দেড় বছর আগে কাজ শেষ : আজও আলোর মুখ দেখেনি ”সিলেট চিড়িয়াখানা”

150 total views, 1 views today

নিউজ ডেক্স:: সিলেটে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা উদ্বোধন আটকে আছে জনবল সংকটের সমাধান না হওয়ায় । নগরীর টিলাগড় ইকো পার্ক এলাকায় চিড়িয়াখানা করার লক্ষ্যে প্রায় দেড় বছর আগে নির্মান কাজ শেষ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের জুন মাসে তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। কিন্তু সঠিক সময়ে নির্মান কাজ সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রশিক্ষিত জনবল ও বন্যপ্রাণীদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারসহ মোট ২৭ জন স্টাফ প্রয়োজন। যার চাহিদাপত্রও একাধিকবার পাঠানো হয়েছে সংশ্লিট মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু চাহিদানুযায়ী চিকিৎসক এবং স্টাফ না থাকায় চিড়িয়াখানাটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করতে বিলম্ব হচ্ছে।

তবে সবকিছু সমাধান করে সীমিত জনবল ও সীমিত পরিসর নিয়েই দু’এক মাসের মধ্যেই উদ্বোধন হবে বলে আশাবাদী সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আরএসএম মুনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানার সকল কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। বর্তমানে অর্থমন্ত্রণালয়ে টেন্ডারিংয়ের ভিত্তিতে অল্পসংখক লোকজন নিয়ে সীমিত পরিসরে চিড়িয়াখানার কার্যাক্রম শুরু হবে। চিড়িয়াখানার জন্য বন্যপ্রাণীও কেনা হয়েছে যা এখন গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে রাখা হয়েছে। চালু হলে এগুলো এখানে আনা হবে। তবে চিকিৎসক সংকট থাকায় প্রথম অবস্থায় চিড়িয়াখানাটিতে বাঘ, ভালুক এবং জেবরা রাখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, টিলাবহুল এলাকায় এ চিড়িয়াখানা ঢাকা ও রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে সিলেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখেই দেশের তৃতীয় চিড়িয়াখানা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথমে ৮ একর জায়গায় নিলেও পরবর্তীকালে ৩০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ভূমিতে সম্প্রসারিত হবে।

২০১২ সালের ৩ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভায় সিলেটে তৃতীয় সরকারি বৃহত্তম চিড়িয়াখানা নির্মানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয় ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। চিড়িয়াখানাটি নির্মানের জন্য বেছে নেওয়া হয় একশ ১২ একর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত নগরীর টিলাগড়ের ইকোপার্ক।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে টিলাগড় ইকোপার্ক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চিড়িয়াখানার প্রাণীদের জন্য সকল শেড তৈরিসহ সকল কাজ শেষ হয়েছে। উঁচু নিঁচু টিলার উপর এবং টিলার পাশ ঘেষে রয়েছে ময়ুর শেড, হরিণের শেড, হাতির শেড, পাখির শেড, গন্ডার শেডসহ মোট ১১টি শেড। এসবে থাকা ও উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে পুনর্বাসনকেন্দ্র ও হাসপাতাল।

তবে, দেখা গেছে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে অনেকগুলো শেডে মরিচাসহ উদ্ভিদ জাতীয় লতাপাতায় ঘিরে রয়েছে অধিকাংশ শেড। এব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মুনিরুল ইসলাম বলেন, চিড়িয়াখানা চালু হলে আর এ অবস্থা থাকবে না। রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সবগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হবে।

টিলাগড় ইকোপার্কে ঘুরতে আসা কয়েকজন জানান, ইকো পার্কে সবসময়ই মানুষ ঘুরাফেরা করেন। টিলাবেষ্টিত সুন্দর পরিবেশ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার পরিজন নিয়েও মানুষ বেড়াতে আসেন এই পার্কে। পার্কের ভেতরে চিড়িয়াখানা চালু হলে পরিবেশের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি পর্যটকদেরও নজর কাড়বে।
টিলাগড় ইকোপার্কের বিট কর্মকর্তা চয়ন ব্রত চৌধুরী এবং স্টাফ সৈয়দ বাদল হোসেন শিপন জানান, চিড়িয়াখানার কাজ শেষ হয়েছে। এখন উদ্বোধন হলে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য একটি বিনোদনস্থল হয়ে উঠবে এটি। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু হলে বিনোদনপ্রেমী মানুষের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে গোঠা পার্ক এলাকা।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •