জামাতার চাপে কোমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে মার্কিন সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাইকেল ওলফের লেখা ‘ফায়ার এন্ড ফিউরি : ইনসাইড দি ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ নামের বইটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেট্রাম্প প্রশাসনের ১০০ দিন পার হয়েছে।

কিন্তু ঝামেলার শেষ নেই। ইতিমধ্যে মার্কিন বিচার বিভাগ নির্বাচনে সম্ভাব্য রুশ হস্তক্ষেপ তদন্তে এফবিআই’র প্রধান জেমস কোমিকে দায়িত্ব দিয়েছে। তদন্ত শুরুতেই কোমিকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে মনে করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়ে ও জামাতা। শেষ পর্যন্ত তাদের চাপে এককভাবে কোমিকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

‘ফায়ার এন্ড ফিউরি:ইনসাইড দি ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ বইতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।বইয়ের ‘কোমি’ অধ্যায়ে লেখক মাইকেল ওলফ লিখেছেন, ফক্স নিউজের সাবেক সিইও রজার আইলেস মে মাসের শুরুতে বলেন, ট্রাম্পকে বোঝানো যাচ্ছে না যে তিনি এসব তদন্ত বন্ধ করতে পারবেন না। প্রকৃতপক্ষে বিলিওনেয়ার কেবিনেটের বেশ কয়েকজন সদস্যও সন্ধ্যাকালীন ফোনালাপে প্রেসিডেন্টকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। বিচার বিভাগ ও এফবিআই নিয়ে সমূহ বিপদ নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যে জামাতা জ্যারেড কুশনারের ব্যবসা সংক্রান্ত বেশ কিছু গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিয়ে চীনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সম্প্রতি কুশনারের পরিবার চেষ্টা চালিয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট খবর প্রকাশ করেছে। চিফ স্ট্রাটেজিস্ট স্টিভ ব্যাননের মতে, নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ও অর্থায়নের বিষয়ে এফবিআই ও মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্তে কুশনার ও ইভানকা ট্রাম্প আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উঠতে লাগলো। ইভানকা খুবই ভয় পাচ্ছিলো।

ইতিমধ্যে ট্রাম্প তার কোটিপতি বন্ধুদের বলতে শুরু করেছেন যে, জেমস কোমিকে বরখাস্ত করছেন। যদিও এ রকম কথা ট্রাম্প বহুবারই বলেছেন। এর আগে তিনি বলেছেন, আমার কি ব্যাননকে বরখাস্ত করা উচিত? রিন্সকে, ম্যাকমাস্টারকে, স্পাইসারকে, টিলারসনকে বরখাস্ত করার ব্যাপারে আগেও অনেকবার বলেছেন। এটা অনেকটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল ট্রাম্পের জন্য। কিন্তু মেয়ে ইভানকা ও জামাই ট্রাম্পকে বোঝাচ্ছে যে, এক সময়ের আকর্ষণীয় কোমি এখন বিপজ্জনক এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যক্তি। যার লাভ তাদের জন্য ক্ষতির হবে। পরিবারের সদস্যরা জোর দিয়ে বলছে যে, তাদের ক্ষতি করার মাধ্যমে কোমি’র উত্থান হবে। যে কারণে কোমিকে বরখাস্ত করার আলোচনা জোরেশোরে শুরু হয়েছে।

আইলেস শেষ পর্যন্ত বলেই ফেললেন. ওই কুকুরের বাচ্চা এফবিআই প্রধানকে বরখাস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। মে’র প্রথম সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট টাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স ও তার ডেপুটি রড রোজেনস্টেইনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করলেন। কোমিকে বরখাস্ত করার কারণ খুঁজে বের করতে তাদের চাপ দেওয়া হলো। এর বাইরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জামাতা, মেয়ে, ব্যানন, প্রিবাস এবং হোয়াইট হাউসের কাউন্সেল ডন ম্যাকগাহনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এগুলো ছিল রুদ্ধদ্বার বৈঠক।

কোমিকে বরখাস্ত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বললেন, ডেমোক্র্যাটরা কোমিকে ঘৃণা করে। এফবিআই’র সব এজেন্ট তাকে ঘৃণা করে। ৭৫ শতাংশ এজেন্টই তার পাশে দাঁড়াবে না (যদিও এসব তথ্য জামাতা কুশনারের দেওয়া)। এছাড়া কোমিকে বরখাস্ত হবে তহবিল সংগ্রহের জন্য সহায়ক। ম্যাকগাহন বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে, কোমি নিজে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিষয়ে তদন্ত করছেন না। তিনি না থাকলেও তদন্ত অব্যাহত থাকবে। কিন্তু এসবে কান দিলেন না ট্রাম্প। বরং তিনি বললেন, কোমি একটা ইদুর। সব জায়গায় ইদুররা আছে। এদের থেকে মুক্তি পেতে হবে। ট্রাম্পের মতে, ইদুর হলো এমন কেউ যে নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে টেনে নামাবে। এই রকম ইদুর মেরে ফেলা জরুরি।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •