কানাইঘাট লোভছড়ায় ১৫টি লিস্টার মেশিন ধ্বংস

73 total views, 1 views today

নিজস্ব প্রতিনিধি:: মানব নামের দানবের হাতে কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লোভাছড়া পাথর কোয়ারী আজ ক্ষতবিক্ষত। পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটিয়ে পুকুরের মত গর্ত করে প্রতিদিন হাজার হাজার ফুট পাথর উত্তোলন করছেন তারা। শুধু নদী নয় সীমান্তবর্তী এলাকাটিও পাথর খেকোদের হিংস্র থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

বিশেষ করে বড়গ্রাম, সাউদগ্রাম, ভাল্লুকমারা ও সতিপুরে অস্তিত্ব বিলীনের পথে। তাদের পাথর লুলুপ দৃষ্টিতে নদী আর বাড়িঘরের কোন চিহ্ন নেই। চোখ যে দিকে যায় শুধু গর্ত আর গর্ত। এমতাবস্থায় সেখানকার পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মধ্যে রয়েছে।

গতকাল বুধবার লোভাছড়ায় অভিযান চালিয়ে ১৫টি লিস্টার মেশিন ধ্বংস করা হয়। বেলা ১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাথর খেকোদের হিংস্র থাবার শিকার লোভাছড়ার বড়গ্রাম, সাউদগ্রাম, তেরহালি, সতিপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

কিন্তু অভিযানের টের পেয়ে চতুর পাথর খেকোরা পুর্বে থেকে দামী মেশিনগুলো সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারণ লোভাছড়ার প্রতিটি অভিযানের খবর পুর্বে থেকে কিভাবে পাথর ব্যবসায়ীরা জেনে যায় এমন প্রশ্ন তাদের। তবে যে সব ব্যবসায়ীরা ইজারা শর্ত অমান্য করে পাথর উত্তোলন করছেন তাদের নামের তালিকা সংগ্রহ করে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য কানাইঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুনু মিয়াকে নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

কোয়ারীতে অভিযানকালে নির্বাহী কর্মকর্তা জানান কোয়ারী এলাকায় প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা ইজারা শর্ত লঙ্ঘন করে পরিবেশের ক্ষতি করে পাথর উত্তোলন করছেন তাদের নামের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ সব পাথরখেকো ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। কোয়ারী এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি তিনি সচেতন মহলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি লুসি কান্ত হাজং, থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুনু মিয়া, সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার শহিদুল ইসলাম, লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মামুন রশিদসহ উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •