কাকে চাচ্ছে বাংলাদেশ? শ্রীলঙ্কা, না জিম্বাবুয়ে!

স্পোর্টস ডেস্ক:: কাকে বেছে নেবে বাংলাদেশ? শ্রীলঙ্কা, না জিম্বাবুয়ে!এ রকম প্রশ্ন শুনলে মনে হতেই পারে, প্রতিপক্ষ বাছাইয়ের কাজটা বুঝি খুব সহজ।

বাংলাদেশ চাইলেই আজ শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে তুলে আনতে পারে জিম্বাবুয়েকে। অথবা শ্রীলঙ্কার কাছে ইচ্ছে করে হেরে, সেটি না হলে অন্তত কম ব্যবধানে জিতে পরশুর ফাইনালেও রাখতে পারে তাদেরই।

কিন্তু কিছু কালো অধ্যায় বাদ দিলে ক্রিকেট খেলাটাই তো সে রকম নয়! বলাই আছে এই খেলাটি চরম অনিশ্চয়তার। একটা দল নাটাই হাতে পুরো বিকেল নির্বিঘ্নে ঘুড়ি উড়িয়ে চলে আসবে, অন্য কোনো ঘুড়ির ধারালো সুতো তাকে কাটবে না—এমন নিশ্চিত আকাশ ক্রিকেটের নয়। গত তিন ম্যাচের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী বাংলাদেশকেও আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম ছাড়তে হতে পারে মাথা নত করে। তবে এই দুই দলই যদি শেষ পর্যন্ত ফাইনাল খেলে, আজকের ম্যাচটা হতে পারে সেই ফাইনালের মহড়া।

শ্রীলঙ্কার সামর্থ্যকে বাংলাদেশও স্বীকার করে। গত ডিসেম্বরে ভারতে সিরিজ হারলেও একটি ম্যাচ যে দলটা জিতেছিলও, সেটি তো মাথা থেকে যাচ্ছেই না মাশরাফি বিন মুর্তজার। গত ১৮টি ওয়ানডেতে পাওয়া তাদের মাত্র দুটি জয়ের মধ্যে ওই প্রথমটি নিজেদের জন্য আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ম্যাচেও বাংলাদেশ অধিনায়ককে করে দিচ্ছে সতর্ক, ‘শ্রীলঙ্কা ওদের দিনে বিপজ্জনক। দুই দলের মধ্যে পার্থক্য করতে বললে অভিজ্ঞতার দিক থেকে শ্রীলঙ্কাই জিম্বাবুয়ের চেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হবে।’

ছুটির দিনের অলস দুপুরে মাশরাফি কথাগুলো বললেন সোনারগাঁও হোটেলের পুলপাড়ে বসে। তার একটু আগে দ্রুত পায়ে হোটেল থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন পেসার রুবেল হোসেন। কোনো এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করবেন। বের হওয়ার আগে তাঁর কণ্ঠেও শ্রীলঙ্কার প্রশংসা, ‘আমরা তো শুরু থেকেই ধরে নিয়েছি শ্রীলঙ্কা ফাইনাল খেলবে। সেভাবেই আমাদের সব প্রস্তুতি। জিম্বাবুয়ের চেয়ে ওরা ভালো দল।’

সুতরাং আজকের ম্যাচ বাংলাদেশের কাছে ফাইনালের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ফাইনালে সহজ প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকে পেতে শ্রীলঙ্কাকে একটু বড় ব্যবধানেই হারাতে হবে। ধরুন বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করে ২৫০ থেকে ৩০০ করল। তাহলে ৬৯ বা তার চেয়ে বেশি রানের ব্যবধানে জিতলেই বাদ পড়ে যাবে শ্রীলঙ্কা। ফাইনালে উঠবে জিম্বাবুয়ে। এ রকম আরও কিছু সমীকরণেও জিম্বাবুয়ের ফাইনালে ওঠার ‘কমন’ শর্ত—শ্রীলঙ্কাকে হারতে হবে বড় ব্যবধানে। সে রকম কিছুর আশাতেই আজকের ম্যাচটির দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে তারা।

কিন্তু লঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল সে রকম ভাববেন কেন! ঘরের মাঠের বাংলাদেশ যে এখন সাহসী বাঘ, সেটি তিনি জানেন। মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহদের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ যে এখন সব দলের জন্যই কঠিন প্রতিপক্ষ, সেটিও তিনি মানেন। তবু শেষ কথা—তালগাছ, মানে জয়টা আজ তাদেরই চাই। হতে পারে বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে। তবু মিরপুরের সংবাদ সম্মেলনে কাল খুঁজে পাওয়া গেল আত্মবিশ্বাসী চান্ডিমালকে, ‘জয়ই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যেকোনো দলের সঙ্গেই আমরা জিততে পারি। এ কথা আগেও বলেছি।’

দুপুরে মাঠে যাওয়ার আগে বেশ খানিকটা সময় হোটেল লবিতে ঘোরাঘুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার কোচ, ক্রিকেটাররা। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ফুরফুরে ভাব দেখে বোঝারই উপায় ছিল না তিনি কোনো দুশ্চিন্তায় আছেন। হয়তো দুশ্চিন্তায় নেই-ও। ঢাকায় এবার তাঁর কাছাকাছি থাকাদের কাছ থেকে নতুন করে জানা গেল, এই কোচ অনেকটা রোবট ধরনের। আবেগ জিনিসটাই নেই। আর সারা দিন কাজ করেন।

মাঝে মাঝে রসিকতাও করেন অবশ্য। কাল যেমন লবির সোফায় বসে থাকা নিজের খেলোয়াড়দের দেখিয়ে পরিচিত এক বাংলাদেশি বললেন, ‘কাল (আজ) যদি ওরা (শ্রীলঙ্কা) জেতে তাহলে ফাইনালটা খুব মজার হবে।’ সাবেক কোচের এমন মন্তব্য কানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ দলের এক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার যেন অদৃশ্য হাথুরুকেই শোনাতে চাইলেন জবাবটা, ‘ও, তার মানে কালকের (আজ) ম্যাচটা মজার হবে বলে তিনি মনে করছেন না!’

রকেট সিরিজের সবচেয়ে বড় ‘মজা’টা এখানেই। ফাইনালের আগে ‘শ্রীলঙ্কা, না জিম্বাবুয়ে’ প্রশ্নটা যে রকম এল, তেমনি সিরিজের শুরু থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ মানেই প্রশ্ন—ম্যাচটা শ্রীলঙ্কা না হাথুরুসিংহের সঙ্গে?

প্রশ্নটা ধাঁধা হয়ে থাকবে আজও। তবে একটি প্রশ্নের উত্তর তো খুঁজে পেতেই হবে। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, না জিম্বাবুয়ে?

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •