সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, দুর্ভোগে ২০ গ্রামের হাজারো মানুষ

60 total views, 1 views today

নিউজ ডেক্স::  গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকার রামডাকুয়া ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ার তিন বছরেও মেরামত হয়নি। সাঁকো দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে চরাঞ্চলসহ ২০ গ্রামের হাজারো মানুষ। ব্রীজের পাশেই একটি বাঁশের সাঁকো এখন তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা। তাও আবার অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় ইজারাদারদেরকে। আর উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন ‘পরিকল্পনাপত্রটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি অর্থ বছরে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে ব্রীজটি নির্মাণ শুরু করা হবে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকার রামডাকুয়া-শ্যামরায় পাঠ সড়কের তিস্তা শাখা নদীর ওপর ২০১২ সালে ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৫ সালের বন্যায় ব্রীজ সম্পূর্ণরুপে ভেঙে যায়। বন্যার সময় নৌকা এবং শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে উপজেলার বেলকা, তারাপুর, হরিপুর ও কশিমবাজার ইউনিয়নের মানুষসহ চরাঞ্চলবাসী অতিকষ্টে যাতায়াত করেন।

সাবেক এমপি কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল কাদের খাঁন ২০০৯ সালে নিজ অর্থে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করে ব্রীজটি নির্মাণ করেন। অপরিকল্পিতভাবে ব্রীজটি নির্মাণ করার ফলে কয়েক বছর না যেতেই বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যায়। এ সুযোগে স্থানীয় কয়েকজন জেলা পরিষদ থেকে ঘাটটি ইজারা নেন। ব্রীজের পাশেই একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে মানুষ পারাপারে জনপ্রতি নেয়া হচ্ছে ৫ থেকে ৮ টাকা। এ নিয়ে প্রায়ই ঘটছে বাকবিতন্ডার ঘটনাও। ব্রীজটি মেরামতে সরকারি কর্তৃপক্ষের নানা আশ্বাস মিললেও কার্যকরী পদক্ষেপ নেই।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা গ্রামের তাহাজুল ইসলাম বলেন, সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার তিন বছর অতিবাহিত হলেও তা নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন হাটুপানি পাড়ি দিয়ে স্কুল ও কলেজেগামী শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। হরিপুর এলাকার কৃষক আজিজুল হক জানান, আমাদের চরাঞ্চলে উৎপাদিত ফসলাদি উপজেলা শহরে নিয়ে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বাঁশের সাকো দিয়ে পার হতে ১৫ টাকা দিতে হচ্ছে ইজারাদারকে। তারাপুর গ্রামের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী সেলিনা আক্তার জানান, স্কুলে যাওয়ার সময় জামা-কাপড়সহ বই ভিজে যায়। ভাঙ্গাচোরা বাঁশের সাকো দিয়ে পার হতে গিয়ে হাত-পায়ে ব্যাথা পাওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের অসুবিধায় পড়তে হয় আমাদের।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল মনছুর জানান, ‘ব্রীজটি নির্মাণের জন্য এর আগে দুই বার বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর আবারও নতুন করে ব্রীজ নির্মাণের তথ্য চেয়ে আবেদনপত্র চায়। পরে গত বছরের নভেম্বর মাসে ব্রীজ নির্মাণের জন্য প্রাথমিক তথ্য ছক (পরিকল্পনাপত্র) সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনাপত্র অনুযায়ী এলজিইডির একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শনও করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিকল্পনাপত্রটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি অর্থ বছরে অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ব্রীজটি নির্মাণ শুরু করা হবে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •