সুরমা তীরে ক্রাশার মেশিন চালানোর ফলে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত, দিশেহারা ৪টি গ্রাম

97 total views, 1 views today

প্রতিদিনই নদী ভাঙ্গনের ভয়াবহ দৃশ্যে হতবাক হয়ে আছেন গ্রামবাসী। সেই সাথে অসহায় দরিদ্র পরিবারের করুন আর্তনাদে বিস্মিত হয়ে আছে পুরো এলাকাজুড়ে। সুরমা নদী তীরে বিভিন্ন জায়াগা থেকে কার্গ দিয়ে বড় বড় পাথর নিয়ে এসে এই তীরে ভাঙ্গনের ফলে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাননি ৪-৫ গ্রামের লোকজন।

প্রতিদিন সুরমা নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। নদীর পাশে থাকা অধিকাংশ ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। একদিকে যেমন নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ছে, অন্যদিকে এলাকাবাসীর আর্তনাদে সুরমা তীরের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। সুরমা নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় নদীর সাথে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।

পাথর খেকোরা মিলে সুরমা নদী তীরে ক্রাশার মেশিন চালানোর ফলে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়িসহ মুক্তির চকের কবরস্থান ঝুঁকির মুখে। ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মিরের চক, মুক্তির চক, কসবা, কইটুক ও হাজী বোরহান উদ্দিন রোডে সুরমা নদীর তীরবর্তী বাড়িগুলোর প্রায় শতাধিক ফুট জায়গা নদীর সাথে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সুরমা নদীর তীরবর্তী এই সড়কটি গাছবাড়ী বাজার কানাইঘাট যাতায়াতের সড়ক।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মিরের চক, মুক্তির চক, কসবা, কইটুক ও হাজী বোরহান উদ্দিন, গাছবাড়ী বাজার কানাইঘাট যাতায়াতের সড়ক নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পাথর খেকোরা মিলে সুরমা নদী পথে পাথর নিয়ে এসে ক্রাশার মেশিন দিয়ে তীর ভাঙ্গার ফলে তীরবর্তী বসতবাড়িসহ রাস্তাঘাট ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। ইতোমধ্যে রাস্তা ও বাড়ির অধিকাংশই জায়গা ভেঙ্গে গেছে।

মিরের চক, মুক্তির চক, কসবা, কইটুক ও হাজী বোরহান উদ্দিন রোডের পাশে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ গুলজার মিয়ার বাড়ি, তিনকন মিয়ার বাড়ি, আবদুস সালাম মিয়ার বাড়ি, চুনু মিয়ার বাড়ি, সিরাজ মিয়ার বাড়ি, কাদির মিয়ার বাড়ি, আব্দুল মুতলিব মিয়ার বাড়ি, বাশির মিয়ার বাড়ি, হেলাল মিয়ার বাড়ি, মানিক মিয়ার বাড়ি, খালেদ মিয়ার বাড়ি, ফিরুজ মিয়ার বাড়ি, কুদরত মিয়ার বাড়ি, ফিয়ারুক মিয়ার বাড়ি, আখলাছ মিয়ার বাড়ি, কালাম মিয়ার বাড়ি, আমির মিয়ার বাড়িসহ মুক্তির চকের কবরস্থান সহ প্রত্যেকেরই অধিকাংশ জায়গা সুরমার তীরে হারিয়ে গেছে।

গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কদিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত। প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজের ছাত্র/ছাত্রীগন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে শত শত যানবাহন ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করে আসছিল। এছাড়া প্রতিদিনই ভাঙ্গনের ভয়াবহ দৃশ্য হতবাক করে দিয়েছে এলাকার মানুষদের। সেই সাথে অসহায় দরিদ্র পরিবারের করুন আর্তনাদে বিস্মিত করে তুলেছে জনসাধারণকে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মিরের চক, মুক্তির চক, কসবা, কইটুক ও হাজী বোরহান উদ্দিন রোডসহ মুক্তির চকের কবরস্থানের অধিকাংশ জায়গাই সুরমা নদীর ভাঙ্গনে বিলীনের পথে। ৮-১০ টি মেশিন লাগিয়ে প্রতিদিন নদী থেকে পাথর উত্তোলণ ও পাথর ভাঙ্গার ফলে নদীর তীরবর্তী স্থানীয় বসতবাড়িসহ কবরস্থান দিন দিন বিলীন হতে চলেছে। স্থানীয় প্রত্যেকটি বসতবাড়ির শতাধিক ফুট করে জায়গা নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে। সুরমার এ ভাঙ্গন এখনো অব্যাহত রয়েছে।

নদী ভাঙ্গনে কবলিত স্থানীয় বাসিন্দা মুতলিব মিয়া জানান, সুরমা নদীর এই ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো জায়গায় ভেঙ্গে নদী গর্ভে মিশে যাচ্ছে। গত ৩-৪ মাস থেকে নদী ভাঙ্গন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ লোকের বাড়ির অধিকাংশ জায়গা নদীর সাথে হারিয়ে গেছে। এই ৫-৭ টি গ্রামের মানুষের মাত্র একটিই রাস্তা, তাও এখন ঝুঁকির মুখে চলতে বসেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ভাঙ্গনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।স্থানীয় বাসিন্দা আখলাছ মিয়া জানান, আমাদের এই গ্রামগুলো অর্থমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা, তারপরও গ্রামের মানুষদের এই দূরবস্থা। নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আমাদের সব শ্যাষ হয়ে যাচ্ছে। এই ৫-৭ টি গ্রামের মানুষের এখন প্রতিদিন নদী ভাঙ্গন ছাড়া আর দেখার কিছুই নাই। আমাদের সবকিছুই নদীর সাথে মিশে যাচ্ছে। বাড়ির উঠোন পর্যন্ত ভাঙ্গা শুরু করে দিয়েছে।

নদী ভাঙ্গনের কবলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামের এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করেন। বিষয়টি আমরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করেছি। কিন্তু কোনো কাজে আসছে না। সুরমা নদীর ভাঙ্গন দিন দিন বেড়েই চলছে। আমাদের বাড়িঘরসহ শতাধিক ফুট জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই ভাঙ্গন রোধ না করলে এলাকার জনসাধারন চরম দুর্ভোগে পড়ার আশংকা রয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙ্গনের ভয়াবহ দৃশ্য হতবাক করে দিয়েছে। সেই সাথে অসহায় দরিদ্র পরিবারের করুন আর্তনাদে বিস্মিত করে সুরমার আকাশ-বাতাস। অবিলম্বে ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকাবাসী।
খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার দেলোয়ার হোসেন জানান, এই এলাকা গুলো চেয়ারম্যন মহোদয়সহ আমরা পরিদর্শন করেছি। নদীর তীরবর্তী হওয়ায় অধিকাংশ ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে গেছে কিন্তু এই ভাঙ্গন রোধ করতে যে পরিমান অর্থের প্রয়োজন তা আমাদের বাজেটর মধ্যে নেই। আমরা উপর মহলে কথা বলে দেখি কি করা যায়।

৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আফছর আহমদ সুরমা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো ভাঙ্গন রোধে জানান, মাত্র কয়েক মাসে সুরমা নদীর ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে ৪-৫টি গ্রাম। এই কয়েক মাসের মধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে প্রায় শতাধিক বাড়িঘর। বর্তমানেও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে মিরের চক, মুক্তির চক, কসবা, কইটুক ও হাজী বোরহান উদ্দিন রোডের পাশে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ গুলজার মিয়ার বাড়ি, তিনকন মিয়ার বাড়ি, আবদুস সালাম মিয়ার বাড়ি, চুনু মিয়ার বাড়ি, সিরাজ মিয়ার বাড়ি, কাদির মিয়ার বাড়ি, আব্দুল মুতলিব মিয়ার বাড়ি, বাশির মিয়ার বাড়ি, হেলাল মিয়ার বাড়ি, মানিক মিয়ার বাড়ি, খালেদ মিয়ার বাড়ি, ফিরুজ মিয়ার বাড়ি, কুদরত মিয়ার বাড়ি, ফিয়ারুক মিয়ার বাড়ি, আখলাছ মিয়ার বাড়ি, কালাম মিয়ার বাড়ি, আমির মিয়ার বাড়িসহ মুক্তির চকের কবরস্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেশকয়েকটি স্থাপনা।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মিরের চক, মুক্তির চক, কসবা, কইটুক ও হাজী বোরহান উদ্দিন রোডে সুরমা নদীর ভাঙ্গনের ব্যাপারে কেউ আমাকে অবগত করেন নি কিংবা আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসে নি। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গ্রামবাসী একত্রে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবরে এই ভাঙ্গন রোধে ডিউ লেটার দেওয়ার জন্য।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares