকেলে সদর থানার ওসি (তদন্ত) ডালিম আহমেদ, এসআই কামাল আহমেদ ও সাহিদ মিয়ার নেতৃত্বে একদল মহিলা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে স্বপ্নার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

স্থানীয়দের কাছে জানা যায়, স্বপ্না আক্তার ঐ গ্রামের রিকশা চালক মতলিব মিয়ার কন্যা সে স্থানীয় দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। স্থানীয়রা জানায়, রিচি অগ্নিকোনা গ্রামের সাবেক মেম্বার স্বপন মিয়ার পুত্র লাখাই সড়কের রিচি এলাকার মার্চেল রিচি শো-রুমের ও পলাশ ইলেক্ট্রনিক্সের ম্যানেজার নয়ন আহমেদ শান্ত’র সাথে মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার সুবাদে পরিচয় হয় স্বপ্না আক্তারের। এক পর্যায়ে শান্ত তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রথমে স্বপ্না প্রত্যাখান করে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন শান্ত এবং স্বপ্নাকে ওই শো রুমে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে স্থানীয় মেম্বার সাজু মিয়ার উপস্থিতিতে এক সালিশ হয়। সালিশে শান্তকে নগদ টাকা জরিমানাসহ স্বপ্নাকে বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে শান্তর অভিভাবকরা শুক্রবার দুইজনের বিয়ে দেয়া হবে বলে শান্তকে নিয়ে যায়। কিন্তু শুক্রবার বিয়ে না করায় ক্ষোভে স্বপ্না তার নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে তীরের সাথে দড়ি দিয়ে পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।

স্বপ্নার এক বোন জানা যায়, স্বপ্না সকালে তাদেরকে বলেছে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। শান্তকে বিয়ে করতে না পারলে এ জীবন রাখবে না। তারা তার বোনের মৃত্যুর বিচার চায়। তার মৃত্যুর খবর শুনে এলাকার শত শত নারী পুরুষ ওই বাড়িতে ছুটে যান।

তবে এ ব্যাপারে ওসি (তদন্ত) ডালিম আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আত্মহত্যা। সুরতহালে রহস্যজনক আলামতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও শান্তকে ধরতে পারলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার পর থেকে শান্ত পালিয়ে গেছে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •